লগইন
অর্থ ব্যয়ের চেয়ে শিখন-অর্জনের গুণগত মানই হোক সাফল্যের মাপকাঠি
বড় করে দেখুন
সাম্প্রতিকী ডেক্স আপডেট: ০৫ নভেম্বর, ২০২৬ | ১০:০১ রাত ১৪ বার পঠিত
ফন্ট সাইজ:

সংবাদ শুনুন

প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন

শিক্ষা
প্রাথমিক শিক্ষায় বড় বরাদ্দ | অর্থ ব্যয়ের চেয়ে শিখন-অর্জনের গুণগত মানই হোক সাফল্যের মাপকাঠি

প্রাথমিক শিক্ষা যেকোনো জাতির সামগ্রিক বিকাশ ও টেকসই মানবসম্পদ বিনির্মাণের মূল ভিত্তি। দেশের শিক্ষাব্যবস্থার এই প্রারম্ভিক স্তরটি যদি দুর্বল থাকে, তবে উচ্চশিক্ষায় কাঙ্ক্ষিত উৎকর্ষ লাভ কিংবা একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত দুরুহ হয়ে পড়ে। এই প্রেক্ষাপটে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে রাষ্ট্রীয় অবকাঠামোগত ও আর্থিক বিনিয়োগ নিশ্চিত করা ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। সম্প্রতি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে ৪১ হাজার ৯০ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি’ (পিইডিপি-৫) অনুমোদিত হওয়া শিক্ষাক্ষেত্রে এক নতুন প্রত্যাশার যোগান দিয়েছে।

তবে শিক্ষাবিদদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি এই গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিপুল অর্থ সংস্থানই অর্জনের শেষ কথা নয়। বরাদ্দের যথাযথ ও স্বচ্ছ ব্যবহার, সঠিক পরিকল্পনা, প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ শিক্ষকদের দক্ষতা অর্জন এবং শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শিখন-গুণমান সুনিশ্চিত করাই কর্মসূচির আসল সফলতা। অতীতের অর্জন ও বিদ্যমান ঘাটতিগুলো কাটিয়ে নতুন এই মেগা পরিকল্পনা কতখানি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে—তা নিয়েই উঠে আসছে নানা বিশদ আলোচনা।

অতীতের অর্জন ও অভিজ্ঞতার আলোতে শিক্ষা খাত

স্বাধীনতার পর থেকেই প্রাথমিক শিক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে আসছে বাংলাদেশ সরকার। ১৯৭৩ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৩৬ হাজারের বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের মাধ্যমে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেন। পরবর্তী সময়ে বিনামূল্যে বই বিতরণ, উপবৃত্তি প্রদান, বালিকা শিক্ষার প্রসার এবং শ্রেণিকক্ষ সম্প্রসারণে বিভিন্ন পিইডিপি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ২০১১-২০১৭ সময়ে বাস্তবায়িত পিইডিপি-৩ এর সংশোধিত বাজেট ছিল প্রায় ৭৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং পিইডিপি-৪ এর বাজেট ছিল ৩৮ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা। সেই তুলনায় পিইডিপি-৫ এর ৪১ হাজার ৯০ কোটি টাকা দেশের ইতিহাসের বৃহত্তম প্রকল্প না হলেও এটি প্রাথমিক শিক্ষায় রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগের এক অবিচ্ছিন্ন ধারাবাহিকতা।

পরিসংখ্যান বলছে, প্রাথমিক শিক্ষায় বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ধরে রাখার হার বাড়লেও গুণগত মানের প্রশ্নে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েই গেছে। শিশুদের শ্রেণিকক্ষে ভর্তি করানোর চেয়েও মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে—তারা নিজেদের শ্রেণি উপযোগী পড়া, লেখা এবং গাণিতিক সমাধান করতে পারছে কি না।

