সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
ভারতে বসে নির্বাচিত সরকার ও বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে আওয়ামী লীগ | রাশেদ খাঁন
আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ ভারতে বসে গভীর ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে যে আওয়ামী লীগ বর্তমান নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে নানা অপতৎপরতা চালাচ্ছে। পূজা চলাকালীন কেউ যদি পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করে, তবে তাদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে। এই ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার এবং মাঠে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে ঝিনাইদহ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে রাশেদ খাঁন এসব কথা বলেন।
আওয়ামী লীগের বিগত আমলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিগত ১৬ বছর ধরে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকার ভারতের মদদে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরেছিল। ভারতের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সমর্থনে তারা দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করে। ওই সময়েই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর সবচেয়ে বেশি হামলা এবং তাদের জমিজমা দখলের ঘটনা ঘটেছে। অনেক মন্দিরে হামলার পেছনেও আওয়ামী লীগের লোকজনের হাত ছিল। অথচ আজ ক্ষমতা হারিয়ে তারা ভারতে আশ্রয় নিয়ে দেশের নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।
রাশেদ খাঁন আরও বলেন, বাংলাদেশে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘকাল ধরে পারস্পরিক সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে বসবাস করে আসছে। এই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ণ রাখতে আসন্ন দুর্গা পূজায় বিএনপি ও সহযোগী দলের নেতাকর্মীদের সর্বদা সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে।
এ সময় জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসন ও যাতায়াত সহজ করতে সরকার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি করছে। এছাড়া ফুটপাত হকারমুক্ত করতে সরকার আন্তরিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বিষয়টিকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছেন এবং পর্দার আড়াল থেকে অটোরিকশা চালকদের আন্দোলনে উসকানি দিচ্ছেন।
এর আগে, ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাশেদ খাঁন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিষ বিন হাছান, জেলা পরিষদ প্রশাসক আব্দুল মজিদ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, সহ-সভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক চন্দন বসু মুক্ত এবং জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিনয় কৃষ্ণ বিশ্বাস।