সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
পদ্মার চরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কাকন ও কালু বাহিনীর গোলাগুলি, শতাধিক ফায়ারের দাবি
কুষ্টিয়া ও পাবনা সীমান্তবর্তী পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে আধিপত্য ও নদী-চর দখলকে কেন্দ্র করে কাকন বাহিনী ও কালু বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে পদ্মা-গড়াই নদীর মোহনা সংলগ্ন পাবনার ঈশ্বরদীর ডিগ্রির চর এলাকার কলাবাগানে এই সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও নৌকার মাঝিদের দাবি, দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত দু'পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় তীব্র গুলি বিনিময় চলে। খেয়া নৌকার মাঝি নয়ন জানান, কাকন বাহিনীর সদস্যরা প্রথমে একটি ট্রলারে করে এসে হামলা চালায়। পরবর্তীতে বিকেল ৪টার দিকে আরও দুটি নৌকা সেখানে যোগ দেয়। দীর্ঘসময় ধরে চলা এই সংঘর্ষে শতাধিক রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে বলে স্থানীয়রা ধারণা করছেন। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাজশাহী নৌ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয় এবং ঈশ্বরদী থানা পুলিশও চরাঞ্চলে পৌঁছায়। কলাবাগান এলাকায় পুলিশ অবস্থান নিলে সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং নতুন করে আর গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়নি।
উল্লেখ্য, কুষ্টিয়া, পাবনা, রাজশাহী ও নাটোর সীমানার দুর্গম পদ্মার চরে আধিপত্য এবং বালুমহাল দখলকে কেন্দ্র করে একাধিক সশস্ত্র বাহিনীর সংঘাতের ইতিহাস দীর্ঘদিনের। ২০২৫ সালের নভেম্বরে চরাঞ্চলে পরিচালিত 'অপারেশন ফার্স্ট লাইট' নামক বিশেষ অভিযানে কাকন বাহিনীর ২১ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হলেও পদ্মার দুর্গম চরে সশস্ত্র গ্রুপগুলোর তৎপরতা এখনো অব্যাহত রয়েছে।