সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বলাৎকারের অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটকের সময় সংঘর্ষ | ওসিসহ আহত ৩ পুলিশ
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় একাধিক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে এক শিক্ষককে আটক করার সময় পুলিশের সাথে স্থানীয়দের দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান ভাঙচুর করে। সংঘর্ষে দৌলতপুর থানার ওসিসহ অন্তত তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার খলিশাকুন্ডি ইউনিয়নের মালিথাপাড়া এলাকার ‘মার্কাজুল মাদ্রাসা’য় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে।
আটককৃত শিক্ষকের নাম আশিকুল্লাহ (৪০)। তিনি যশোরের বাঘারপাড়া থানার জামদিয়া গ্রামের মৃত ক্বারী এনামুল্লাহর ছেলে। তিনি ওই মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক ও মুহতামিম হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসার হেফজ শাখার কয়েকজন শিক্ষার্থীকে দীর্ঘদিন ধরে যৌন নির্যাতন করে আসছিলেন শিক্ষক আশিকুল্লাহ। বিষয়টি জানাজানি হলে বৃহস্পতিবার দুপুরে ভুক্তভোগীদের পরিবার ও এলাকাবাসী মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উত্তেজিত জনতার সাথে তাদের বাগবিতণ্ডা ও উত্তেজনা তৈরি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্বজনদের সাথে রূঢ় আচরণ করে এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে আড়াল করার চেষ্টা চালায়। এতে জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশের ওপর চড়াও হয় এবং হামলা চালায়। একপর্যায়ে পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান ভাঙচুর করা হয়। হামলায় দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান, এএসআই নজরুল ইসলাম ও কনস্টেবল আজম হোসেন আহত হন।
পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসার পর পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষক আশিকুল্লাহকে আটক করে থানা হেফাজতে নিয়ে যায়।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে স্থানীয়দের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভেড়ামারা সার্কেল) দেলোয়ার হোসেন জানান, উত্তেজিত জনতা যখন অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করছিল, তখন পুলিশ তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে যায়। এ সময় পুলিশের ওপর হামলা চালানো হলে ওসিসহ তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরবর্তীতে অভিযুক্ত আশিকুল্লাহকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগের ব্যাপারে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, বলাৎকারের অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।