আলমডাঙ্গায় পুকুর খননের আড়ালে মাটি বিক্রির কারবার : এক্সেভেটরচালক ও চার লাটাহাম্বার আটক : ১ লাখ টাকা জরিমানা
সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
আলমডাঙ্গায় পুকুর খননের আড়ালে মাটি বিক্রির কারবার | এক্সেভেটরচালক ও চার লাটাহাম্বার আটক ও ১ লাখ টাকা জরিমানা
পুকুর খননের আড়ালে কৃষিজমির মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রির অভিযোগে আলমডাঙ্গার কালিদাসপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর মাঠে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় মাটি ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমানের ভাই হাসিবুল ইসলামকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত এক্সেভেটরচালকসহ চারটি লাটাহাম্বার আটক করে উপজেলা প্রশাসন।
শনিবার বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শ্রীরামপুর মাঠে এ অভিযান পরিচালনা করেন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহীনূর আক্তার। অভিযানে পাইকপাড়া ক্যাম্প পুলিশের সদস্যরা সহযোগিতা করেন।
উপজেলা প্রশাসনসূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়ার মাজিলা গ্রামের মাটি ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান শ্রীরামপুর গ্রামের কয়েকটি পুকুর খননের কাজ নিয়েছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, পুকুর খননের সীমা অতিক্রম করে মাঠের মাটি কেটে ট্রাকে করে ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছিল। এমন খবর পেয়ে প্রশাসনের টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাটি কাটা ও পরিবহনের কাজ বন্ধ করে দেয়।
অভিযানকালে একটি এক্সেভেটরের চালক এবং মাটি বহনের কাজে ব্যবহৃত চারটি লাটাহাম্বার আটক করা হয়। পরে অনুমতি ছাড়া মাটি কেটে বিক্রির দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমানের ভাই হাসিবুল ইসলামকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ পরিশোধের পর আটক চালক ও যানবাহন ছেড়ে দেওয়া হয়।
শ্রীরামপুরের মাঠে এ দৃশ্য যেন শুধু একটি অভিযানের ঘটনা নয়; এটি এলাকার মাটি বাণিজ্যের পুরোনো বাস্তবতারও প্রতিচ্ছবি। পুকুর খনন, জমি সমতলকরণ কিংবা উন্নয়নকাজের নাম সামনে থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে কৃষিজমির উর্বর উপরিভাগের মাটি চলে যায় ইটভাটার চুল্লিতে। মাঠে পড়ে থাকে গভীর গর্ত, ক্ষতিগ্রস্ত হয় জমির স্বাভাবিক গঠন ও কৃষির সম্ভাবনা।
ওয়াকিবহাল সূত্রগুলো বলছে, মাটি বিক্রির ব্যবসা অত্যন্ত লাভজনক হওয়ায় প্রশাসনের অভিযান, নিষেধাজ্ঞা ও জরিমানার পরও থামছে না একটি সক্রিয় চক্রের তৎপরতা। এই ব্যবসার পেছনে মাঠপর্যায়ে কিছু মধ্যস্বত্বভোগী ও দালালের ভূমিকার অভিযোগও রয়েছে। তারা জমির মালিক, ঠিকাদার, ইটভাটা ও পরিবহনকারীদের মধ্যে যোগাযোগ করিয়ে দিয়ে মাটি বাণিজ্যকে সচল রাখে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এমনকি তারা প্রশাসনকে ম্যানেজ করার দায়িত্ব নেন।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসন মাটি কাটার বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এলাকার সচেতন মানুষ। তাদের মন্তব্য, শুধু জরিমানা নয়—মাটি কাটা, পরিবহন, ইটভাটায় সরবরাহ এবং এ কাজে জড়িত দালালচক্র—সব স্তরে নজরদারি ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
স্থানীয়দের দাবি, কৃষিজমি ও পরিবেশ রক্ষায় শ্রীরামপুরের মতো মাঠগুলোতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকুক। কারণ, মাটির ওপরই দাঁড়িয়ে আছে কৃষকের ভবিষ্যৎ; সেই মাটি যদি প্রতিদিন ট্রাকে ভরে চলে যায়, তবে একদিন মাঠ থাকবে—কিন্তু তার প্রাণ থাকবে না।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
আলমডাঙ্গায় ফিরোজা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও লোকমান হোসেন প্রাইভেট হাসপাতালে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা : দুইটি ক্লিনিকের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ
১৩ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব
১৩ ঘন্টা আগে
দামুড়হুদায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আ.লীগ নেতা মামুন গ্রেপ্তার
১৬ ঘন্টা আগে