সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং ও মাদকবিরোধী অভিযানে ২৩৬ জন আটক, মুচলেকায় মুক্ত ১২৯
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং, মাদক ও ছিনতাই রোধে জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে এক রাতে আরও ২৩৬ জনকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানা এবং গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যৌথ টিম একযোগে এই সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে।
শনিবার বিকেলে জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আটক ২৩৬ জনের মধ্যে ১০৭ জনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। অপর ১২৯ জনের বিরুদ্ধে অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করে মুচলেকা গ্রহণপূর্বক অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের সরাসরি নির্দেশনায় কিশোর অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে এ অভিযান পরিচালিত হয়। কিশোর গ্যাংয়ের পাশাপাশি মাদক কারবারি ও সক্রিয় ছিনতাইকারীদেরও আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অভিযানে সরেজমিনে উপস্থিত ছিলেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, উদীয়মান কিশোরেরা যাতে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তে না পারে, সেজন্য জেলা পুলিশ নিয়মিতভাবে মাঠে রয়েছে। অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে নিরপরাধ মানুষ যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
পুলিশের দেয়া হিসেব অনুযায়ী, গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া ধারাবাহিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৫ হাজার ৪৮২ জনকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ২৮০ জনকে মুচলেকায় স্ব-স্ব পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং বাকি ২ হাজার ২০২ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলাসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক নাহিদা বেগমের সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পরদিন তার মরদেহ লালমাই পাহাড় সংলগ্ন জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা হয়। তদন্তে এই হত্যাকাণ্ডে কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততা স্পষ্ট হলে জেলাজুড়ে অপরাধ দমনে বিশেষ পুলিশি তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়।