সাম্প্রতিক সময়ের অভিঘাত ও বর্তমান চিত্র

২০২১ থেকে ২০২৬ মেয়াদে প্রাথমিক শিক্ষা করোনা মহামারির দরুন মারাত্মক অভিঘাতের মুখোমুখি হয়েছিল। দীর্ঘ দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় কোটি কোটি শিশুর স্বাভাবিক পড়ালেখা ব্যাহত হয়। সরকার অনলাইন ও দূরদর্শনের মাধ্যমে পড়াশোনা সচল রাখার চেষ্টা করলেও প্রান্তিক ও দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীরা সেই সুবিধা থেকে অনেকটাই বঞ্চিত থাকে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ২০২৪ সালের পরিসংখ্যানে জানা যায়, ২০১০ সালে ঝরে পড়ার হার ৩৯.৮ শতাংশ থেকে কমে ২০২৩ সালে ১৩.১৫ শতাংশে নামলেও ২০২৪ সালে তা পুনর্নবীকরণ হয়ে ১৬.২৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। একই সময়ে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের টিকে থাকার হার কমে দাঁড়ায় ৮৩.৯৮ শতাংশে। অন্যদিকে, ২০২৪ সালের হিসাবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত ১:২৯ হলেও প্রায় ৭৯.৪ শতাংশ বিদ্যালয়ে এখনো দুই শিফটে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে, যা নিয়মিত পাঠদানের পরিবেশকে সীমিত করে তুলছে।

পিইডিপি-৫: পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের লক্ষ্য

২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩১ সালের জুন মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত পিইডিপি-৫ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১ হাজার ৯০ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৩৩ হাজার ২০৩ কোটি টাকা এবং বাকি অংশ বৈদেশিক সহায়তা ও ঋণ। প্রকল্পের অধীনে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, আধুনিক শ্রেণিকক্ষ তৈরি, ডিজিটাল উপকরণ (‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’), মাল্টিমিডিয়া সরঞ্জাম সরবরাহ এবং শিক্ষার্থীদের ড্রেস ও জুতা বিতরণের মতো নানামুখী উদ্যোগ যুক্ত করা হয়েছে।

প্রকল্পের সুফল নিশ্চিতে শ্রেণিকক্ষে কার্যকর পাঠদান, পিছিয়ে পড়া চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা, শিক্ষকদের গুণগত মান বৃদ্ধি, নিয়মিত মূল্যায়ন এবং প্রকল্প শেষে যন্ত্রপাতির সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। পরিশেষে, শুধু অর্থ ব্যয়ের হিসাব নয়, বরং প্রতিটি শিশুর প্রকৃত শিখন ও যোগ্যতাই হওয়া উচিত যেকোনো শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির আসল মাপকাঠি।

- ড. আমানুর আমান (সম্পাদক ও প্রকাশক, দৈনিক কুষ্টিয়া ও দি কুষ্টিয়া টাইমস)

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে লগইন করুন

লগইন করুন

সর্বশেষ সংবাদ

২০২৪-এর মতো ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

২৩ মিনিট আগে
২০২৪-এর মতো ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

অর্থ ব্যয়ের চেয়ে শিখন-অর্জনের গুণগত মানই হোক সাফল্যের মাপকাঠি

২৪ মিনিট আগে
অর্থ ব্যয়ের চেয়ে শিখন-অর্জনের গুণগত মানই হোক সাফল্যের মাপকাঠি

আলমডাঙ্গার জামজামি মধুপুরে অবৈধ কয়লা তৈরির কারখানায় প্রশাসনের অভিযান : মালিক নিজের হাতেই ভাঙল নিজের কারখানা

১ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গার জামজামি মধুপুরে অবৈধ কয়লা তৈরির কারখানায় প্রশাসনের অভিযান : মালিক নিজের হাতেই ভাঙল নিজের কারখানা

আলমডাঙ্গায় মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক মজুত, আশাদুল এন্টারপ্রাইজকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা

১ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক মজুত, আশাদুল এন্টারপ্রাইজকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা

আলমডাঙ্গাসহ সারাদেশে একযোগে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

১ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গাসহ সারাদেশে একযোগে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

বিরতির আগে বহু সুযোগ নষ্ট, গোলশূন্য সমতা

১ ঘন্টা আগে
বিরতির আগে বহু সুযোগ নষ্ট, গোলশূন্য সমতা

আলমডাঙ্গায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত, র‌্যালি ও হাত ধোয়ার কৌশল প্রদর্শন

১ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত, র‌্যালি ও হাত ধোয়ার কৌশল প্রদর্শন

আলমডাঙ্গায় মাদকসহ একাধিক মামলার আসামী ডালিম ও সাজাপ্রাপ্ত আসামী ফারুকসহ গ্রেফতার ৪

১ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় মাদকসহ একাধিক মামলার আসামী ডালিম ও সাজাপ্রাপ্ত  আসামী ফারুকসহ গ্রেফতার ৪

উচ্ছ্বসিত পর্যটন খাত

২ ঘন্টা আগে
উচ্ছ্বসিত পর্যটন খাত

তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আবার পেছালো

২ ঘন্টা আগে
তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আবার পেছালো

নোটিফিকেশন চালু করুন

সর্বশেষ এবং গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলো সবার আগে পেতে নোটিফিকেশন চালু করে রাখুন।