লগইন
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, তদন্তে প্রশাসন
বড় করে দেখুন
সাম্প্রতিকী ডেক্স আপডেট: ০৩ নভেম্বর, ২০২৬ | ০৭:০১ বিকাল ১১ বার পঠিত
ফন্ট সাইজ:

সংবাদ শুনুন

প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন

ঝিনাইদহ
কোটচাঁদপুরে নিম্নমানের রাস্তার কাজ বন্ধ | গ্রামবাসীদের অভিযোগ, তদন্তে প্রশাসন

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার এবং ঘাসের উপর ইট বিছিয়ে ফ্ল্যাট সলিংয়ের কাজ করার অভিযোগে গ্রামবাসীরা কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। গত সোমবার সকালে এই ঘটনা ঘটে।

জেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, জগন্নাথপুর গ্রামের প্রথম পাড়া থেকে মাঠের রাস্তা পর্যন্ত ৩৫৪ ফুট ফ্ল্যাট সলিংয়ের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এই কাজটি সম্পন্ন করার দায়িত্বে আছেন রেজাউল ইসলাম নামের একজন ঠিকাদার। গত ২ নভেম্বর, সোমবার সকালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি কাজ শুরু করে। তবে একইদিন গ্রামবাসী নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ও দূর্বা ঘাসের উপর বালু না সরিয়ে ইট বিছিয়ে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ এনে কাজ বন্ধ করে দেয়। আজ পর্যন্ত সেই কাজ বন্ধ রয়েছে।

এ বিষয়ে গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সালাম বলেন, “সোমবার সকালে আমি মাঠে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ দেখি ওই রাস্তায় কাজ চলছে। এরপর লক্ষ্য করি, তারা রাস্তার উপর থেকে দূর্বা ঘাস না সরিয়েই তার উপর সামান্য বালু ছিটিয়ে ইটের কাজ করে যাচ্ছেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ধীরে ধীরে গ্রামবাসী ঘটনাস্থলে জড়ো হয় এবং আমরা তাদেরকে বলে কাজ বন্ধ করে দিই।”

ঠিকাদার রেজাউল ইসলাম এই প্রসঙ্গে জানান, “এটা আমার ফার্মের কাজ। কাজের দেখাশোনার দায়িত্বে আছেন আমার ম্যানেজার। আমি ম্যানেজারকে যোগাযোগ করে আপনাদের তথ্য দিতে বলেছি।”

ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের অফিস সহায়ক আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমাদের জেলায় একজন মাত্র প্রকৌশলী রয়েছেন, যিনি সবসময় পুরো জেলার কাজ দেখাশোনা করতে পারেন না। এ কারণেই কাজটি আমি দেখছিলাম। ২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৫৪ ফুট রাস্তা নির্মিত হবে, যার ৮ ফুট প্রস্থের ফ্ল্যাট সলিংয়ে নিচে ১ ইঞ্চি এবং উপরে ১ ইঞ্চি বালু ধরা আছে।” তিনি আরও বলেন, “আমি কাজ করার জন্য ওই রাস্তাটি দেখিয়ে দিয়ে এসেছিলাম। তবে কাজ যে খারাপ হচ্ছে সেটা আমার জানা ছিল না। তিনি খোঁজ নেবেন বলে জানিয়েছেন।”

ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, “ফাইল না দেখে বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়। তবে আপনারা যেভাবে কাজ করার কথা জানালেন, তা যদি সত্য হয়, তাহলে ঠিকাদার কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন না। আমি এখনই সাইটে লোক পাঠাচ্ছি। তাদের প্রতিবেদন পাওয়ার পর সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” কোন প্রকল্পের কাজ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমাদের ওইভাবে তেমন প্রকল্প হয় না। বিশেষ ভাবে প্রকল্প হয়ে কাজ হয়। জেলা পরিষদের কাজ হলে আপনারা জেলা পরিষদের কাজের কথাই বলবেন।”

কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম হোসাইন বলেন, “যেহেতু এটা আমার উপজেলার কাজ, সেহেতু এর ভালো-মন্দ দেখার বিষয় আছে। তবে ওই রাস্তায় যে কাজ হচ্ছে, সে বিষয়ে আমাকে কেউ জানায়নি।” তিনি জেলা পরিষদে খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছেন।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে লগইন করুন

লগইন করুন

নোটিফিকেশন চালু করুন

সর্বশেষ এবং গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলো সবার আগে পেতে নোটিফিকেশন চালু করে রাখুন।