আলমডাঙ্গায় জলাবদ্ধতা নিরসনে ফজলুল হক খাল পুনঃখননের উদ্যোগ, ৩ কিলোমিটার খাল পরিদর্শনে জেলা পরিষদ প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ
সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
আলমডাঙ্গায় জলাবদ্ধতা নিরসনে ফজলুল হক খাল পুনঃখননের উদ্যোগ, ৩ কিলোমিটার খাল পরিদর্শনে জেলা পরিষদ প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ
আলমডাঙ্গা পৌরসভার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশন সমস্যার স্থায়ী সমাধানে ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাস্টার প্লানের অংশ হিসেবে প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ফজলুল হক খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ পৌর এলাকার পশুহাট থেকে ডামোশ পর্যন্ত খালের দখলকৃত ও ভরাট হয়ে যাওয়া বিভিন্ন অংশ সরেজমিন পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন শেষে জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, "আলমডাঙ্গা পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের অন্যতম সমস্যা জলাবদ্ধতা। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য ফজলুল হক খাল পুনঃখনন অত্যন্ত জরুরি। প্রায় ৩ কিলোমিটার ফজলুল হক খাল খনন করা হবে। খালটি পুনঃখনন সম্পন্ন হলে পৌর এলাকার সব ড্রেনের সংযোগ এ খালের সঙ্গে দেওয়া হবে। এতে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা দূর হবে, বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হবে এবং শহরের পরিবেশেরও উন্নয়ন ঘটবে। একই সঙ্গে কৃষি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও এ খাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দখলমুক্ত করে দ্রুত খনন কাজ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।"
তিনি আরও বলেন, "এটি শুধু একটি খাল খননের প্রকল্প নয়, বরং আলমডাঙ্গা পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ নিরসনের একটি বাস্তব উদ্যোগ। সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতায় কাজটি দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।"
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক শাহীনুর আক্তার বলেন, "পৌর এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা আধুনিক ও কার্যকর করতে ফজলুল হক খালকে কেন্দ্র করেই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পৌর এলাকার সব ড্রেনের সংযোগ এই খালের সঙ্গে দেওয়া হবে। এতে শহরের জলাবদ্ধতা কমবে এবং বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।"
জানা গেছে, আলমডাঙ্গা পৌরসভার জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি সমন্বিত ড্রেনেজ মাস্টার প্লানের দাবি দীর্ঘদিনের। সেই পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ফজলুল হক খাল দখলমুক্ত করে পুনঃখননের দাবি দীর্ঘদিন ধরে পৌরবাসী ও সচেতন মহলের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছিল। অতীতে প্রশাসনিক উদাসীনতা, খাল দখল এবং অব্যবস্থাপনার কারণে উদ্যোগটি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমান পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনুর আক্তারের উদ্যোগে খালটি দখলমুক্ত করে পুনঃখননের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় স্থানীয়দের মধ্যে আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছে।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ বানী ইসরাঈল, উপজেলা প্রকৌশলী তাওহীদ আহমেদ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মৌদুদ আলম খাঁ, পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মাহফুজুর রহমান রানা, উপসহকারী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী বকুল আহমেদ, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আক্তার হোসেন জোয়ার্দ্দার, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক রোকন, পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান পিন্টু, উপজেলা জামায়াতের আমীর শফিউল আলম বকুল, পৌর আমীর মাহের আলী, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মামুন রেজা, পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি মাগরিবুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক মহাবুল হক মাস্টার ও আসিফ আল নূর তানিম, মকলেছুর রহমান মিলন, পৌর কৃষক দলের সদস্য সচিব প্রিন্স, উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মীর আসাদুজ্জামান উজ্জ্বল, সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক নাজিম উদ্দিন মোল্লা, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক চৌধুরী জাহাঙ্গীর আলম বাবু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাজু, যুগ্ম আহ্বায়ক তৌফিক খান, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জাহিদ হাসান শুভ, সদস্য সচিব আতিক হাসনাত রিংকু, পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব মাহমুদুল হাসান তন্ময়সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গ।
এদিকে, সচেতন এলাকাবাসীর মতে, শুধু ফজলুল হক খাল পুনঃখননই নয়, আলমডাঙ্গা পৌর শহরের জলাবদ্ধতা দূর করতে অন্যান্য খাল, জলাশয় ও পুকুর পুনরুদ্ধার এবং উন্মুক্ত রাখা জরুরি। একই সঙ্গে অপরিকল্পিত ড্রেন নির্মাণ বন্ধ করে প্রশস্ত ও সংযুক্ত ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, অসম্পূর্ণ ড্রেনগুলোকে বড় ড্রেনের সঙ্গে সংযুক্ত করা এবং বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য প্রয়োজনীয় স্ল্যাব ও গ্রেটিং স্থাপন করা প্রয়োজন।
এছাড়া ড্রেনে পলিথিন, প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য ফেলা বন্ধে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা, নির্দিষ্ট স্থানে ডাস্টবিন স্থাপন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং যত্রতত্র স্থাপনা নির্মাণ বন্ধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা। তাদের মতে, শহরের ভেতরের পুকুর, খাল ও জলাধার কোনোভাবেই ভরাট করা যাবে না। এগুলো প্রাকৃতিক জলাধার হিসেবে অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি ধারণ করে জলাবদ্ধতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সচেতন মহলের অভিমত, ফজলুল হক খাল পুনঃখননের এ উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করা গেলে আলমডাঙ্গা পৌরসভার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পথ অনেকটাই সুগম হবে। পাশাপাশি জলাধার দখল ও ভরাটের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং নতুন ভবন নির্মাণে নিজস্ব বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হলে ভবিষ্যতে টেকসই নগর ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা সম্ভব।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
আলমডাঙ্গায় এসএসসি টেস্টের ইংরেজি প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে কোচিং পরিচালকসহ আটক ২ : মুচলেকায় মুক্তি
২ ঘন্টা আগে
রাসেল মিয়া
৩ ঘন্টা আগে
দর্শনা কেরু ট্রেনিং কমপ্লেক্সে সিডিএ ও সিআইসিদের মতবিনিময় ও প্রশিক্ষণ সভা
৪ ঘন্টা আগে