আলমডাঙ্গায় ভোট গ্রহনকারী অফিসারদের কর্মশালায় ডিসি এবং এসপি
জাতীয় নির্বাচন ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে আলমডাঙ্গা উপজেলায় ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে আলমডাঙ্গা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের হলরুমে এই প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আলমডাঙ্গা উপজেলার মোট ১২০ জন প্রিজাইডিং অফিসার অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালায় ভোটগ্রহণ সংক্রান্ত আইন, বিধিমালা, দায়িত্ব পালন পদ্ধতি, ভোটের দিন করণীয় ও সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার বিষয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলার জেলা প্রশাসক ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেন। কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা নির্বাচন অফিসার আহমেদ আলী, বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব তাহমিলুর রহমান, আলমডাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এএসএম শাহনেওয়াজ মেহেদী এবং আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সেখ মাসুম বিল্লাহ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা জেলার জেলা প্রশাসক ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এ ক্ষেত্রে ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সকল ভোট কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনা করা হয়েছে। কোনো ধরনের অবহেলা, শৈথিল্য কিংবা পক্ষপাতিত্ব বরদাশত করা হবে না। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে। ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকালে আইন ও বিধির বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কেউ দায়িত্বে গাফিলতি করলে বা অনিয়মে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দায়িত্ব পালনে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, কিন্তু দায়িত্বে অবহেলা করলে ছাড় দেওয়া হবে না এ বিষয়টি সবাইকে স্পষ্টভাবে মনে রাখতে হবে ।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের নিরাপত্তা, গোপনীয়তা এবং অবাধে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করা আপনাদের মূল দায়িত্ব। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি ভোটগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে, তবে সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনকে অবহিত করতে হবে। নির্বাচন একটি সাংবিধানিক দায়িত্ব এখানে ব্যক্তিগত মত, দলীয় চিন্তা বা চাপের কোনো স্থান নেই। তিনি বলেন, এই নির্বাচন জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস রক্ষার জন্য সবাইকে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে পারলেই রাষ্ট্র ও প্রশাসনের প্রতি জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে মাঠপর্যায়ে দায়িত্বরত পুলিশের প্রতিটি সদস্য বডি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। দায়িত্ব পালনের সময় বডি ক্যামেরা বন্ধ রাখা যাবে না। এটি শুধু নজরদারির জন্য নয়, বরং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় দায়িত্ব পালনের সময় বডি ক্যামেরায় সব কার্যক্রম রেকর্ড হবে। কেউ দায়িত্বে অবহেলা করলে, ক্ষমতার অপব্যবহার করলে বা কোনো অনৈতিক কাজে জড়ালে তা ক্যামেরায় ধরা পড়বে এবং সংশ্লিষ্ট সদস্যের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখানে কোনো ধরনের ছাড় বা অজুহাত গ্রহণযোগ্য হবে না।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, বডি ক্যামেরা যেমন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, তেমনি দায়িত্বশীল পুলিশ সদস্যদের সুরক্ষাও দেবে। কেউ মিথ্যা অভিযোগ দিলে বা পুলিশের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করলে, বডি ক্যামেরার ফুটেজই হবে প্রমাণ। তাই সবাইকে পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা বেআইনি কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। বডি ক্যামেরা ব্যবহারের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়া নজরদারির মধ্যে থাকবে। যারা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সবশেষে তিনি বলেন, ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তা ও ভোটারদের আশ্বস্ত করতে চাই নির্বাচনের প্রতিটি ধাপে পুলিশ নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলকভাবে দায়িত্ব পালন করবে। বডি ক্যামেরা ব্যবহারের মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা হবে।
জীবননগর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কামরুল হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পল্লী বিদ্যুৎ চুয়াডাঙ্গার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, ওজোপাডিকো চুয়াডাঙ্গার নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীবসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের আয়োজনে এই কর্মসূচির আওতায় মোট ১ হাজার ৮৯১ জন কর্মকর্তা প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে ১১২ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৫৯৩ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ১ হাজার ১৮৬ জন পোলিং অফিসার রয়েছেন। এছাড়া প্রয়োজন বিবেচনায় কয়েকজন কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আলমডাঙ্গা উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭ হাজার ৫৬৫ জন। উপজেলায় মোট ১১২টি ভোটকেন্দ্রের ৫৯৩টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
আলমডাঙ্গা বণিক সমিতির সংবর্ধনায় কর্মসংস্থান ও মানবিক নেতৃত্বের ডাক দিলেন টরিক
১ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গার কালিদাসপুর ইউনিয়নে জামায়াতের নির্বাচনী সমাবেশ
১ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় তিন দিনব্যাপী কৃষি ও প্রযুক্তি মেলা উদ্বোধন
১ ঘন্টা আগে