প্রতিকী ছবি
ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে নিয়ে পলাতক প্রধান শিক্ষক
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় এক ছাত্রীকে নিয়ে মাদরাসার প্রধান শিক্ষকের পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এলাকা। এই ঘটনার জেরে গভীর রাতে ওই মাদরাসায় অগ্নিসংযোগ করেছে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা। এতে এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে উপজেলার চরজব্বর ইউনিয়নের উত্তর চর হাসান গ্রামের ‘সৈয়দ মুন্সি বাড়ি মাদরাসা’য় এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষক মাহমুদুল হাসান (৩৫) পিরোজপুর জেলার বাসিন্দা। তিনি ওই মাদরাসার প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, ওই মাদরাসায় পড়ার সময় এক ছাত্রীর (১৩) সঙ্গে তাঁর অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ৭ জানুয়ারি ওই শিক্ষক কিশোরী ছাত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যান। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন। ভুক্তভোগী ওই কিশোরী বর্তমানে নোয়াখালী সদর উপজেলার নুরু পাটোয়ারীহাট মাদরাসায় ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে।
অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর বুধবার দুপুরে সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকিব ওসমান এবং চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লুৎফর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
চরজব্বর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আবু কাউছার জানান, শিক্ষক ছাত্রীকে নিয়ে পালানোর পর বিক্ষুব্ধ স্বজনরা মাদরাসায় তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন। ফলে গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ ছিল। বন্ধ থাকা অবস্থায় মঙ্গলবার গভীর রাতে কে বা কারা মাদরাসায় আগুন ধরিয়ে দেয়।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকিব ওসমান বলেন, "শিক্ষক ছাত্রীকে নিয়ে পালানোর বা মাদরাসায় তালা দেওয়ার বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে আগে জানানো হয়নি। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এটি একটি গুরুতর অপরাধ। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লুৎফর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অগ্নিকাণ্ডের সময় মাদরাসায় কোনো শিক্ষার্থী না থাকায় বড় ধরনের কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ছাত্রীকে নিয়ে পালানোর ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার সুধারাম মডেল থানায় অভিযোগ দিয়েছে। অন্যদিকে, মাদরাসায় অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বুধবার দুপুরে মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা মো. মনসুর বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চরজব্বর থানায় একটি মামলা করেছেন। অভিযুক্ত শিক্ষক বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী কিশোরী বর্তমানে পরিবারের হেফাজতে রয়েছে এবং পলাতক শিক্ষককে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।