স্বাধীনতা কি শুধু ইতিহাস, নাকি দায়িত্ব?
সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
স্বাধীনতা কি শুধু ইতিহাস, নাকি দায়িত্ব?
রহমান মুকুল: ২৬ মার্চ। আলমডাঙ্গার আকাশে লাল-সবুজ পতাকা দুলবে। বাতাসে ভাসবে জাতীয় সংগীতের সুর। স্কুলের শিশুরা সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে, চোখে উজ্জ্বলতা, গলায় স্বাধীনতার গান। মনে হয়, আজ যেন পুরো দেশটা এক মুহূর্তে গর্বে জেগে উঠেছে।
কিন্তু এই গর্বের ভেতরেই ধীরে ধীরে মিশে থাকবে যথারীতি এক অনুচ্চার প্রশ্ন—এই স্বাধীনতা কি শুধু স্মৃতির পাতায় লেখা একটি ইতিহাস, নাকি প্রতিদিনের জীবনে বহন করার একটি দায়িত্ব?
আলমডাঙ্গার পাঁচলিয়া গ্রামের কৃষক তোতা ভোরে মাঠে যান। তিনি পতাকা দেখেন, কিন্তু তার চিন্তা জমির ফসল নিয়ে। সার, বীজ, বাজারদর, বোরো ধানক্ষেতে পর্যাপ্ত সেচ দিতে পারছেন না জ্বালানি তেল সংকট —এই সবই তার জীবনের স্বাধীনতার মানদণ্ড। তার কাছে স্বাধীনতা মানে কথা নয়, বাস্তবতা। পরিশ্রমের ন্যায্য মূল্য না পেলে এই স্বাধীনতা তার কাছে অসম্পূর্ণ মনে হয়।
শহরের রাস্তায় ভ্যানচালক সনাতন বৈষ্ণব ঘাম ঝরিয়ে চলেন। স্বাধীনতা দিবস তার জন্য কোনো ছুটি নয়। জীবন থেমে থাকে না। প্রতিটি প্যাডেল ঘোরানোই তার লড়াই। যতক্ষণ সুস্থ, ততোক্ষণ বেঁচে থাকা, যতক্ষণ প্যাডেল চলবে, ততক্ষণ জীবনের শ্বাসপ্রশ্বাস চলবে। তিনি হয়তো ভাষায় বলেন না, কিন্তু তার জীবনই বলে দেয়—স্বাধীনতা মানে শুধু উদযাপন নয়, বেঁচে থাকার সংগ্রামও।
স্কুলের প্রাঙ্গণে শিশুদের কণ্ঠে যখন জাতীয় সংগীত “আমার সোনার বাংলা” বাজে, তখন এক মুহূর্তের জন্য সবকিছু সুন্দর মনে হয়। কিন্তু সেই স্বপ্নের পাশে দাঁড়িয়ে থাকে বাস্তবতা—অনেক স্কুলে এখনও অভাব, অনেক শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষা এখনো অসম্পূর্ণ, অমসৃণ পথ। স্বাধীনতার আলো সেখানে পৌঁছলেও তা কি পূর্ণভাবে জ্বলছে?
বাজারে স্বাধীনতা দিবস মানে ব্যানার, মাইক আর কিছু আনুষ্ঠানিক আয়োজন। উপজেলা পরিষদ চত্বরে কুচকাওয়াজ। মানুষ ছবি তোলে, বক্তব্য শোনে, তারপর আবার ফিরে যায় জীবনের ব্যস্ততায়।
অন্ধ শিল্পী রেজাউল আদম ব্যবসায়ীর প্রতারণায় বাস্তুভিটা হারিয়ে, জঠর যন্ত্রনায় ছটফট করেন। তার কাছে স্বাধীনতা " নাথিং উইথ নাথিং।"
মরণব্যাধিতে ধুকে ধুকে প্রতিদিন মরছেন ছকিরদ্দীন। তার কাছে স্বাধীনতার স্বাদ বিস্বাদে ভরপুর, মৌলিক অধিকার -- সেতো উপকথা।
প্রশ্ন থেকে যায়—স্বাধীনতার এই আয়োজন কি কেবল এক দিনের জন্য, নাকি হৃদয়ে কোনো পরিবর্তন আনে?
মুক্তিযোদ্ধাদের চোখে এই দিনটি সবচেয়ে গভীর। তাদের স্মৃতিতে রক্ত, আগুন, হারানোর বেদনা। কিন্তু আজকের বাস্তবতায় অনেকেই বার্ধক্যের কষ্টে দিন কাটান। সম্মান আছে, কিন্তু সেই সম্মানের সঙ্গে জীবনের স্বস্তি কি যুক্ত হয়েছে?
সূর্য যখন পশ্চিমে হেলে পড়ে, আলমডাঙ্গার আকাশে পতাকা ধীরে ধীরে নেমে আসে। উৎসবের শব্দ কমে যায়, ভিড় ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু মানুষের মনে থেকে যায় এক অদৃশ্য প্রশ্ন—আমরা কি স্বাধীনতাকে শুধু স্মরণ করছি, নাকি তাকে জীবনে ধারণ করছি? স্বাধীনতা কি শুধু ইতিহাস, যা বছরে একদিন মনে করি?
নাকি এটি এমন এক দায়িত্ব যা প্রতিদিন আমাদের আচরণে, ন্যায়বোধে, মানবিকতায় বেঁচে থাকে?
কারণ স্বাধীনতার আবেদন শেষ হয় না কোনো বক্তৃতায়, কোনো উৎসবে।
এটি শুরু হয় মানুষের প্রতিদিনের ন্যায্যতা, দায়িত্ব আর মানবিক আচরণে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
দামুড়হুদার জুড়ানপুরে আল মাসুম বাবুর বিশাল মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা, জনজোয়ারে মুগ্ধ প্রার্থী
১৫ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে মাদক ও চুরি মামলা এবং গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত ৮ জন গ্রেফতার
১৮ ঘন্টা আগে
দামুড়হুদায় সাড়ে ১৮ কেজি গাঁজাসহ নারী আটক
১৯ ঘন্টা আগে