আলমডাঙ্গার জামজামি মধুপুরে অবৈধ কয়লা তৈরির কারখানায় প্রশাসনের অভিযান : মালিক নিজের হাতেই ভাঙল নিজের কারখানা
সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
আলমডাঙ্গার জামজামি মধুপুরে অবৈধ কয়লা তৈরির কারখানায় প্রশাসনের অভিযান : মালিক নিজের হাতেই ভাঙল নিজের কারখানা
আলমডাঙ্গা উপজেলার জামজামি মধুপুর গ্রামে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা গাছ পুড়িয়ে কয়লা তৈরির কারখানার বিরুদ্ধে অবশেষে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। উপজেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে কারখানাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অভিযানের মুখে কারখানার মালিক নিজেই স্থাপনা ভেঙে ফেলতে বাধ্য হন। একই সঙ্গে আগামী ৭ দিনের মধ্যে কারখানার সব মালামাল সরিয়ে জমি সম্পূর্ণ খালি করে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
জানা গেছে, উপজেলার মধুপুর গ্রামের মোতালেপ মোল্লার নিকট থেকে বছরে ৪০ হাজার টাকায় জমি লিজ নিয়ে ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ধুলিয়া গ্রামের ছানোয়ার হোসেনের ছেলে মিঠু সেখানে অবৈধভাবে গাছ পুড়িয়ে কয়লা তৈরির কারখানা গড়ে তোলেন। মাটি ও ইট দিয়ে তৈরী বিশেষ ধরনের বন্ধ চুল্লি যা ড্রামের মত করে কাঠ সাজানো হয়। চুল্লির ভেতরে বাতাসের প্রবাহ প্রায় বন্ধ রাখা হয়, যাতে কাঠ পুরোপুরি পুড়ে ছাই না হয়ে যায়। চুল্লির ভেতর কাঠ ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়। প্রচন্ড তাপে কাঠের ভেতরের জলীয় বাষ্প, হাইড্রোকার্বন ও অন্যান্য পদার্থ ধোয়া হিসেবে বের হয়ে যায়। কাঠের ভেতরের কার্বনগুলো অবিকৃত থেকে কালো ও হালকা কাঠ কয়লায় রূপান্তরিত হয়। ১ কেজি কয়লা তৈরী করতে প্রায় তিন কেজি কাঠ পুড়ানো হয়। গাছ পুড়িয়ে কয়লা তৈরী করে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এ কার্যক্রমের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে কারখানাটি পরিচালিত হয়ে আসছিল। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রচ্ছায়ায় কারখানাটি পরিচালিত হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নরেশ্বর চন্দ্র বিশ্বাস তাঁর দল নিয়ে কারখানাটিতে উপস্থিত হন। পরে ঘটনাস্থল থেকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহেশ্বর কুমার মণ্ডল এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসানকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। এরপর তিন দপ্তরের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় নিরাপদ খাদ্য অফিসার রিয়াজ মাহমুদসহ পুলিশ ও আনসার ব্যাটেলিয়ানের টিম উপস্থিত ছিলেন।
প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের মুখে কারখানার মালিক মিঠু নিজেই তাঁর অবৈধ স্থাপনা ভেঙে ফেলেন। পাশাপাশি আগামী ৭ দিনের মধ্যে কারখানার অবশিষ্ট সব সরঞ্জাম ও মালামাল সরিয়ে নিয়ে জমি সম্পূর্ণ খালি করে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে, জনস্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলে এবং আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এ ধরনের অবৈধ কারখানা পরিচালনার বিরুদ্ধে প্রশাসনের এ অভিযানকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তবে শুধু স্থাপনা ভেঙে ফেলার অঙ্গীকার নয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কারখানার সব কার্যক্রম ও মালামাল সরানো হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
আলমডাঙ্গায় মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক মজুত, আশাদুল এন্টারপ্রাইজকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা
১ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গাসহ সারাদেশে একযোগে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
১ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত, র্যালি ও হাত ধোয়ার কৌশল প্রদর্শন
১ ঘন্টা আগে