সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
সস্তা ভিউ ও কুরুচিপূর্ণ কনটেন্টের থাবায় ক্ষুণ্ন হচ্ছে মেহেরপুরের আঞ্চলিক ভাষার মর্যাদা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেহেরপুর জেলায় আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে অশালীন ও রুচিহীন ভিডিও তৈরির প্রবণতা। ফেসবুক পেজ, গ্রুপ কিংবা ব্যক্তিগত আইডি থেকে সস্তা বিনোদন ও দ্রুত জনপ্রিয়তার উদ্দেশ্যে ছড়ানো হচ্ছে কুরুচিপূর্ণ কনটেন্ট। এর ফলে বিকৃত হচ্ছে মেহেরপুরের ঐতিহ্যবাহী আঞ্চলিক ভাষা এবং ধূলিসাৎ হচ্ছে এর সামাজিক মর্যাদা।
সম্প্রতি স্থানীয় বেশ কিছু মিম পেজ এবং বিনোদনমূলক প্ল্যাটফর্মের কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে সচেতন মহলে। ভিউ ও রিচ বাড়ানোর তীব্র প্রতিযোগিতায় মেহেরপুরের সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত বিষয়, বাচনভঙ্গি ও পারিবারিক জীবনকে হাস্যরসের উপাদানে পরিণত করা হচ্ছে। এমনকি অনুমতি ছাড়াই অনেকের ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার করে আপত্তিকর মিম ও ভিডিও বানিয়ে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।
can এমনই এক ভুক্তভোগী সাদিয়া আফরিন জ্যামি জানান, তাঁর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে ‘এক্সপোর্ট মেহেরপুর ২.০’ নামের একটি পেজ কুরুচিপূর্ণ মিম তৈরি করে প্রকাশ করে। মানহানির শিকার হয়ে তিনি ঢাকার সাইবার সাপোর্ট সেন্টার, ডিবি ও ডিএমপিতে ওই পেজের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন।
এই নেতিবাচক ধারার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ইতিবাচক কনটেন্ট নির্মাতারা। ট্রাভেল ব্লগার রাগীব শাহরিয়ার বলেন, “মেহেরপুর থেকে অনেক নতুন কনটেন্ট ক্রিয়েটর উঠে আসছেন, যা ইতিবাচক। কিন্তু একটি গোষ্ঠী মেহেরপুরের ভাষা ও সংস্কৃতিকে বিকৃত করে সারা দেশে তুলে ধরছে। ভিউয়ের জন্য দীর্ঘমেয়াদে নিজেদের সংস্কৃতি ধ্বংস করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।” একইভাবে কনটেন্ট নির্মাতা সোহাগ মিয়া এবং এমপি রকি নতুন প্রজন্মকে রক্ষা করতে অশ্লীলতা বর্জন ও শিক্ষণীয় কনটেন্ট তৈরির আহ্বান জানান।
মেহেরপুর সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মুহা. আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, “বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া তরুণদের ইতিবাচক শিক্ষার বদলে ভুল পথে নিয়ে যাচ্ছে। কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের শুধু লাইক-কমেন্টের পেছনে না ছুটে এমন কনটেন্ট তৈরি করা উচিত যা সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখবে।”
এদিকে প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) দিয়ে ছবি বিকৃত করার ফলে সাইবার ক্রাইমের মাত্রা আরও গভীর হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনজীবী আ.ন.ম. আল মামুন-অনল জানান, “সাইবার বুলিংয়ের ক্ষেত্রে সাইবার নিরাপত্তা আইন বা পর্নোগ্রাফি আইনে ২ থেকে ৭ বছরের সাজা এবং সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে মামলা করার জন্য বিভাগীয় শহরে যেতে হওয়ায় ভুক্তভোগীরা সহজে আইনি পদক্ষেপ নিতে চান না। ফলে মেহেরপুরে সাইবার অপরাধীদের দাপট দিন দিন বাড়ছে।”
সন্তানদের মানসিক স্বাস্থ্য ও নৈতিকতা নিয়ে চিন্তিত অভিভাবকরাও। অভিভাবক মনিরা বেগম ও রিতা খাতুন জানান, ফেসবুক ও ইউটিউবে প্রতিনিয়ত ভেসে আসা কুরুচিপূর্ণ ভিডিও কিশোর-কিশোরীদের বিপথগামী করছে। কনটেন্ট নির্মাতাদের আরও দায়িত্বশীল ও সংবেদনশীল হওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ডিজিটাল মাধ্যমে সৃজনশীলতা প্রকাশের যেমন সুযোগ রয়েছে, তেমনি সুস্থ সমাজ বিনির্মাণে কনটেন্টের মানের ব্যাপারে আপস করার কোনো সুযোগ নেই। মেহেরপুরের ভাষা ও আত্মমর্যাদা টিকিয়ে রাখতে এখনই কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
মেহেরপুরে স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
৯ ঘন্টা আগে
কাঁটাতারের বাধা পেরিয়ে ৫০ বছর পর শতবর্ষী বাবার নিথর দেহ দেখলেন মেয়ে
১৮ ঘন্টা আগে
মুজিবনগরে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২’ উদ্যাপনে র্যালি ও আলোচনা সভা
১৯ ঘন্টা আগে