আলমডাঙ্গায় চুয়াডাঙ্গা- ১ ও ২ আসনের সংসদ সদস্যদের গণসংবর্ধনা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত
সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
আলমডাঙ্গায় চুয়াডাঙ্গা- ১ ও ২ আসনের সংসদ সদস্যদের গণসংবর্ধনা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত
আলমডাঙ্গায় চুয়াডাঙ্গা- ১ ও ২ আসনের সংসদ সদস্যকে গণসংবর্ধনা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৭ মার্চ) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আলমডাঙ্গা উপজেলা শাখার আয়োজনে আলমডাঙ্গা দারুস সালাম ঈদগাহ ময়দানে এ গণসংবর্ধনা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। বাদ আসরের নামাজের আগ থেকেই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে দায়িত্বশীল নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসতে শুরু করেন। অতিথিরা আসার আগেই সংবর্ধনাস্থল কানায় কানায় মানুষে পূর্ণ হয়ে যায়।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মোঃ রুহুল আমীন এবং চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল এমপিকে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি আলমডাঙ্গার বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলের তোড়া ও ক্রেস্ট প্রদান করে সংবর্ধনা জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ করতালির মাধ্যমে তাদের অভিনন্দন জানান। সংবর্ধনা প্রদান শেষে প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে অতিথিদের বক্তব্য পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা জামায়াতের আমীর প্রভাষক শফিউল আলম বকুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মোঃ রুহুল আমীন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আপনারা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পতাকাতলে একত্রিত হয়ে অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গার দুটি আসনে আমাদের বিজয়ী করেছেন। এই বিজয় মূলত আপনাদেরই বিজয়। তাই আমরা আজ এই দুটি আসন আপনাদের নামে উৎসর্গ করতে চাই। আমরা নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য এমপি হইনি; মানবতার কল্যাণ সাধন ও জনগণের সেবা করার জন্যই সংসদ সদস্য হয়েছি। আমরা আপনাদের সেবক হয়ে থাকতে চাই, আপনাদের ভাই হয়ে মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দূর করতে কাজ করতে চাই।
তিনি আরও বলেন, অনেকে বলতে পারে আমরা সরকার গঠন করিনি, তাই হয়তো খুব বেশি কাজ করতে পারব না। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি, সরকারি দল বা বিরোধীদল কোনো এমপির গায়ে লেখা থাকে না। এলাকার মানুষের সংখ্যার ভিত্তিতেই উন্নয়ন কাজ হওয়া উচিত। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, যদি কোনো রাক্ষসের মাথায় বড় মাংসের ঝুড়ি রাখা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের ভাগ্যে তার কিছুই জোটে না। কিন্তু যদি একজন সৎ মানুষের হাতে সেই ঝুড়ি তুলে দেওয়া হয়, তাহলে সবার ভাগেই তা পৌঁছায়। আপনারা এমন এমপিকেই নির্বাচিত করেছেন, যারা রাক্ষস নয়; যারা মানুষের আমানত রক্ষা করবে।
রুহুল আমীন আরও বলেন, আমরা কেউ পেশা পরিবর্তনের জন্য জামায়াতে ইসলামীতে আসিনি। আল্লাহ আমাদের যে রিজিক দিয়েছেন, মোটা ভাত-মোটা কাপড়ে আমরা তাতেই সন্তুষ্ট থাকতে চাই। এমপি হয়েও আমরা আপনাদের ছেড়ে ঢাকার গুলশান-বনানী কিংবা বিদেশে পাড়ি জমাব না। আমরা এই মাটিতেই বড় হয়েছি, এই মাটিতেই আছি এবং আমৃত্যু এখানেই থাকতে চাই।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যে স্বপ্ন নিয়ে রাজনীতিতে এসেছে, সেই স্বপ্ন এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। যদি আমরা ১৫১টি আসনে বিজয়ী হতে পারতাম, তাহলে দৃঢ়ভাবে বলতে পারতাম বাংলাদেশে আর চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি থাকবে না। আমরা মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের জন্য কাজ করে যেতে চাই।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, গত নির্বাচনে আপনারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে আমাদেরকে বিজয়ী করেছেন। তবে আমাদের নির্বাচিত করেই আপনাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়নি; বরং এখান থেকেই আপনাদের নতুন দায়িত্ব শুরু হয়েছে। এখন প্রত্যেক মানুষের অধিকার ও সুবিধা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া, ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা, সমাজ থেকে মাদক ও দুর্নীতি দূর করা এবং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি সাম্যের বাংলাদেশ গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদের সবার উপর বর্তেছে।
