সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
কাকডাকা ভোরের মিষ্টি স্বপ্ন আর নগরের রুক্ষ বাস্তবতা
সকালবেলা চোখে ঘুম জড়িয়ে আসতেই যেন এক অভাবনীয় দৃশ্য দেখে থমকে গেলেন মকবুল সাহেব। কোলাহলপূর্ণ ঢাকা শহরের পরিচিত মুঠোফোনের কর্কশ অ্যালার্মের বদলে বাইরে তখন শোনা যাচ্ছে কাকের ডাক। অবিশ্বাস্য লেগে উঠতেই জানালার পর্দাটা সরিয়ে দেখলেন, কয়েক জোড়া কাক বিদ্যুতের তারে বসে সুর মিলিয়ে কা-কা ডাকছে।
কাকের কলকাকলির মিষ্টি আবহ উপভোগ করে বাথরুমে ঢুকতেই আরও এক সারপ্রাইজ। বেসিনের কল ঘোরাতেই অঝোরে ঝরছে পানি! যেখানে জমিয়ে রাখা পানি দিয়ে কোনোমতে সারাদিনের কাজ চালাতে হতো, সেখানে অবারিত জলের স্পর্শে তিনি হাফ অ্যান আওয়ার ধরে স্বাচ্ছন্দ্যে শাওয়ার নিলেন। অফিসে দেরি হয়ে যাবে ভেবে দ্রুত প্রস্তুতি নিয়ে বের হওয়ার মুখে অর্ধাঙ্গিনী নীলার ডাক। এক যুগের দাম্পত্যে এমন নরম স্বরে অনেক দিন পর ডাকলেন নীলা। টেবিলে তখন গরম গরম রুটি ও আলুভাজির মিষ্টি সুবাস।
গ্যাসের চুলা কীভাবে জ্বলল—এ বিস্ময় কাটতে না কাটতেই মকবুল লক্ষ্য করলেন মাথার ওপরের ফ্যানটি বনবন করে ঘুরছে। ঘুম ভাঙার পর থেকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের এমন উপস্থিতি যেন অবিশ্বাস্য! এই টানাটানির সংসারে নিজের চোখ ও কানকে বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল তাঁর। মনে মনে আওড়ালেন—‘কুল, মকবুল, কুল; যা দেখছ, সব ভুল।’
কিন্তু হঠাৎ সেই সুখস্বপ্নের ঘোর ভাঙল নীলার তীব্র চিৎকারে, ‘আজ অফিসে যাওয়ার নাম নেই? নাকি চাকরিটাই খুইয়ে বসে আছ?’ মুহূর্তেই চুরমার হয়ে গেল স্বপ্নের পৃথিবী। চোখ মেলে মকবুল দেখলেন, তীব্র গরমে ঘামে ভিজে একাকার তিনি। বিদ্যুতহীন ঘরে অচল ফ্যান, আর বাথরুমের কলে পানির বদলে বের হচ্ছে কেবল দীর্ঘশ্বাসের বাতাস। বাস্তবে ফিরে এসে ঘামে ভেজা কাপড়েই অফিসের দিকে ছুটতে হলো তাঁকে। জনাকীর্ণ বাসে ঝুলে গন্তব্যে যাওয়ার পথে দীর্ঘশ্বাস ফেলে মকবুল ভাবেন, এমন কাকফাঁকা শহরে নির্বিঘ্নে বাঁচার স্বপ্ন দেখাই হয়তো মস্ত ভুল!