সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহে রূপপুর পরমাণু কেন্দ্রে শুরু ৫ সপ্তাহের ক্ষণগণনা
দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষা শেষে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কারিগরি ও মেগা প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চূড়ান্ত লক্ষ্যের একেবারে দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ যুক্ত করার প্রক্রিয়া হিসেবে পাঁচ সপ্তাহের চূড়ান্ত ক্ষণগণনা বা কাউন্টডাউন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন হলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ অর্থাৎ আগামী ৫ সপ্তাহের মধ্যেই রূপপুর থেকে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পেতে যাচ্ছে জাতীয় গ্রিড।
বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বাএরা) চূড়ান্ত ছাড়পত্র পাওয়ার পর গত শুক্রবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের চালুকরণ বা 'স্টার্টআপ' কার্যক্রম শুরু করা হয়। পারমাণবিক প্রযুক্তি থেকে বিদ্যুৎ তৈরির পথে এই চালুকরণ ধাপটিকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে গণ্য করা হয়।
প্রকল্প ডিরেক্টরেট ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্লান্টটি বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ 'সি-স্টেজ' (C-stage) পর্যায়ে রয়েছে। এই ধাপে রিয়্যাক্টর বা চুল্লির অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা ও চাপ নির্দিষ্ট গাণিতিক মানদণ্ডে ধীরে ধীরে বাড়ানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে চুল্লির কার্যক্ষমতা, কুলিং মেকানিজম, টারবাইন, বিদ্যুৎ জেনারেটর এবং আপৎকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার সচলতা যাচাই করা হচ্ছে। চুল্লির ধারণক্ষমতা শূন্য থেকে বাড়িয়ে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশে উন্নীত করার মাধ্যমেই মূলত প্লান্টটিকে পরীক্ষামূলক উৎপাদনের উপযোগী করে তোলা হবে।
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহাদুল হাসান জানান, সি-স্টেজে থাকাকালীন বিভিন্ন ধাপে সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রযুক্তিগত পরীক্ষা সম্পন্ন করা হচ্ছে। চুল্লির উৎপাদন সক্ষমতা ৩০ শতাংশে পৌঁছালে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ তৈরির চূড়ান্ত ধাপ সফল হবে। তিনি আরও যোগ করেন, উৎপাদিত বিদ্যুৎকে জাতীয় সঞ্চালন গ্রিডে নিরাপদে স্থানান্তরিত করা অত্যন্ত জটিল ও কৌশলগত একটি প্রক্রিয়া।
সঞ্চালন ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে প্লান্টের জেনারেটরকে জাতীয় গ্রিডের অপারেটিং ফ্রিকোয়েন্সির সঙ্গে নিখুঁতভাবে সমলয় বা সিঙ্ক্রোনাইজ করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) কড়া তদারকি ও নিরাপত্তা প্রোটোকল মেনে প্রতিটি পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইতোপূর্বে জ্বালানি ইউরেনিয়ামের নতুন চালান প্রাঙ্গণে পৌঁছানোয় পুরো প্রকল্পের প্রস্তুতকরণ কাজে বাড়তি গতি যুক্ত হয়েছিল।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, জাতীয় গ্রিডে প্রাথমিক ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ হওয়া মাত্রই সেটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক উৎপাদন হিসেবে বিবেচিত হবে না। এটি মূলত একটি ট্রায়াল রান বা পরীক্ষামূলক ধাপ। সরবরাহ শুরুর পর আগামী সাত থেকে আট মাস জুড়ে বিদ্যুৎ প্লান্টটির নানা সক্ষমতা এবং নিরাপত্তা সরঞ্জাম পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অডিট করা হবে। বিভিন্ন পাওয়ার লেভেলে নিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ রেখে প্লান্ট সফলভাবে চালনা করা গেলে তবেই বাণিজ্যিক উৎপাদনের অনুমোদন মিলবে, যা বাস্তবায়নে আরও প্রায় এক বছরের মতো সময় লাগতে পারে।