আলমডাঙ্গায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ও পশুহাটের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এমপি রাসেলের।। মাঠে নেমে ‘দলিল লেখক সমিতি’ ও সিন্ডিকেট ভাঙার ঘোষণা, পৌর পশুহাট উন্মুক্ত নিলামের নির্দেশ
সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
সংসদ সদস্য | আলমডাঙ্গায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ও পশুহাটের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এমপি রাসেলের।। মাঠে নেমে ‘দলিল লেখক সমিতি’ ও সিন্ডিকেট ভাঙার ঘোষণা, পৌর পশুহাট উন্মুক্ত নিলামের নির্দেশ
দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধে সরাসরি মাঠে নেমেছেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. মাসুদ পারভেজ রাসেল। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তিনি আলমডাঙ্গা উপজেলা কৃষি অফিস, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ও আলমডাঙ্গা পৌরসভা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং দুর্নীতি-অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
দুপুর সাড়ে ১২টার পর এমপি রাসেল আলমডাঙ্গা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে দেখতে পান, সাব-রেজিস্ট্রার এস এম হাবিবুল্লাহ অফিসে উপস্থিত নেই।
এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস জনগণের সেবার জায়গা। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ জমি সংক্রান্ত কাজ নিয়ে এখানে আসেন। কিন্তু অনেক সময় সকাল থেকে সারাদিন বসে থাকতে হয়—এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি সাব-রেজিস্ট্রারসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে অফিস সময় মেনে উপস্থিত থেকে দ্রুত, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত সেবা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
একই সঙ্গে সাধারণ জনগণকে উদ্দেশ করে এমপি রাসেল বলেন, জমি রেজিস্ট্রির ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত ফি ছাড়া কোনো অতিরিক্ত টাকা দেবেন না। যে টাকা দেবেন, তার সরকারি রশিদ বুঝে নেবেন। দলিল লেখকদের পারিশ্রমিক ও নকল নবীশরা সরকার নির্ধারিত টাকাই নেবেন।
রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে অর্থ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান জানিয়ে তিনি বলেন,
“রাজনীতি মানে জনগণের সেবা করা। জনগণের কাছ থেকে অবৈধ অর্থ নেওয়া যাবে না। সকল রাজনৈতিক দলের কর্মী—আমাদের হোক বা অন্য দলের—সবার প্রতি এই আহ্বান।
সবচে বড় দুর্নীতির কেন্দ্র আলমডাঙ্গা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক সমিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, আলমডাঙ্গা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে আমরা আর কোনো নেতৃবৃন্দের কাছে টাকা-পয়সা নিয়ে ভাগবাটোয়ারা চলতে দেব না। এই ভাগবাটোয়ারা বন্ধ হতে হবে। যেটা সরকারি ফি, সে অনুযায়িই কাজ হবে। অনৈতিকভাবে ইনকাম করা টাকা কোনো কাজে আসে না।
দলিল লেখক সমিতি প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন,
“দলিল লেখক সমিতির নামে জনগণকে জিম্মি করা হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সমিতির নামে টাকার অনুপাত হারে কোনো অর্থ আদায় করা যাবে না। আমরা এই সমিতি ব্যবস্থা দেখতে চাই না।
তিনি আরও বলেন, জনগণ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে টাকা জমা দিয়ে সেবা নেবে—এটাই আমাদের লক্ষ্য। এই অফিস থেকে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান, দপ্তর বা রাজনৈতিক সংগঠন লাভবান হবে—এটা আমরা মেনে নেব না।”
কৃষি অফিসে কৃষকবান্ধব নির্দেশনা উপজেলা কৃষি অফিস পরিদর্শনকালে এমপি রাসেল কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাসুদ হোসেন পলাশের সঙ্গে বাজার নিয়ন্ত্রণ, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, সার-বীজ সরবরাহ ও সেচ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করেন।
তিনি বলেন, কৃষকদের সঠিকভাবে সার ও বীজ দিতে হবে। আলমডাঙ্গার কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে।”
সর্বশেষ আলমডাঙ্গা পৌরসভা পরিদর্শনে এমপি রাসেল বলেন,
“পৌর এলাকার রাস্তা-ঘাট ও ড্রেনের কাজ নিয়মিত তদারকি করতে হবে। জনগণের টাকায় জনগণের উন্নয়ন হবে। কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না।
তিনি জানান, আলমডাঙ্গা পৌরসভার অধীনে থাকা হাট-বাজারগুলো দীর্ঘদিন ধরে সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে ছিল। সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে সুবিধাবাদীরা ভোগ করছিল।
“এখন থেকে সব হাট ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে ইজারা দেওয়া হবে। যে সর্বোচ্চ দর দেবে, সেই ইজারা পাবে।”—জানান এমপি রাসেল।
বিশেষ করে দেশের অন্যতম বড় আলমডাঙ্গা পৌর পশুহাটের বিষয়ে তিনি কঠোর নির্দেশনা দেন। প্রায় ৯–১০ বছর ধরে সিন্ডিকেটের দখলে থাকা এই পশুহাটে উন্মুক্ত নিলাম বন্ধ রাখতে সম্প্রতি আদালতে রিট করে একটি চক্র। আদালতের নির্দেশনাকে ব্যবহার করে নিলাম স্থগিত রাখার চেষ্টা চলছিল।
এমপি রাসেল এই ষড়যন্ত্রে কার্যত পানি ঢেলে দিয়ে পৌর প্রশাসককে নিয়ম মেনে পশুহাট ইজারা এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সব তথ্য সরবরাহের নির্দেশনা দেন।
দীর্ঘদিন ধরে চলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক সমিতি ও পৌর পশুহাটের দুর্নীতি বন্ধে এমপি রাসেলের এই দুইটি পদক্ষেপকে আলমডাঙ্গাবাসী সাধুবাদ জানিয়েছেন। সাধারণ মানুষের মতে, জনগণের ইচ্ছার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সাহসী অবস্থান নেওয়ায় এমপি রাসেলের গ্রহণযোগ্যতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার, কৃষিবিদ মাসুদ হোসেন পলাশ, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ মাহমুদ, উপজেলা প্রকৌশলী তাওহীদ আহমেদ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শারমিন আক্তারসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
সুনামগঞ্জ থেকে হেলিকপ্টারে করে বিয়ে করতে আসলেন চুয়াডাঙ্গায়
২ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় প্রবাসী ব্যবসায়ী মেয়র প্রার্থী হাসিবুল হক লিপুর উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও ডাস্টবিন স্থাপন
৩ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় ফুটপাত ও ব্রিজ দখলমুক্ত করতে অভিযান; আনন্দধামের ঝুঁকিপূর্ণ দোকান সরানোর নির্দেশ
১৬ ঘন্টা আগে