সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন | রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র জল্পনা ও উত্তেজনা
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন ডিসেম্বরে দেশে ফেরার গুঞ্জন বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই খবরকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা এবং এক ভিন্ন উত্তেজনা।
'দুরবীন আখবার' প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরে ও বাইরে বিষয়টি নিয়ে চলছে গভীর বিশ্লেষণ। তবে, গত জুলাই মাসের অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী শক্তিগুলো শেখ হাসিনার এই সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ার ঘোষণা দিয়েছে এবং এ নিয়ে তাদের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে প্রত্যাবর্তনের খবরে আওয়ামী লীগের একটি অংশের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে গোপনীয় যোগাযোগ ও তৎপরতা বেড়েছে। অন্যদিকে, সাধারণ মানুষের মনে এ বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও কৌতূহল দেখা দিয়েছে। জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে ‘ফ্যাসিবাদকে বিদায় জানানো’ দলগুলোর মধ্যে অবশ্য তীব্র ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। তাদের সুদৃঢ় অবস্থান হলো, পলাতক কোনো রাষ্ট্রনায়কের পুনর্বাসনের এমন নজির পৃথিবীতে নেই এবং এই ধরনের যেকোনো উদ্যোগকে যেকোনো মূল্যে প্রতিহত করা হবে।
সমালোচকরা মনে করেন, বিগত সরকারের সময় প্রশাসনে উচ্চপদে নিয়োগপ্রাপ্তদের একটি অংশ এখনও গোপনে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। এর পাশাপাশি, বিএনপির অভ্যন্তরে সুবিধাবাদী অংশ এবং আওয়ামী লীগের পুনরুত্থানবিরোধী শক্তির ভূমিকা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। দেশের রাজনীতিতে বহুরূপী বা সুবিধাবাদী চরিত্রের প্রভাব নিয়েও ব্যাপক আলোচনা চলছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে আওয়ামী লীগের অনুকূলে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে, ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি শেখ হাসিনার জন্য অনিরাপদ হয়ে উঠতে পারে এমন আশঙ্কায় বেলারুশকে একটি সম্ভাব্য নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে বলেও অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে।
সব মিলিয়ে, ডিসেম্বরের সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং পাল্টাপাল্টি প্রস্তুতির খবর দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক অঙ্গনকে নতুন করে সরগরম করে তুলেছে।