জাতীয় নির্বাচন চুয়াডাঙ্গায় চায়ের কাপে ভোটের চুমুক: জমে উঠেছে ধানের শীষ-দাঁড়িপাল্লার লড়াই
শীতের সকাল হোক কিংবা কুয়াশাভেজা সন্ধ্যা—চুয়াডাঙ্গা জেলা ও উপজেলা শহরের অলিগলিতে এখন একই দৃশ্য। ছোট ছোট চায়ের দোকানগুলো যেন একেকটি অনানুষ্ঠানিক ‘ভোট ক্যাম্প’। ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে চলছে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ, তর্ক আর রাজনৈতিক আড্ডা। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। দিন যত ঘনিয়ে আসছে, চুয়াডাঙ্গার গ্রাম থেকে শহরে নির্বাচনী উত্তেজনা ও উৎসবের আমেজ ততই বাড়ছে।
চায়ের দোকানে ভোটের ‘কেটলি’ জেলার ৪টি উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা গেছে, এমন কোনো চায়ের দোকান নেই যেখানে ৮-১০ জন লোকের ভিড় নেই। জীবননগর উপজেলার রায়পুর বাজার, হাসাদাহ, মাধবপুর ও বেনীপুর বাজারের দোকানগুলোতে এখন তিল ধারণের জায়গা নেই। রায়পুর বাজারের এক চা-দোকানি জানান, নির্বাচনী হাওয়া শুরু হওয়ার পর থেকে তাঁর চা বিক্রি দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। ভিড় সামলাতে পিয়ারাতলার দোকানি হাসেম আলী ও বেনীপুর বাজারের মাজেদুর রহমান নতুন কেটলি ও কাপ কিনেছেন। তাঁদের ভাষ্য, আগে দিনে ২-৩ কেটলি চা বিক্রি হলেও এখন ১০ কেটলিতেও কুলাচ্ছে না।
দুই আসনের লড়াইয়ের সমীকরণ চায়ের আড্ডায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন প্রার্থীরা। দুই আসনেই লড়াই হবে ‘সেয়ানে-সেয়ানে’—এমনটাই মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা।
- চুয়াডাঙ্গা-১: এই আসনে মূল লড়াইয়ে রয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামান (ধানের শীষ), ১০-দলীয় জোট ও জামায়াত মনোনীত অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল (দাঁড়িপাল্লা) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. জহুরুল ইসলাম (হাতপাখা)।
- চুয়াডাঙ্গা-২: এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি মনোনীত বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু (ধানের শীষ), জামায়াত মনোনীত জেলা আমির মো. রুহুল আমিন (দাঁড়িপাল্লা) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. হাসানুজ্জামান সজীব (হাতপাখা)।
ভোটারদের প্রত্যাশা দীর্ঘদিন পর একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অপেক্ষায় চুয়াডাঙ্গাবাসী। রায়পুর বাজারের ব্যবসায়ী তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘দেশের মানুষ রাজনীতি নিয়ে সব সময়ই আগ্রহী। আমরা চাই নিরপেক্ষ একটি ভোট।’ তরুণ ভোটার আবিদ আলীর মতে, ‘এবার আর ফাঁকা মাঠে গোল দেওয়ার সুযোগ নেই। ভোট হবে প্রতিযোগিতামূলক।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রত্যাশায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। গ্রামীণ জনপদে চায়ের আড্ডার এই উত্তাপই বলে দিচ্ছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে পুরো জেলা।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
সরবরাহ বাড়ায় সবজির দাম কমতির দিকে
১ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় কৃষিজমির উর্বর মাটি কেটে ইটভাটায় সরবরাহ: দুই জনের কারাদণ্ড, একজনকে ১ লাখ টাকা জরিমানা
১ দিন আগে
আলমডাঙ্গায় ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের ৪ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু
১ দিন আগে