আলমডাঙ্গায় প্রভাষকের বাড়িতে ডাকাতি: আন্তঃজেলা সিন্ডিকেটের তিন ডাকাত গ্রেফতার
সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
আলমডাঙ্গায় প্রভাষকের বাড়িতে ডাকাতি: আন্তঃজেলা সিন্ডিকেটের তিন ডাকাত গ্রেফতার
ভ্যানচালকের ছদ্মবেশে দিনের পর দিন বাড়ির অবস্থান ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ। এরপর গভীর রাতে সশস্ত্র হানা। পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে লুটপাট চালিয়ে চম্পট। আলমডাঙ্গার রোয়াকুলি গ্রামের প্রভাষক মো. শামসুল আলমের বাড়িতে সংঘটিত সেই চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে দুই আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি ও তদন্তে বেরিয়ে এসেছে আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের সক্রিয় সম্পৃক্ততার তথ্য।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ এপ্রিল গভীর রাতে আলমডাঙ্গা উপজেলার রোয়াকুলি গ্রামে প্রভাষক মো. শামসুল আলমের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। প্রায় পৌণে এক ঘন্টা ধরে চলা ওই ডাকাতিকালে ডাকাতদলের সদস্যরা দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে প্রভাষক ও পরিবারের অন্য সদস্যদের একটি কক্ষে আটকে রাখে। এ সময় পরিবারের নারীদেরও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। পরে নগদ ২০ হাজার টাকা ও প্রায় ২ লাখ ৯৮ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার লুট করে তারা পালিয়ে যায়।
ঘটনার পরদিন ১৭ এপ্রিল ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আলমডাঙ্গা থানায় ডাকাতি মামলা দায়ের করা হয়। এরপর দীর্ঘ তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি, মোবাইল ট্র্যাকিং, সোর্স এবং গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ডাকাত চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে পুলিশ।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ডাকাতরা ঘটনার আগে ভ্যানচালকের ছদ্মবেশে এলাকায় ঘোরাফেরা করে বাড়িটির অবস্থান, যাতায়াত ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। বাড়িটি তুলনামূলক অরক্ষিত বলে নিশ্চিত হওয়ার পর তারা ডাকাতির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে। গ্রেপ্তারকৃতদের ভাষ্যমতে, ডাকাতি ছিল তাদের পেশাগত কর্মকাণ্ডের অংশ।
পুলিশ প্রথমে গত ২৭ মে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার খাজানগর এলাকা থেকে মামলার অন্যতম আসামি মো. সালাউদ্দিন (৪৫)কে গ্রেপ্তার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৩ জুন ভোররাতে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার চিথলিয়া গ্রাম থেকে মো. ছাবদুল ওরফে ছাবদুল্লাহ (৫০) এবং আলমডাঙ্গা উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রাম থেকে মো. আকাশ আহম্মেদ (২১)কে গ্রেফতার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে ছাবদুল্লাহ ও আকাশ ডাকাতির ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। পরে আদালতে হাজির করা হলে তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তদন্তে আরও জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃতদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গা, ঈশ্বরদী ও কুষ্টিয়াসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলায় প্রায় ১৪টি ডাকাতি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।
এদিকে আসামি ছাবদুল্লাহর দেখানো মতে গোবিন্দপুর মাঠপাড়া এলাকার একটি জঙ্গল থেকে ডাকাতির সময় ব্যবহৃত দুটি মাথা ছোচালো লোহার রড ও একটি প্লাস উদ্ধার করা হয়েছে। তবে লুট করা নগদ অর্থ ইতোমধ্যে খরচ হয়ে যাওয়ায় তা উদ্ধার সম্ভব হয়নি। স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধারের বিষয়েও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযানে ছিলেন যারা: চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের সার্বিক দিকনির্দেশনা এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. মোস্তাফিজুর রহমানের তত্ত্বাবধানে অভিযান পরিচালনা করেন আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. বানী ইসরাইল। অভিযানে থানার একাধিক চৌকস পুলিশ সদস্য অংশ নেন। তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধান, মাঠপর্যায়ের গোয়েন্দা তৎপরতা এবং ধারাবাহিক অভিযানের সমন্বয়ে ডাকাত চক্রের সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দীর্ঘদিন রহস্যাবৃত থাকা এই ডাকাতি মামলার গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের এই সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি তাদের আস্থা আরও বেড়েছে বলেও মন্তব্য করতে শোনা গেছে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
আলমডাঙ্গায় ফিরোজা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও লোকমান হোসেন প্রাইভেট হাসপাতালে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা : দুইটি ক্লিনিকের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ
১৩ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব
১৩ ঘন্টা আগে
দামুড়হুদায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আ.লীগ নেতা মামুন গ্রেপ্তার
১৬ ঘন্টা আগে