সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
ঢাকা মেট্রোরেল লাইন-১-এর দুই গুরুত্বপূর্ণ প্যাকেজের কাজ পেল ভারতের এলঅ্যান্ডটি
রাজধানী ঢাকার প্রথম ভূগর্ভস্থ মেট্রোরেল প্রকল্প এমআরটি লাইন-১-এর দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্যাকেজের কাজ পেয়েছে ভারতের খ্যাতনামা অবকাঠামো নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (এলঅ্যান্ডটি)। এসব প্যাকেজের আওতায় রেললাইন নির্মাণ, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থা, সংকেত ব্যবস্থা, টেলিযোগাযোগ এবং প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর স্থাপনের মতো জরুরি কাজগুলো সম্পন্ন করা হবে। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত নথিপত্র অনুযায়ী, চুক্তিভিত্তিক এই দুই প্যাকেজের যৌথ মূল্য প্রায় ১৭ হাজার ৫১২ কোটি টাকা।
গত ২৭ অক্টোবর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে এলঅ্যান্ডটি। বাংলাদেশ সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কর্তৃপক্ষের (বিপিপিএ) নথিতেও লারসেন অ্যান্ড টুব্রোর নাম এবং সংশ্লিষ্ট কাজগুলোর ವಿವರ উল্লেখ রয়েছে।
বিপিপিএর প্রদত্ত তথ্যমতে, সিপি-০৯ প্যাকেজের চুক্তিভিত্তিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ হাজার ৬৫.৫৮ কোটি টাকা। এই অংশের আওতায় রেললাইন ও বৈদ্যুতিক অবকাঠামো নির্মাণের দায়িত্ব যৌথভাবে পালন করবে এলঅ্যান্ডটি ও জাপানের সুমিতোমো করপোরেশন। অন্যদিকে, ৬ হাজার ৪৪৬.৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ের সিপি-১০ প্যাকেজে রয়েছে নেটওয়ার্কের সংকেত, টেলিযোগাযোগ, প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর এবং এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট (ইআরএম) ব্যবস্থা স্থাপনের কাজ, যা একাই বাস্তবায়ন করবে এলঅ্যান্ডটি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, সিপি-০৯ প্যাকেজে পুরো রুটে ট্র্যাক স্থাপন, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিতরণ, ট্রাকশন সাবস্টেশন, ওভারহেড ক্যাটেনারি এবং আনুষঙ্গিক বৈদ্যুতিক স্থাপনার নকশা, সরঞ্জাম সংগ্রহ, সংযোগ, পরীক্ষা ও চালুর কাজ করা হবে। আর সিপি-১০ প্যাকেজের অধীনে থাকবে সার্বিক প্রযুক্তিগত সংকেত ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার বাস্তবায়ন।
তিনটি মেগা মেট্রোরেল প্রকল্পে ব্যয় প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা
রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থা আধুনিকায়নে সরকার যে তিনটি বড় মেট্রোরেল প্রকল্প হাতে নিয়েছে, সেগুলোর মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৪৯ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা। গত ১৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই প্রকল্পগুলোর অনুমোদন ও সংশোধন রূপরেখা গৃহীত হয়।
অনুমোদিত মেগা প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত এমআরটি লাইন-১, হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত এমআরটি লাইন-৫-এর উত্তর রুট এবং গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত এমআরটি লাইন-৫-এর দক্ষিণ রুট।
পুনর্নির্ধারিত হিসাব অনুয়ায়ী, এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পে ব্যয় হবে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪.৮৯ কোটি টাকা। হেমায়েতপুর-ভাটারা রুটের এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর) অংশে খরচ ধরা হয়েছে ৮৯ হাজার ৮৪৮.৩৬ কোটি টাকা। এছাড়া এমআরটি লাইন-৫ (দক্ষিণ) রুট বাস্তবায়নে ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩.৭৬ কোটি টাকা।
৩১ কিলোমিটারের এমআরটি লাইন-১
প্রায় ৩১.২৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পটি মূলত দুটি রুটে বিভক্ত। বিমানবন্দর রুটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। অপর রুটটি নতুন বাজার থেকে শুরু হয়ে পূর্বাচল টার্মিনাল পর্যন্ত যাবে। এ প্রকল্পে মোট ১৯টি স্টেশন এবং পিতলগঞ্জে একটি ডিপো তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) আর্থিক সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর অংশের বেশিরভাগ পথ হবে ভূগর্ভস্থ, আর পূর্বাচল রুটে উড়াল ও ভূগর্ভস্থ—উভয় পদ্ধতির সংমিশ্রণ থাকবে।
উল্লেখ্য, এলঅ্যান্ডটি ইতিপূর্বে দেশের প্রথম চালু হওয়া মেট্রোরেল করিডোর এমআরটি লাইন-৬-এর সমন্বিত রেল অবকাঠামো স্থাপনের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। সেই পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তারা লাইন-১-এর কাজও দ্রুত ও নিখুঁতভাবে শেষ করতে আশাবাদী। ঢাকার যানজট হ্রাস, যাতায়াতের সময় সাশ্রয় এবং পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন নিশ্চিত করতেই এই বৃহৎ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
শাহজালালে যানবাহনে নেই ট্র্যাকিং প্রযুক্তি, এয়ারসাইডে বড় দুর্ঘটনার শঙ্কা
৫৬ মিনিট আগে
জাতীয় গ্রিড সিস্টেম সচল, ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে বিদ্যুৎ সরবরাহ
১৮ ঘন্টা আগে
অটিজম ও বিশেষ শিশুদের কল্যাণে আন্তর্জাতিক সম্মাননায় ভূষিত ইয়াশা সোবহান
১ দিন আগে