তিনি বলেন, এজন্য আপনারা প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন। ধৈর্য, পরামর্শ ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সব কাজ পরিচালনা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি বিভিন্ন অনুদান বা সহযোগিতা যখন আপনাদের কাছে আসে, তখন তা যেন কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব ছাড়া প্রকৃত প্রাপকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। আমি মনে করি, আপনাদের সবার চোখই আমার চোখ। আপনারা সজাগ থাকলে আমিও সজাগ থাকব। আপনাদের বিবেক জাগ্রত থাকলে আমরাও জাগ্রত থাকতে পারব।
অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, “আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে চুয়াডাঙ্গা-১ ও ২ আসনের আমরা দুই ভাই সংসদ সদস্য হয়েছি। আমাদের দুজনের মাত্র চারটি চোখ। কিন্তু আমরা চাই চুয়াডাঙ্গা জেলার প্রতিটি মানুষের চোখ দিয়েই যেন অন্যায় ও অবিচার দেখতে পারি। এজন্য আপনাদের সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, যেভাবে আপনারা নির্বাচনের সময় আমাদের সহযোগিতা করেছেন, ঠিক সেভাবেই আগামী দিনেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখবেন। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ও পৌরসভা নির্বাচন রয়েছে। এসব নির্বাচনে সম্মিলিতভাবে কাজ করে জয়লাভের মাধ্যমে জনগণের প্রকৃত কল্যাণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, “মাদক আমাদের সমাজের জন্য একটি ভয়াবহ অভিশাপ। মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকেই ধ্বংস করে না, এটি একটি পরিবার, একটি সমাজ এবং একটি জাতির ভবিষ্যৎকে বিপদের মুখে ঠেলে দেয়। তরুণ সমাজ যদি মাদকের কবলে পড়ে, তাহলে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়।
তিনি বলেন, মাদক নির্মূলে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানই যথেষ্ট নয়। এ ক্ষেত্রে সমাজের প্রতিটি মানুষকে সচেতন হতে হবে এবং নিজ নিজ অবস্থান থেকে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও ধর্মীয় নেতাদের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই মাদকমুক্ত সমাজ গড়া সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে সবচেয়ে বড় বিষয় হলোÍআমাদের তরুণ প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করা এবং তাদের খেলাধুলা, শিক্ষা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রাখা।
তিনি উপস্থিত সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন আমরা সবাই মিলে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হই এবং একটি সুস্থ, সুন্দর ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাড. আসাদুজ্জামান, অ্যাড, মোসলেম উদ্দিন, জেলা জামায়াতে সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আলতাপ হোসেন, জেলা যুববিভাগের সভাপতি শেখ নূর মোহাম্মদ হুসাইন টিপু, জেলা জামায়াতের আইন ও আদালত বিষয়ক সম্পাদক দারুস সালাম, জিএ শাখার আমীর আব্বাস উদ্দিন, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি কাইয়ুম উদ্দিন হিরোক, পৌর আমীর মাহের আলী।
উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মামুন রেজার উপস্থাপনায় উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা বণিক সমিতির সভাপতি আরেফিন মিয়া মিলন, সাধারন সম্পাদক খন্দকার আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের হাজী রফিকুল ইসলাম, আলমডাঙ্গা ব্যায়ামাগারের সভাপতি ইকবাল হোসেন মিয়া, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা হুমায়ন কবীর, শহীদ মোস্তাফিজুর রহমানের ভাই হাফিজুর রহমান, উপজেলা নায়েবে আমীর ইউসুফ আলী মাস্টার, পৌর নায়েবে আমীর মাওলানা জুলফিকার আলী, পৌর জামায়াতের সেকেটারি মুসলিম উদ্দিন, উপজেলা যুববিভাগের সভাপতি তরিকুল ইসলামসহ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অঙ্গ সংগঠনের দায়িত্বশীল কর্মি, সমর্থক ও কয়েক হাজার সাধারন মানুষ।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
আলমডাঙ্গায় ফুটপাত ও ব্রিজ দখলমুক্ত করতে অভিযান; আনন্দধামের ঝুঁকিপূর্ণ দোকান সরানোর নির্দেশ
১০ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গা ব্যায়ামাগার কর্তৃক নিউরো সার্জন অধ্যাপক ডা. মোখলেছুর রহমানকে সংবর্ধনা প্রদান
১২ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মহাব্বত আলীর দাফন সম্পন্ন
১৩ ঘন্টা আগে