আলমডাঙ্গার ইউনিয়ন পরিষদ ভবন থেকে চুরি হওয়া ৬ বস্তা চাউলসহ আটক ৩॥ রহস্য ঘনীভূত
সংবাদ শুনুন
প্লে বাটনে ক্লিক করে সংবাদটি শুনুন
আলমডাঙ্গার ইউনিয়ন পরিষদ ভবন থেকে চুরি হওয়া ৬ বস্তা চাউলসহ আটক ৩॥ রহস্য ঘনীভূত
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী ইউনিয়ন পরিষদের তালাবদ্ধ হলরুম থেকে রহস্যজনকভাবে সরকারি বরাদ্দের ১২ বস্তা চাউল চুরির ঘটনা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পরিষদ বন্ধ করে যাওয়ার মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যে সংঘটিত এই চুরির ঘটনায় জনমনে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ দানা বেঁধেছে। ঘটনাটি ঘটে ২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে।
জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের “ভি.ডব্লিউ.বি” প্রকল্পের আওতায় গত ২১ এপ্রিল হারদী ইউনিয়নের জন্য ১৩৮ বস্তা (প্রতি বস্তা ৩০ কেজি) পুষ্টি চাউল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এসব চাউল ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে সংরক্ষণ করা হয়েছিল।
প্রতিদিনের মতো ওইদিনও বিকাল ৪টার দিকে পরিষদ বন্ধ করে দায়িত্বপ্রাপ্তরা চলে যান। সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাত্রিকালীন ডিউটিতে থাকা গ্রাম পুলিশ দফাদার সাইফুল ইসলাম ও চৌকিদার টারজার আলী এসে হলরুমের সামনে চাউল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখে সন্দেহ করেন। পরে হলরুম খুলে তারা দেখতে পান, ভেতরে চাউলের বস্তাগুলো এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে।
খবর পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আশিকুজ্জামান ওল্টু, ইউপি সদস্য শেখ শাহানুর, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মনির হোসেনসহ স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। বস্তা গণনা করে দেখা যায়, ১২ বস্তা চাউল গায়েব।
এরপর স্থানীয়দের তৎপরতায় রাত সাড়ে ১০টার দিকে হারদী মহনপাড়া গ্রামের নাজের মন্ডলের বাঁশবাগানের সামনে থেকে দুই বস্তা চাউলসহ নাঈম আলী (১৯) নামে এক যুবককে আটক করা হয়। সে ইউনিয়ন পরিষদ পাড়ার হাফিজুর রহমানের ছেলে। তবে বাকি ১০ বস্তা চাউল এখনও উদ্ধার হয়নি।
এ ঘটনায় ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে আলমডাঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
এদিকে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ ২৫ এপ্রিল দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুষ্টিয়া মিরপুর উপজেলার চকহারদী গ্রামে অভিযান চালিয়ে ৪ বস্তা সরকারি চাউলসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃত মুদি ব্যবসায়ী চকহারদী গ্রামের মৃত কিয়ামদ্দিনের ছেলে জিয়াউর রহমান(৩৫) ও একই গ্রামের কাবের আলীর ছেলে রতন আলী(১৯)।
গ্রেফতারকৃত জিয়া জানায়, ২৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় ২ জন যুবক আমার দোকানের সামনে এসে ৪ বস্তা চাউল বিক্রয় করতে চায়। ওই ২ যুবকের সাথে আরও দুজন যুবক দূরে দাঁড়িয়ে ছিল। ১ হাজার টাকা বস্তা করে চার বস্তা চাউল ৪ হাজার টাকায় বিক্রয় করে চলে যায়। ওই যুবকদের বাড়ি হারদী গ্রামে। যুবকরা চলে যাওয়ার পর এক বস্তা চাউল ৪০ টাকা লাভে রতন আলীর কাছে বিক্রয় করি।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি একটি তালাবদ্ধ সরকারি ভবনের ভেতর থেকে এত বড় পরিমাণ চাউল চুরি হওয়া কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। এটি নিছক চুরি, নাকি ভেতরের কারও যোগসাজশ আছে তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, চাবি ছাড়া হলরুম খোলা সম্ভব হলো কীভাবে?
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ বানী ইসরাইল জানান, “চুরি হওয়া ১২ বস্তা চাউলের মধ্যে ৬ বস্তা উদ্ধারসহ ৩ যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি চাউল উদ্ধার এবং মূলহোতাদের শনাক্তে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিদের সংশ্লিষ্ট মামলায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
সরকারি সহায়তার চাউল নিয়ে এমন রহস্যজনক চুরির ঘটনায় প্রশাসনের নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। চাবী ছিল দফাদারের নিকট । চোরেরা পেল কিভাবে? স্থানীয়দের দাবি দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
দামুড়হুদার জুড়ানপুরে আল মাসুম বাবুর বিশাল মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা, জনজোয়ারে মুগ্ধ প্রার্থী
১৩ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে মাদক ও চুরি মামলা এবং গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত ৮ জন গ্রেফতার
১৬ ঘন্টা আগে
দামুড়হুদায় সাড়ে ১৮ কেজি গাঁজাসহ নারী আটক
১৮ ঘন্টা আগে