সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
ঝিনাইদহে বেপরোয়া মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ২০ মাসের শিশুর মৃত্যু, বিচার দাবি পরিবারের
ঝিনাইদহে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর জেরে প্রাণ হারিয়েছে ২০ মাস বয়সী এক শিশু। নিহত শিশুর নাম রিক্তা খাতুন। গত ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শহরের তামান্না পার্ক এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোটরসাইকেল চালক রায়হান ও তার স্ত্রী জ্যোতি খাতুনকে শনাক্ত করা গেলেও পুলিশ এখনো তাদের গ্রেফতার করতে পারেনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার দিন সন্ধ্যায় চরমুরারীদহ গ্রামের প্রবাসী রেজাউল ইসলামের স্ত্রী তার ২০ মাস বয়সী শিশু কন্যা রিক্তাকে নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময় শৈলকুপার দুধসর গ্রামের রানা জোয়ার্দ্দারের ছেলে রায়হান ও তার স্ত্রী জ্যোতি খাতুনকে পেছনে বসিয়ে দ্রুত গতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে শহরের দিকে যাচ্ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, অসতর্কভাবে কথা বলতে বলতে মোটরসাইকেল চালানোর কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তারা শিশু রিক্তাকে সজোরে ধাক্কা দেয় এবং ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়।
ধাক্কার চোটে পিচঢালা রাস্তায় ছিটকে পড়ে গুরুতর জখম হয় শিশুটি। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার স্বার্থে চিকিৎসকরা তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। তবে ফরিদপুর নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে অবুঝ এই শিশুটি।
canবিযুক্তদের শনাক্ত করা গেলেও এখনো তারা রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। ঘটনার পর বেশ কিছুদিন পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তদের গ্রেফতার না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহত শিশুর প্রবাসী বাবা রেজাউল ইসলাম। তিনি হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, আমার ফুটফুটে কন্যাসন্তানটিকে মোটরসাইকেল দিয়ে ধাক্কা দিয়ে হত্যা করার পরও এখনো বখাটে রায়হান আটক হয়নি। আমি আমার সন্তান হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদউজ্জামান জানান, শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।