সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
দেশবিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্রের উপযুক্ত জবাব দেবে জনগণের রাজনৈতিক ঐক্য | প্রধানমন্ত্রী
দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে নাশকতা ও চক্রান্তের মাধ্যমে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার যেকোনো অপচেষ্টা সর্বস্তরের মানুষকে সাথে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, অভ্যন্তরীণ কিংবা বৈদেশিকভাবে সংগঠিত কোনো ধরনের চক্রান্তই দেশের জনগণের ইস্পাতকঠিন ঐক্য ও অগ্রযাত্রাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে দেশের সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপনের শোভাযাত্রাপূর্ব বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে বলেন, দেশি ও বিদেশি সকল চক্রান্তের উপযুক্ত জবাব জনগণের সম্মিলিত ঐক্যের মাধ্যমেই প্রদান করা হবে। ঐতিহাসিকভাবেই বাংলাদেশের স্বাধীনচেতা জনগণ কখনো কোনো অন্যায় কিংবা অপশক্তির সামনে মাথা নত করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ের বিচ্ছিন্ন নাশকতা, ককটেল বিস্ফোরণ, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির পটভূমিতে প্রধানমন্ত্রীর এ মন্তব্য এলো। একই সাথে পোশাক খাতের চলমান শ্রমিক অসন্তোষ, বিরোধী রাজনৈতিক জোটগুলোর সরকারবিরোধী লংমার্চ এবং পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ঘিরে নাগরিক সমাজে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
সরকারের নীতি নির্ধারণী মহল থেকে দাবি করা হচ্ছে, পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের বকেয়া বা বিভিন্ন যৌক্তিক আন্দোলনকে ব্যবহার করে নির্দিষ্ট কিছু চক্রান্তকারী গোষ্ঠী দেশে অস্থিতিশীলতা ও অরাজকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। মন্ত্রী ও সরকারি উপদেষ্টারা অভিযোগ করেছেন যে, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, তাদের সহযোগী অঙ্গসংগঠন ও আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীরা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে কারখানাগুলোতে বিশৃঙ্খলা উসকে দিচ্ছে।
তবে অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং তৈরি পোশাক শিল্পের ভেতরের নানা কাঠামোগত সমস্যাও এই শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে ভূমিকা রাখছে বলে খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা মনে করছেন। ফলে পোশাক খাতের বাস্তবমুখী সংকট ও রাজনৈতিক উসকানির দ্বিবিধ প্রভাব নিয়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।
সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, আগামী ডিসেম্বর মাসকে লক্ষ্য রেখে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী সরকারকে রাজনৈতিক চাপে ফেলতে পোশাকশ্রমিকদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার পাঁয়তারা করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, মিরপুর, আশুলিয়া ও গাজীপুরের শ্রমঘন অঞ্চলগুলোতে চলা আন্দোলনে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে নিষিদ্ধ দলগুলোর কিছু সদস্য ছদ্মবেশে অংশ নিচ্ছে।
গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে সরকারি কর্মকর্তারা জানান, ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রাক্তন একাধিক সংসদ সদস্য-মন্ত্রীর অনুসারীরা অসন্তোষে ঘি ঢালার কাজ করছেন। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের ক্যাডাররা আন্দোলনরত শ্রমিকদের মধ্যে মিশে গিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটাতে তৎপর রয়েছে।
এমন প্রেক্ষাপটে দেশের সর্বস্তরের রাজনৈতিক শক্তির মাঝে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব আরও জোরালো হয়েছে। তবে বিরোধী শিবিরের লাগাতার সরকারবিরোধী নানা কর্মসূচি বাস্তব পরিস্থিতিকে কিছুটা জটিল করে তুলেছে বলেও অভিমত অনেকের।
জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিতকরণ, গণভোটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল, গ্যাস ও সারের দাম কমানোসহ ৭ দফা দাবিতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোট দেশব্যাপী লংমার্চ কর্মসূচি পালন করছে। গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে এই কর্মসূচি শুরু হয়ে রংপুরের পর সম্প্রতি ৩১ অক্টোবর ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া অভিমুখে লংমার্চ সম্পন্ন করে জোটটি।
উক্ত সমাবেশগুলোতে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সহ ১১ দলের প্রথম সারির নেতারা সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমুখী নীতির কড়া সমালোচনা করেন। পরবর্তীতে দেশের রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট ও ময়মনসিংহেও একইভাবে কর্মসূচি সম্প্রসারণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
ক্ষমতা গ্রহণের স্বল্প সময়ের ব্যবধানে বিরোধী শিবির থেকে রাজপথে এত কঠোর কর্মসূচি দেওয়ায় দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, মূলধারার রাজনীতিতে তীব্র বিভাজন ও সংঘাত বজায় থাকলে পলাতক শক্তি ও নাশকতাকারীরা নাশকতা সৃষ্টির বাড়তি সুযোগ পাবে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক দিনে রাজধানীর আদাবর, শাহবাগ, বিমানবন্দর, খিলগাঁও এবং মিরপুরের কালশীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গভীর রাতে একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি প্রগতি সরণিতে যাত্রীবাহী বাস ও রায়েরবাজারে কুরিয়ার সার্ভিসের কাভার্ড ভ্যানে অগ্নিসংযোগের ফলে জনমনে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশের সকল দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজকে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই ঐক্যের আহ্বান দেশের সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।