সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
বসুন্ধরা গ্রুপের সেলাই মেশিন উপহার | ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার ১০০ নারীর ঘুরে দাঁড়ানোর নতুন স্বপ্ন
বিশেষ প্রতিনিধি:
স্বামীকে হারানোর পর দুই সন্তানকে মানুষ করার কঠিন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন রুমা। দীর্ঘ ১২ বছর নানা প্রতিকূলতার সাথে লড়াই করে সন্তানদের পড়াশোনা চালু রাখলেও তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে ছেলের পড়ালেখা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। এমন সংকটময় মুহূর্তে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। তিন মাসের বিনামূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণ শেষে একটি নতুন সেলাই মেশিন উপহার পেয়ে রুমার চোখে এখন নতুন দিনের স্বপ্ন। স্বাবলম্বী হয়ে সন্তানদের ভবিষ্যৎ সুন্দরভাবে গড়ে তোলার আস্থা ফিরে পেয়েছেন তিনি।
শুধু রুমা একা নন, তাঁর মতো জীবনসংগ্রামে লড়াই করা আরও ৯৯ জন নারী পেয়েছেন নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর এই অনন্য সুযোগ। ময়মনসিংহের নান্দাইল ও গৌরীপুর এবং নেত্রকোনার বারহাট্টা, সদর ও দুর্গাপুর উপজেলার মোট ১০০ অসচ্ছল নারীকে তিন মাসের প্রশিক্ষণ প্রদান শেষে একটি করে সেলাই মেশিন উপহার দিয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপ। নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও পারিবারিক আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে এই কর্মসংস্থানমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়।
সম্প্রতি নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌর শহরের কমরেড মণি সিংহ স্মৃতি জাদুঘরের মিলনায়তনে এই সেলাই মেশিন বিতরণ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক, বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ও বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রধান ইমদাদুল হক মিলন।
উপজেলা বসুন্ধরা শুভসংঘের সভাপতি মো. জামাল তালুকদারের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের উপদেষ্টা মো. মাসুম বিল্লাহর পরিচালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহমেদ সাদাত, দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ, প্রেস ক্লাবের সভাপতি তোবারক হোসেন, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, সিপিবির জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলকাছ উদ্দিন মীর, উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম, বসুন্ধরা শুভসংঘের সিনিয়র উপদেষ্টা এস এম রফিকুল ইসলাম রফিক এবং নির্মলেন্দু সরকার বাবুলসহ অন্যান্য গুণীজনেরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইমদাদুল হক মিলন বলেন, অসচ্ছল নারীদের স্বাবলম্বী করাই বসুন্ধরা গ্রুপের প্রধান উদ্দেশ্য। উপহার হিসেবে পাওয়া সেলাই মেশিনকে কাজে লাগিয়ে নারীরা নিজেরা উপার্জন করতে পারবেন, যা পরিবারে আর্থিক সমৃদ্ধি আনার পাশাপাশি সমাজে তাঁদের অবস্থান সুদৃঢ় করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইতিপূর্বে বসুন্ধরা গ্রুপের সেলাই মেশিন পেয়ে অনেক নারী উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন এবং নতুন নতুন মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ সাদাত বসুন্ধরা শুভসংঘের এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, কেবল সেলাই মেশিন বিতরণ নয়, বরং দীর্ঘ প্রশিক্ষণ দিয়ে নারীদের দক্ষ কারিগর হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়টি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এর মাধ্যমে নারীরা নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখবেন।
প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এই ১০০ নারী সেলাই মেশিন পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, এটি কেবল একটি কাজের মাধ্যম নয়, বরং নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর হাতিয়ার। অর্জিত দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দারিদ্র্য জয় করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তাঁরা।