মফস্বল থেকে স্বপ্নের উড়াল।। বিভাগসেরা আলমডাঙ্গা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের লক্ষ্য এবার দেশসেরা হওয়ার
সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
মফস্বল থেকে স্বপ্নের উড়াল।। বিভাগসেরা আলমডাঙ্গা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের লক্ষ্য এবার দেশসেরা হওয়ার
রহমান মুকুল: সীমিত অবকাঠামো, সীমাবদ্ধ সম্পদ আর মফস্বল বাস্তবতার নানা চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে আবারও খুলনা বিভাগের সেরা বিদ্যালয় নির্বাচিত হয়েছে আলমডাঙ্গা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
কেবল একটি বিদ্যালয় নয়, এটি এখন আলমডাঙ্গার শিক্ষাগত সম্ভাবনার এক উজ্জ্বল প্রতীক।
গত ১ মে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় মূল্যায়নে বিদ্যালয়টি খুলনা বিভাগের শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি অর্জন করে। বর্তমানে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে বিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদল ঢাকায় যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর। সেখানে দেশসেরার মুকুট জয়ের লড়াইয়ে অংশ নেবেন তারা।
এ নিয়ে প্রথমবার নয়। এর আগেও একাধিকবার বিভাগসেরা হয়ে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছে আলমডাঙ্গা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। তবে এবারের অর্জনকে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা দেখছেন দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে।
বিদ্যালয়টির এই সাফল্যের পেছনে সবচে' বেশি যে নামটি উচ্চারিত হচ্ছে, তিনি প্রধান শিক্ষক হারেছ উদ্দীন। তাঁর নেতৃত্ব, পরিকল্পনা ও নিরলস পরিশ্রমে বিদ্যালয়টি ধীরে ধীরে সত্যিকার অর্থে খুলনা বিভাগে একটি মডেল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠেছে। শুধু প্রধান শিক্ষক নন, বিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষক নিজেদের সর্বোচ্চ সামর্থ্যের শূন্যতাটুকু উজাড় করে দিয়ে শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
শিক্ষকদের ভাষায়, একটি বিদ্যালয়কে সেরা করার জন্য শুধু ভালো ফলাফল যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, সহশিক্ষা কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ, অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা এবং একটি ইতিবাচক শিক্ষাবান্ধব সংস্কৃতি গড়ে তোলার । আলমডাঙ্গা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সেই সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে বলেই ধারাবাহিকভাবে সাফল্য অর্জন করছে।
প্রধান শিক্ষক হারেছ উদ্দীন বলেন, “এই অর্জন কোনো একক ব্যক্তির নয়। এটি আমাদের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষা প্রশাসনের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। আমরা সবসময় চেষ্টা করেছি শিশুদের জন্য একটি আনন্দময় ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে। বিভাগসেরা হওয়া আমাদের জন্য গর্বের, তবে এখানেই থেমে থাকতে চাই না। জাতীয় পর্যায়েও যেন আলমডাঙ্গা-চুয়াডাঙ্গার মুখ উজ্জ্বল করতে পারি, সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, “মফস্বলের একটি বিদ্যালয় থেকেও যে বড় স্বপ্ন দেখা যায় এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব—আমরা সেটিই প্রমাণ করতে চাই। আমাদের শিক্ষকরা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও অসাধারণ নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন। আশা করছি, জাতীয় পর্যায়েও আমরা ভালো ফল অর্জন করতে পারব।
বিদ্যালয়ের এক অভিভাবক মোছা. রোকেয়া খাতুন বলেন, “আগে সরকারি বিদ্যালয় নিয়ে অনেকের মধ্যে দ্বিধা ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে আলমডাঙ্গা মডেল স্কুলের সাফল্য দেখে আমরা গর্ববোধ করি। এখানকার শিক্ষকরা শুধু পাঠদান করেন না, শিশুদের মানুষ হিসেবেও গড়ে তুলতে কাজ করেন। আমাদের সন্তানরা আনন্দের সঙ্গে স্কুলে যায়। বিভাগসেরা হওয়ার খবর পুরো এলাকার জন্যই আনন্দের।”
স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের মতে, ধারাবাহিক এই সাফল্য শুধু একটি বিদ্যালয়ের অর্জন নয়; এটি আলমডাঙ্গার শিক্ষাব্যবস্থার জন্যও একটি ইতিবাচক বার্তা। জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় বিদ্যালয়টির অংশগ্রহণ এখন গোটা উপজেলার মানুষের প্রত্যাশা ও গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছে।
ঢাকার জাতীয় প্রতিযোগিতায় কী ফল আসবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে একটি বিষয় ইতোমধ্যেই স্পষ্ট—মফস্বলের একটি বিদ্যালয় তার নিষ্ঠা, পরিশ্রম ও স্বপ্নের শক্তিতে বারবার প্রমাণ করছে, উৎকর্ষের কোনো ভৌগোলিক সীমারেখা নেই।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
সুনামগঞ্জ থেকে হেলিকপ্টারে করে বিয়ে করতে আসলেন চুয়াডাঙ্গায়
৫৫ মিনিট আগে
আলমডাঙ্গায় প্রবাসী ব্যবসায়ী মেয়র প্রার্থী হাসিবুল হক লিপুর উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও ডাস্টবিন স্থাপন
১ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় ফুটপাত ও ব্রিজ দখলমুক্ত করতে অভিযান; আনন্দধামের ঝুঁকিপূর্ণ দোকান সরানোর নির্দেশ
১৪ ঘন্টা আগে