আলমডাঙ্গায় ৮৬০ বিঘা ভুট্টাক্ষেতের ফলন বিপর্যে বিঘা প্রতি ৮ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ।। প্রশাসনের কঠোর অবস্থানে কৃষকরা আশ্বস্ত
সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
আলমডাঙ্গায় ৮৬০ বিঘা ভুট্টাক্ষেতের ফলন বিপর্যে বিঘা প্রতি ৮ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ।। প্রশাসনের কঠোর অবস্থানে কৃষকরা আশ্বস্ত
সোনালি স্বপ্ন বুনেছিল কৃষক—ক্ষেতে ফলবে সোনার ফসল। কিন্তু বাস্তবতা হলো উল্টো। সবুজ ক্ষেতে ছড়িয়ে আছে হতাশার দীর্ঘশ্বাস। আলমডাঙ্গা উপজেলার কালিদাসপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর ও শ্রীরামপুরসহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের প্রায় শতাধিক কৃষক ভয়াবহ ফলন বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আলমডাঙ্গা সাদা ব্রিজ সংলগ্ন কাছারির বাজারের কৃষি পল্লী সীড স্টোরের মালিক নাজমুল হুদা রাব্বি উপজেলার বিভিন্ন বাজারের ১৪টি সাব-ডিলারসহ মোট ২ হাজার ৫শ ৮০ কেজি ‘নসিব’ ও ‘প্রাইম’ জাতের ভূট্টার বীজ বিক্রি করেন। সেই বীজ কিনে কৃষকরা প্রায় ৮৬০ বিঘা জমিতে ভূট্টা চাষ করেন।
কিন্তু বীজ বপণের পর সময় যত গড়িয়েছে, ততই স্পষ্ট হয়েছে বিপর্যয়ের চিত্র। প্রত্যাশিত ফলন তো দূরের কথা, অনেক ক্ষেতেই গাছে মোচা পর্যন্ত আসেনি। কোথাও বা মোচা হয়েছে অর্ধেক, আবার কোথাও দানা হয়নি ঠিকমতো।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আব্দুল্লাহ, আমিরুল ইসলাম, আব্দুর রহিমসহ অনেকেই জানান, “ঋণ করে, ধার করে বীজ কিনেছি। এখন ফলন না হওয়ায় আমরা দিশেহারা। সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।”
কৃষকদের অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি দ্রুত আমলে নেয় উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আক্তার ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাসুদ হোসেন পলাশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে বীজ কোম্পানির মালিক, ডিলার ও সাব-ডিলারদের উপস্থিতিতে কৃষকদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
তদন্ত শেষে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়—এনআইটি সীড কোম্পানি ও নসিব এগ্রো সীডের মালিক রফিকুল আজম প্রতি বিঘায় ৫ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেবেন। একইসাথে ডিলার ও সাব-ডিলাররা সম্মিলিতভাবে প্রতি বিঘায় আরও ৩ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ প্রদান করবেন। অর্থাৎ, প্রতি বিঘায় মোট ৮ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ পাবেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।
আগামী চার মাসের মধ্যে এই ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির বহিরাঙ্গন কর্মকর্তা সালমা জাহান নিপা, বিএডিসি বীজ কমিটির সদস্য শেখ আব্দুর জব্বার, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে দ্রুত তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করায় উপজেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অনেকেই বলছেন, “এভাবে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কৃষকরা পথে বসতো।”
তবে এ ঘটনার মাধ্যমে অসাধু বীজ ব্যবসায়ীদের জন্য স্পষ্ট বার্তা পৌঁছেছে—প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে কৃষকের সর্বনাশ করলে তার দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে বাজারে বীজ বিক্রির ক্ষেত্রে আরও কঠোর নজরদারি ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তবে সবুজ মাঠে আবারও হাসি ফিরবে কি না, তা সময়ই বলবে। তবে কৃষকের চোখের জল যেন আর কোনো অসাধু ব্যবসায়ীর মুনাফার উপকরণ না হয়—সেই প্রত্যাশাই এখন সবার।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
দামুড়হুদার জুড়ানপুরে আল মাসুম বাবুর বিশাল মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা, জনজোয়ারে মুগ্ধ প্রার্থী
১৫ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে মাদক ও চুরি মামলা এবং গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত ৮ জন গ্রেফতার
১৮ ঘন্টা আগে
দামুড়হুদায় সাড়ে ১৮ কেজি গাঁজাসহ নারী আটক
২০ ঘন্টা আগে