সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
কক্সবাজার সৈকতে পর্যটক নিরাপত্তায় অবহেলার সুযোগ নেই | জোরালো পদক্ষেপের তাগিদ
কক্সবাজারের হিমছড়ি সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে নেমে সম্প্রতি চার পর্যটকের করুণ মৃত্যু হয়েছে এবং এখনো একজন নিখোঁজ রয়েছেন। গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিগত ১২ বছরে সমুদ্রসৈকতে নেমে অন্তত ৮৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। একের পর এক এমন মর্মান্তিক ঘটনার পরও সৈকতে পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেন সুসংহত করা সম্ভব হয়নি, তা নিয়ে দেশজুড়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।
দেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে প্রতি বছর লাখ লাখ দর্শনার্থী কক্সবাজারে ছুটে যান, যাদের মূল আকর্ষণ থাকে উত্তাল সমুদ্রসৈকত। তবে বিশেষজ্ঞরা জানান, জোয়ার-ভাটার কারণে সৈকতের বিভিন্ন অংশে বিপজ্জনক গুপ্তখাল ও গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়। জোয়ারের সময় এগুলো খালি চোখে দেখা যায় না বলে সৈকতে নামা পর্যটকরা অজান্তেই বড় ধরনের বিপদের মুখোমুখি হন। বিশেষ করে যারা সাঁতার জানেন না, তাদের জন্য সাগরের পানিতে নামা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তা ছাড়া অনেকেই প্রশাসনের টানানো লাল নিশানা ও লাইফগার্ডের দেওয়া সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেন, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুলাংশে বাড়িয়ে দেয়।
দুর্ঘটনা কমাতে পর্যটকদের সচেতন হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। সাঁতার না জানলে লাইফ জ্যাকেট পরা বাধ্যতামূলক করা, চিহ্নিত বিপজ্জনক ও নিষিদ্ধ এলাকায় পানিতে নামা থেকে বিরত থাকা এবং নির্ধারিত সময়ের পর সাগরে না নামার নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলা উচিত। তবে শুধু পর্যটকদের ওপর দায় চাপিয়ে কর্তৃপক্ষ তাদের দায় এড়াতে পারে না।
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতসহ হিমছড়ি ও ইনানীর মতো বাইরের সৈকতগুলোতেও উদ্ধার তৎপরতা জোরালো করা জরুরি। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো আগেভাগেই চিহ্নিত করে স্পষ্ট সতর্কবার্তা স্থাপন করা, পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত ডুবুরি ও লাইফগার্ড নিয়োগ দেওয়া আবশ্যক। একই সঙ্গে পর্যটন ব্যবসার সাথে যুক্ত সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। জেলা প্রশাসন, পর্যটন পুলিশ, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ নিশ্চিত করা গেলে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানি রোধ করা সম্ভব হবে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
ডিএনএ পরীক্ষার পর ১০ মরদেহের হস্তান্তর, এখনো নিখোঁজ একজন
১ দিন আগে
অদক্ষ চালক ও দুর্নীতির দায়
৩ দিন আগে
সড়ক দুর্ঘটনায় অকাল মৃত্যু ও ট্রমা সেন্টারের নিষ্ক্রিয়তায় চরম ঝুঁকি
১ সপ্তাহ আগে