আলমডাঙ্গায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থনে জনসভা ও গণমিছিলে মানুষের ঢল
জাতীয় নির্বাচন আলমডাঙ্গায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থনে জনসভা ও গণমিছিলে মানুষের ঢল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেলকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে আলমডাঙ্গায় অনুষ্ঠিত হয় বিশাল নির্বাচনী জনসভা ও গণমিছিল। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় আলমডাঙ্গা এ-টিম ফুটবল মাঠে উপজেলা ও পৌর জামায়াতসহ ১১ দলীয় ঐক্যজোটের আয়োজনের মধ্যে শুরু হয় সমাবেশ।
শুরু থেকেই মাঠ প্রাঙ্গণ কানায় কানায় ভর্তি। বাতাসে উড়ে আসে স্লোগানের দীপ্তি, পদচারণায় মুখরিত হয় রাস্তাঘাট।
উপজেলা জামায়াতের প্রভাষক আমীর শফিউল আলম বকুলের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও চুয়াডাঙ্গা-১ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল। তিনি বলেন,
“আলমডাঙ্গা–চুয়াডাঙ্গার মানুষ, আমার প্রতি আস্থা রাখুন। আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি—যে অবস্থায় থাকি, যেখানেই থাকি, পরিচয় থাকবে আপনাদের ভাই ও সন্তান হিসেবেই।
চুয়াডাঙ্গা জেলা স্বাধীনতা যুদ্ধের গৌরবের সঙ্গে জড়িত। অথচ শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সার্বিক উন্নয়ন থেকে আমরা দীর্ঘদিন অবহেলিত। এই অবস্থা আর চলতে পারে না। চুয়াডাঙ্গা জেলাকে সি ক্যাটাগরি থেকে এ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করা হবে, ইনশাল্লাহ।”
তিনি আরও বলেন, “আলমডাঙ্গা–চুয়াডাঙ্গার মানুষ সরকারের কাছে গাড়ি-বাড়ি চায় না; তারা চায় অসুস্থ হলে ভালো চিকিৎসা। জেলা হাসপাতালে আড়াইশ শয্যার সুবিধা থাকা সত্ত্বেও আমরা মাত্র পঞ্চাশ শয্যা পাই। আলমডাঙ্গা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সও ৫০ শয্যা হলেও ন্যূনতম সুবিধা পাওয়া যায়। নির্বাচিত হলে আগামী ১০০ দিনের মধ্যে এটিকে আধুনিক করে মডেল হাসপাতালে রূপান্তর করা হবে। আলমডাঙ্গা শহরে মা ও শিশু হাসপাতাল স্থাপন হবে। মা ও বোনদের জন্য সু-চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।”
রাসেল কৃষি ও যুব সমাজের কথা উল্লেখ করে বলেন,
“আমি কৃষকের সন্তান। সার, কীটনাশক ও বাজার ব্যবস্থায় যে সিন্ডিকেট কৃষকদের হয়রানি করে, তা ভেঙে দেওয়া হবে। কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাবেন। কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য হিমাগার তৈরি করা হবে। যুব সমাজ আমাদের শক্তি। পরিকল্পিতভাবে মাদক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তাদের ধ্বংসের চেষ্টা হচ্ছে; আমরা তা প্রতিরোধ করব। যুবকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা হবে। রাস্তাঘাট ও সরকারি স্থাপনার উন্নয়নে আমরা বলি—বাংলাদেশ গরিব নয়; ব্যবস্থাপনার অভাবেই আমরা পিছিয়ে। দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে অর্থনীতিকে আগামী পাঁচ বছরে শক্তিশালী করা হবে। প্রতিটি গ্রামে খেলার মাঠ, খাল ও মাথাভাঙ্গা-কুমার নদ খনন, এবং সুস্থ বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে।”
তিনি ভোটের আহ্বান জানিয়ে বলেন,“আপনারা বাড়ি ফিরে সবাইকে বলবেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ফজরের নামাজের পর ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে ডাক্তার শফিকুর রহমানের হাতকে শক্তিশালী করবেন এবং ন্যায় ও ইনসাফের রাষ্ট্র গঠনে ভূমিকা রাখবেন।”
বিশেষ অতিথি জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর আনোয়ারুল হক মালিক বলেন,
“বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যে জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে, তা আপনাদের অজানা নয়। আমাদের শীর্ষ নেতাকর্মীদের বিচারিক প্রক্রিয়ার নামে হত্যা করা হয়েছে। চার দলীয় জোট সরকার গঠন করার সময় আমাদের দুজন মন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। অনেকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলেও আমাদের দুজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এটি জামায়াতের রাজনীতির স্বচ্ছতার প্রমাণ। সেই আদর্শ ও সৎ রাজনীতির উত্তরসূরি হিসেবে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রার্থী হয়েছেন অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল।”
