সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
ইরানের অর্থনীতি স্তব্ধ করতে ট্রাম্পের কঠোর অঙ্গীকার | রাজনৈতিক চাপে কি অনড় থাকবেন?
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে এক নতুন ও চরম অর্থনৈতিক যুদ্ধকৌশলের ঘোষণা দিয়েছেন, যা দেশটির অর্থনীতিকে পঙ্গু করার হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে প্রশ্ন উঠেছে, রাজনৈতিক চাপ ও ক্রমবর্ধমান ব্যয় বৃদ্ধির মুখে তিনি তার এই কঠোর অবস্থানে শেষ পর্যন্ত কতটা অবিচল থাকতে পারবেন?
গত বুধবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প যেকোনো দেশের বিরুদ্ধে এযাবৎকালের সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। যদিও এটি ট্রাম্পের প্রথম এমন কড়া অঙ্গীকার নয়; এর আগেও তিনি বিভিন্ন সময় কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়ে শেষ পর্যন্ত সেই অবস্থানে অনড় থাকতে পারেননি। তাই বর্তমান সিদ্ধান্তটি তিনি কতদিন ধরে রাখতে পারেন, তা নিয়েই চলছে জল্পনা-কল্পনা।
বিশ্লেষকদের ধারণা, বোমা হামলা চালিয়ে ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে অথবা সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে পারমাণবিক আলোচনায় বসতে ব্যর্থ হওয়ার পর ট্রাম্পের এই নতুন অর্থনৈতিক কৌশল মূলত তার মুখ রক্ষার একটি প্রচেষ্টা। ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্রদের জানানো হয়েছে যে, ইরানের সাথে সব ধরনের আলোচনা বন্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি ইরানকে সম্পূর্ণ নতি স্বীকারে বাধ্য করতে একটি দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক যুদ্ধের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।
এক বিবৃতিতে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, যেসব আর্থিক বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বিমানবন্দর অথবা সরকারি সংস্থা ইরানকে কোনো ধরনের সুবিধা প্রদান করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও দ্রুত তেল চোরাচালান, অর্থ পাচার, ভুয়া কোম্পানি এবং জাহাজের নিবন্ধনের মতো সকল অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করার আহ্বান জানান।
ইসরাইল ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্সের গবেষণা ও বিশ্লেষণ বিভাগের সাবেক ইরান বিষয়ক প্রধান ড্যানিয়েল সিট্রিনোভিচ জোর দিয়ে বলেছেন, তীব্র অর্থনৈতিক চাপের মুখে ইরান ভেঙে পড়বে বলে মনে করা চরম ভুল হবে। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে চাপ সৃষ্টি করার যে কৌশল তেহরান অবলম্বন করেছে, তাতে কোনো পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। অর্থনৈতিক ক্ষতি সত্ত্বেও ইরানের মূল রাজনৈতিক অবস্থানে শেষ পর্যন্ত কোনো পরিবর্তন আসবে না বলেই তার ধারণা।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা সফল করতে হলে দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত ধৈর্য প্রয়োজন। এছাড়াও, ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলেশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) আয় এবং আঞ্চলিক প্রক্সি নেটওয়ার্ক বন্ধ করার জন্য ইউরোপ, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের সমন্বয়ে একটি বৃহৎ কূটনৈতিক উদ্যোগ অপরিহার্য।
হাডসন ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো লুদোভিক হুড পরামর্শ দিয়েছেন যে, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের উচিত ইরানের প্রধান তেল ক্রেতা চীনের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি করা। তবে আগামী সেপ্টেম্বরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র সফরের আগে ওয়াশিংটন এই ধরনের কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করবে কিনা, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র দুই মাস বাকি থাকায়, ইরানেরও পাল্টা জবাব দেওয়ার একটি রাজনৈতিক সুযোগ রয়েছে। তেহরান হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে নতুন করে ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে মার্কিন ভোটারদের ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করতে পারে।
ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি জেমস ওয়াকিনশ এই প্রসঙ্গে বলেছেন যে, তিনি এমন কোনো অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতিপূর্ণ যুদ্ধে আগ্রহী নন, যেখানে মার্কিন নাগরিকদের গ্যাস স্টেশন এবং মুদি দোকানে এর চূড়ান্ত মূল্য দিতে হয়। ফলস্বরূপ, ট্রাম্পের এই নতুন অর্থনৈতিক যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান আনবে নাকি তিনি রাজনৈতিক চাপে পিছু হটবেন, সেই প্রশ্নটি এখনও অমীমাংসিত।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
রিয়াদের বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলায় ২ বাংলাদেশি নিহত, আহত ২৪; বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ
১ সপ্তাহ আগে
মেহেরপুরের রংমহল সীমান্তে পুশইন ঠেকালো বিজিবি, ৬ জনকে ফেরত নিল বিএসএফ
১ সপ্তাহ আগে
দিল্লিতে ২৪ ঘণ্টা মোবাইল ইন্টারনেট সেবা স্থগিত
১ সপ্তাহ আগে