সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
লালমনিরহাটে বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে ১০০ নারীর স্বাবলম্বী হওয়ার নতুন স্বপ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
লালমনিরহাটে বসুন্ধরা শুভসংঘের মহতি উদ্যোগে সেলাই মেশিন হাতে পেয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে ১০০ অসচ্ছল নারীর জীবনে। তিন মাসব্যাপী বিনামূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণ শেষে গত ২৫ অক্টোবর দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে ঘরে বসেই আয় করে নিজেদের ও পরিবারের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে অবদান রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে তাঁদের।
লালমনিরহাট জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে আয়োজিত এই সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অনেক সুবিধাভোগী নারী। কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী এলাকার গৃহবধূ সাজেদা বেগম উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “আমি আজ অনেক খুশি, আমার স্বপ্ন পূরণ হলো। এখন বাড়িতে বসে কাজ করে আমার তিন ছেলেমেয়ের লেখাপড়ায় সহযোগিতা করতে পারব এবং সংসারেও আর্থিকভাবে অবদান রাখতে পারব।”
বসুন্ধরা শুভসংঘের ‘অসচ্ছল নারীদের স্বাবলম্বী করার’ কর্মসূচির আওতায় জেলার পাঁচটি উপজেলার মোট ১০০ জন নারীকে এই সেলাই মেশিন প্রদান করা হয়। এর আগে তাঁদের প্রত্যেককে তিন মাসের নিবিড় সেলাই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল, যাতে তাঁরা প্রশিক্ষণ শেষে অবিলম্বে কাজ শুরু করতে পারেন।
সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক প্রধান। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রধান ও বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন, বসুন্ধরা শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান, লালমনিরহাট শুভসংঘের উপদেষ্টা অধ্যক্ষ এন্তাজুর রহমান ও সুনীল কুমার সূত্রধর, সভাপতি জামাল হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক নাঈম ইসলাম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন লালমনিরহাট শুভসংঘের উপদেষ্টা তন্ময় আহমেদ নয়ন।
জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক প্রধান তাঁর বক্তব্যে বসুন্ধরা শুভসংঘের এমন অনুপ্রেরণাদায়ক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “একসঙ্গে এতজন নারীকে স্বাবলম্বী করার এই প্রচেষ্টা সত্যিই বিরল এবং এটি সরকারি উদ্যোগকেও এগিয়ে নিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। বসুন্ধরার এই কার্যক্রম দেশের সামগ্রিক অগ্রগতিতে অবদান রাখবে।”
জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক মন্তব্য করেন, “বসুন্ধরা সব সময়ই মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং তাদের জনহিতকর কাজগুলো সত্যিই প্রশংসনীয়। দেশের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান।”
বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রধান ইমদাদুল হক মিলন জানান, লালমনিরহাটে এটি দ্বিতীয় দফায় ১০০ নারীকে সেলাই মেশিন প্রদান। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অর্থের অভাবে পড়াশোনা বন্ধ হওয়া তিন হাজার শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদানের কার্যক্রমও বসুন্ধরা শুভসংঘ পরিচালনা করছে। তিনি বলেন, “আমাদের শুভসংঘের বিভিন্ন স্থানে পাঠাগারও রয়েছে। এই সেলাই মেশিন প্রাপ্ত নারীরা শুধু নিজেদের স্বাবলম্বী করবেন না, অন্য নারীদেরও প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তুলতে পারবেন। নারীরা সব ক্ষেত্রেই অগ্রগামী, মনোবল নিয়ে তাঁদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।”
আদিতমারী উপজেলার তিস্তাতীরবর্তী মহিষখোচা এলাকার শিক্ষার্থী হিমু আক্তার জানান, অর্থাভাবে তাঁর কলেজের পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। বসুন্ধরা শুভসংঘের সহায়তায় এখন তিনি অন্যের পোশাক সেলাই করে আয় করে নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবেন। তিনি বসুন্ধরার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আরেক সুবিধাভোগী শিউলী রানী বলেন, অসুস্থ স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে তাঁর সংসার চালানো কঠিন ছিল। নিজের উপার্জনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা থাকা সত্ত্বেও সুযোগ পাচ্ছিলেন না। বসুন্ধরা শুভসংঘ তাঁর সেই সুযোগ করে দিয়েছে। তিনি বলেন, “বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ। এখন আমি পরিবারের হাল ধরতে পারব।”
এই সেলাই মেশিন প্রাপ্তির মধ্য দিয়ে নারীরা আশা করছেন, প্রশিক্ষণে অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে তাঁরা শুধু নিজেদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করবেন না, তাঁদের পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা আনবেন এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।