আমার বাংলাদেশ পার্টির যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা বলেন, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি শুধু ভোট নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের দিন। সেই সিদ্ধান্ত গোলামীর নয়, আজাদীর; ইনসাফের এবং কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের। আমরা বিশ্বাস করি জনগণ সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে। আজকের সমাবেশই তার প্রমাণ। চুয়াডাঙ্গায় মা-বোনদের সম্মান নিয়ে কেউ যদি টানাটানি করে, তা প্রতিরোধ করা হবে। তাই ভোটে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে ১১ দলীয় জোটকে বিজয়ী করুন এবং সকলে হ্যাঁ ভোট দেবেন।”
জাতীয় নাগরিক পাটির কেন্দ্রীয় যুগ্ন সদস্য সচিব মোল্লা ফারুক এহসান, বাংলাদেশের মানুষ, কৃষক, শ্রমিক জনতা দীর্ঘ সংগ্রামের পরে ১৯৪৭ সালে আজাদী পেয়ে ফল ভোগ করতে পারেনি। ১৯৭১ সালে ২য় বার আজাদী পেয়ে সেই ফলও ভোট করতে পারে নাই। গত ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থান, কৃষক শ্রমিকের গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। সেই গণঅভ্যুত্থানের ফল আমরা আর হাত ছাড় যেতে দিব না। বাংলাদেশের মানুষের মুক্তি, বাংলাদেশের মানুষের আজাদী, বাংলাদেশের মানুষের আকাঙ্খা বাস্তবায়নের জন্য আপনারা আগামী ১২ তারিখে দাঁড়িপাল্লা ভোট দিয়ে ১১ দলীয় ভোটকে বিজয়ী করবেন।
বিশেষ অতিথি খেলাফত মজলিসের কুষ্টিয়া জোন পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, "শুধু ৫৪ বছর নয়, ব্রিটিশ আমল থেকে বাংলার মুসলিম সমাজ বিদেশি চক্রের দ্বারা সব সময় আবদ্ধ ছিল এবং শোষণ করেছে। বিশেষ করে আমাদের পার্শ্ববর্তি ভারত সব সময় গোলামির পিঞ্জরে আবদ্ধ করে রাখার চেষ্টা করেছে। তারা ষোল আনা পূর্ণ করেছে বিগত ১৬ বছরে। আমাদের সুযোগ এসেছে। আগামী ১২ তারিখে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে চুয়াডাঙ্গা ১ আসনের প্রার্থী অ্যাড. মাসুদ পারভেজ রাসেলকে বিজয়ী করার মাধ্যমে ইনসাফের রাষ্ট্র গঠন করার।"
জনসভায় উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মামুন রেজা উপস্থাপনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন
সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা হুমায়ুন কবীর, মাওলানা হাসান আল মামুন লাল, মাওলানা হুসাইন আহমেদ মাহফুজ, জেলা যুব বিভাগের সম্পাদক শেখ নূর মোহাম্মদ হুসাইন টিপু, জেলা জামায়াতে ইসলামীর সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আলতাফ হোসেন, জেলা জামায়াতের আইন আদালত বিয়ষক সম্পাদক দারুস সালাম, জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি অ্যাড. গোলাম সরোয়ার মুজাহিদ, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি কাইয়ুম উদ্দিন হিরোক, জেলা এবি পার্টির সভাপতি আলমগীর হোসেন, জেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা মনিরুজ্জামান, জিএ শাখার আমীর আব্বাস উদ্দিন, পৌর জামায়াতের আমীর মাহের আলী, শহীদ মোস্তাফিজুর রহমানের ভাই হাফিজুর রহমান।
এছাড়াও উপজেলা ও পৌর জামায়াতের অঙ্গ সংগঠনের সকল দায়িত্বশীলসহ জনসভায় জামায়াতে ইসলামী ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।
সমাবেশ শেষে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একটি বিশাল গণমিছিল বের করা হয়।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের ফলাফল লাইভ দেখুন।
৩ ঘন্টা আগে
মেহেরপুর-২ আসনে নাজমুল হুদা বেসরকারিভাবে জয়: ধানের শীষকে হারিয়ে বিজয়ী দাঁড়িপাল্লা
৬ ঘন্টা আগে
ঝিনাইদহ-১ আসনে ১,৬২,২৭৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে মোঃ আসাদুজ্জামান জয়ী
৬ ঘন্টা আগে