আলমডাঙ্গায় এসএসসি টেস্টের ইংরেজি প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে কোচিং পরিচালকসহ আটক ২ : মুচলেকায় মুক্তি
সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
আলমডাঙ্গায় এসএসসি টেস্টের ইংরেজি প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে কোচিং পরিচালকসহ আটক ২ : মুচলেকায় মুক্তি
এসএসসি টেস্ট পরীক্ষার ইংরেজি প্রথম পত্রের প্রশ্নের সঙ্গে কোচিং সেন্টারে আগাম নেওয়া পরীক্ষার প্রশ্নের হুবহু মিল পাওয়ার অভিযোগে আলমডাঙ্গায় অভিযান চালিয়ে কোচিং সেন্টারের পরিচালকসহ দুজনকে আটক করেছে উপজেলা প্রশাসন ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস। তবে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ না করার শর্তে মুচলেকা নিয়ে আত্মীয়স্বজনের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। প্রশ্নের মিল নিয়ে শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ, পরীক্ষা বর্জন ও মানববন্ধনের পর প্রশাসনের এ নমনীয় অভিযান চালানো হয়।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে আলমডাঙ্গার পাইকপাড়া ওয়েলফেয়ার একাডেমি কেয়ার কোচিং সেন্টারে অভিযান চালান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মহেশ্বর কুমার মন্ডল এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিকাইল হোসেন। এ সময় কোচিং সেন্টারের পরিচালক নীলচাঁদ হোসেন ও কুষ্টিয়ার রাজু আহমেদকে আটক করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) পাইকপাড়া জনকল্যাণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ইংরেজি প্রথম পত্রের টেস্ট পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শুরুর পর প্রশ্নপত্র হাতে পেয়েই শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে, প্রশ্নের সঙ্গে গত ২৩ অক্টোবর শুক্রবার পাইকপাড়া ওয়েলফেয়ার একাডেমি কেয়ার কোচিং সেন্টারে অনুষ্ঠিত পরীক্ষার প্রশ্নের হুবহু মিল রয়েছে।
এ ঘটনায় পরীক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ ওঠে, একপর্যায়ে অধিকাংশ শিক্ষার্থী পরীক্ষা না দিয়েই হল থেকে বেরিয়ে যায়। পরে তারা পরীক্ষা বাতিল করে অন্য দিনে নতুন প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ার দাবিতে প্রধান শিক্ষকের কাছে আবেদন করে।
ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট কোচিং সেন্টারের সামনে মানববন্ধন করে। তারা দুই পরীক্ষার প্রশ্নের মিলের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং কোচিং সেন্টারটি বন্ধের দাবি জানায়। পরে বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসনের নজরে আসে।
অভিযোগের তদন্তে মঙ্গলবার যৌথ অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস। অভিযানের সময় কোচিং সেন্টারের পরিচালক নীলচাঁদ হোসেন জানান, তিনি কুষ্টিয়ার রাজু আহমেদের কাছ থেকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ইংরেজি প্রথম পত্রের একটি প্রশ্ন সংগ্রহ করেছিলেন। সেই প্রশ্ন দিয়েই গত ২৩ অক্টোবর কোচিং সেন্টারের এসএসসি ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়া হয় বলে জানান।
পরে নীলচাঁদ হোসেন ও রাজু আহমেদকে আটক করা হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ না করার শর্তে তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়। এরপর তাদের আত্মীয়স্বজনের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
তবে প্রশ্নের উৎস কী, বিদ্যালয়ের টেস্ট পরীক্ষার প্রশ্নের সঙ্গে কোচিং সেন্টারের প্রশ্নের মিল কীভাবে হলো এবং এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট অন্য কেউ জড়িত কি না—এসব প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ উত্তর তদন্তের মাধ্যমেই পাওয়া সম্ভব ছিল। কিন্তু প্রশাসনিক পদক্ষেপ ছিল নমনীয়
এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা বর্জন ও মানববন্ধনের পরও আটক দুজনকে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় পরবর্তী তদন্ত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ কী হয়, সেটি প্রশ্নবিদ্ধ।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
রাসেল মিয়া
১ ঘন্টা আগে
দর্শনা কেরু ট্রেনিং কমপ্লেক্সে সিডিএ ও সিআইসিদের মতবিনিময় ও প্রশিক্ষণ সভা
২ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় যুবদল নেতা আব্দুল হাই বল্টুর ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণসভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত
২ ঘন্টা আগে