আলমডাঙ্গার নওলামারীতে ব্যবসায়ীর দোকানে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ, চাচাতো ভাইকে ঘিরে সন্দেহ
আলমডাঙ্গার নওলামারীতে ব্যবসায়ীর দোকানে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ, চাচাতো ভাইকে ঘিরে সন্দেহ
আলমডাঙ্গা উপজেলার নওলামারী গ্রামে এক ব্যবসায়ীর দোকানে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে দোকানের সামনে বসার কাঠের মাচাসহ কিছু অংশ পুড়ে গেছে। অল্পের জন্য দোকানের ভেতরে থাকা টিভি, ফ্রিজসহ লক্ষাধিক টাকার মালামাল রক্ষা পেয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ফরিদুল ইসলাম নওলামারী গ্রামের গোপালপাড়ার গোলজার আলীর ছেলে। তিনি বাড়ির সামনে মুদি ও চায়ের দোকান পরিচালনা করেন।
স্থানীয়সূত্রে জানা গেছে, রাতের দিকে ফরিদুল ইসলামের চাচা মানিক আলী গরুকে ঘাস দিতে উঠে দোকানের চালের ওপর আগুন জ্বলতে দেখেন। তিনি চিৎকার করলে স্থানীয়রা ছুটে এসে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে দোকানটি রক্ষা পায়।
এলাকাবাসী জানান, গত শুক্রবার ফরিদুল ইসলামের সঙ্গে তার চাচাতো ভাই, মৃত মুসাব আলীর ছেলে মিরাজের সিগারেট বেচাকেনা নিয়ে বাকবিতণ্ডা হয়। এর একদিন পরই গভীর রাতে দোকানে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ কারণে গ্রামের অনেকেই ঘটনার সঙ্গে মিরাজের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করছেন।
আরও জানা গেছে, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দোকানটি জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নির্বাচনী অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। দোকানে জামায়াতের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেলের দুটি ব্যানার টানানো ছিল, যা আগুনে পুড়ে যায়। বিষয়টি ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ ও দোকানের মালিক ফরিদুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন।
দোকান মালিক ফরিদুল ইসলাম বলেন, “শুক্রবার মিরাজ আমার দোকানে সিগারেট নিতে আসে। সিগারেট না থাকায় পরে দিতে পারব বললে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সে মারধরের চেষ্টা করে। এর পরদিন রাতে দোকানে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। সময়মতো আগুন নেভানো না গেলে পুরো দোকান পুড়ে যেত।
তিনি জানান, ঘটনার বিষয়ে ইউনিয়ন জামায়াতের আমীরকে অবহিত করা হয়েছে। রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকালে খাসকররা ক্যাম্প পুলিশের এসআই মাসুদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত মিরাজের বক্তব্য জানতে তার বাড়িতে গিয়ে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, এটি রাজনৈতিক কোনো বিষয় নয়, বরং পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে হতে পারে। তিনি দাবি করেন, প্রায় এক বছর আগেও ফরিদুল ইসলামের দোকানে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক গ্রামবাসী জানান, অভিযুক্ত মিরাজ পূর্বে আওয়ামী লীগ করতেন। ক্ষমতার পালাবদল হলে তিনি জামায়াতের ছত্রছায়ায় থাকছেন।
আলমডাঙ্গা থানা অফিসার ইনচার্জ বানী ইসরাইল জানান, বিষয়টি রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার চেষ্টা করা উচিত হবে না। এটা চাচাতো দু ভাইয়ের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।