অন্ধকার পেরিয়ে আলোর পথে আলমডাঙ্গায় ২ শতাধিক রোগীর চোখে নতুন দৃষ্টি
সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
অন্ধকার পেরিয়ে আলোর পথে আলমডাঙ্গায় ২ শতাধিক রোগীর চোখে নতুন দৃষ্টি
অন্ধকারে ডুবে থাকা জীবনে যখন আলো ফিরে আসে, তখন তা শুধু চিকিৎসা নয় একটি নতুন জীবনের সূচনা। ঠিক তেমনই এক মানবিক প্রয়াসে আলমডাঙ্গায় প্রায় দুই শতাধিক ছানি রোগীর চোখে ফিরেছে নতুন দৃষ্টি।
বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল ২০২৬) সকালে শহরের হাজী মোড়ে আমেরিকা প্রবাসী গবেষক ও সমাজসেবক শেখ আব্দুল কাদিরের বাড়ির চত্বরে অনুষ্ঠিত হয় বিনামূল্যে ছানি অপারেশন-পরবর্তী ফলোআপ চিকিৎসা শিবির। এতে অংশ নেন অপারেশন সম্পন্ন করা প্রায় ২০০ রোগী। চিকিৎসা শেষে প্রত্যেককে ওষুধ কেনা ও যাতায়াত খরচের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
জানা যায়, গত ১ এপ্রিল আয়োজিত চক্ষু শিবিরে প্রায় ৯০০ মানুষ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় পরীক্ষায় শনাক্ত হয় দুই শতাধিক ছানি রোগী। পরবর্তীতে তাদের সম্পূর্ণ বিনা খরচে যশোরে নিয়ে গিয়ে সফলভাবে অপারেশন সম্পন্ন করা হয় এবং নিরাপদে নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। ১৫ দিন পর সেই রোগীদের ডেকে এনে আবারও ফলোআপ চিকিৎসা দেওয়া হয় যা প্রমাণ করে, এ উদ্যোগ কেবল এক দিনের নয়, বরং একটি দায়িত্বশীল মানবিক যাত্রা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আমেরিকাপ্রবাসী গবেষক ও সমাজসেবক শেখ আব্দুল কাদির। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন। তিনি বলেন, গ্রামাঞ্চলের মানুষ এখনো বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত। চোখের চিকিৎসা তো আরও বেশি অবহেলিত। এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে।
তিনি আরও বলেন, বিনামূল্যে ছানি অপারেশনের মাধ্যমে প্রায় ২০০ মানুষ অন্ধত্বের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পেয়েছে এটি মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সমাজের বিত্তবানরা এভাবে এগিয়ে এলে দেশের স্বাস্থ্যখাত আরও শক্তিশালী হবে।
তিনি নীলা শুকতারা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আলমডাঙ্গায় একটি চক্ষু হাসপাতাল নির্মাণ পরিকল্পনারও ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং সরেজমিনে নির্মানাধীন হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এটি বাস্তবায়িত হলে স্থানীয়দের আর দূরে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হবে না সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক শেখ সাইফুল ইসলাম, সাদ্দাম খান, জন আলফসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
আয়োজকরা জানান, মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয়দের ভাষায়, এই আয়োজন যেন “অন্ধকারের বুক চিরে উঠে আসা এক টুকরো সকালের সূর্য, যেখানে আলো মানে শুধু দেখা নয়, নতুন করে বাঁচা।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
আলমডাঙ্গায় এসএসসি টেস্টের ইংরেজি প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে কোচিং পরিচালকসহ আটক ২ : মুচলেকায় মুক্তি
৭ ঘন্টা আগে
রাসেল মিয়া
৮ ঘন্টা আগে
দর্শনা কেরু ট্রেনিং কমপ্লেক্সে সিডিএ ও সিআইসিদের মতবিনিময় ও প্রশিক্ষণ সভা
৯ ঘন্টা আগে