নবগঙ্গা নদীতে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ড্রেনেজ লাইন
সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
দখল ও বর্জ্যে মৃতপ্রায়, যুক্ত হচ্ছে ড্রেন | মাথাভাঙ্গার পর এবার নবগঙ্গা নদী মারার আয়োজন
চুয়াডাঙ্গা হয়ে ঝিনাইদহে বয়ে যাওয়া নবগঙ্গা নদীটি এখন অস্তিত্বসংকটে ভুগছে। একসময়ের খরস্রোতা এই নদীটি দখল আর দূষণে এখন মৃতপ্রায়। ঐতিহ্যবাহী মাথাভাঙ্গা নদী থেকে উৎপত্তি হওয়া এই নদীর চলতি দৈর্ঘ্যের প্রায় ২২ কিলোমিটার অংশ রয়েছে চুয়াডাঙ্গায়। একসময় যে নদী পানিতে কানায় কানায় পূর্ণ থাকত, সেখানে এখন কেবলই হাঁটু পানি। প্রমত্তা নবগঙ্গার এমন করুণ দশার মধ্যেই নতুন করে যুক্ত হয়েছে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ড্রেনেজ লাইন, যা নদীটির কফিনে শেষ পেরেক ঠুকতে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নবগঙ্গা নদীর সঙ্গে সম্প্রতি চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার বেশ কয়েকটি ড্রেনেজ লাইন যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে ড্রেনের মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গা শহরের দূষিত পানি, প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন, ক্ষতিকর রাসায়নিক ও গৃহস্থালির বর্জ্য সরাসরি গিয়ে পড়ছে নদীতে। শুধু তাই নয়, স্থানীয় কাঁচাবাজার এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য ফেলার ভাগাড়ে পরিণত হতে চলেছে নদীটি। এর পাশাপাশি চলছে অবৈধ দখলের উৎসব। নদীর দুই পাড়ের বিস্তীর্ণ জমি স্থানীয় প্রভাবশালীরা নিজেদের দখলে নিয়ে নিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে ইতোমধ্যে মাথাভাঙ্গা নদীর বেহাল দশা হয়েছে। শহরের সব ময়লা-আবর্জনা ও ড্রেনের পানি গিয়ে পড়ছে সেখানে। এখন আবার নতুন করে নবগঙ্গা নদীতে ড্রেনের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে এই নদীটির অস্তিত্ব চরম হুমকির মুখে পড়েছে। দ্রুতই নদীর পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়বে, ধ্বংস হবে জলজ জীববৈচিত্র্য এবং আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ পরিবেশ দূষণ দেখা দেবে। এখনই কর্তৃপক্ষ কঠোর ব্যবস্থা না নিলে অচিরেই নদীটি মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।
নদীতে ড্রেনের সংযোগ দেওয়ার বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার জন্যই এই ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। সাধারণত ড্রেনের সংযোগ লাইন কোনো না কোনো নদীতেই দেওয়া হয়ে থাকে। আমাদের বিকল্প কোনো জায়গা বা ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই এটা করতে হচ্ছে। তবে দূষণ ও ময়লা-আবর্জনার কারণে যেন নদীর বড় কোনো ক্ষতি না হয়, সে বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে দেখছি।’
যোগাযোগ করা হলে চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ আহমেদ বলেন, ‘নবগঙ্গা নদীর সঙ্গে ড্রেনের লাইনের সংযোগ দেওয়ার বিষয়টি আমরা জেনেছি। এছাড়া একশ্রেণির অসাধু লোক নদীর জায়গা অবৈধভাবে দখলও করেছে। নদী দখল ও দূষণ যেন না হয়, সে বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করছে। নদীর পানি ও পরিবেশ রক্ষায় আমরা দ্রুতই পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।’
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
আলমডাঙ্গায় ফিরোজা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও লোকমান হোসেন প্রাইভেট হাসপাতালে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা : দুইটি ক্লিনিকের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ
১১ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব
১১ ঘন্টা আগে
দামুড়হুদায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আ.লীগ নেতা মামুন গ্রেপ্তার
১৪ ঘন্টা আগে