আলমডাঙ্গায় আমদানি নির্ভরতা কমাতে তেলজাতীয় ফসল আবাদ বাড়ানোর তাগিদ
কৃষি আলমডাঙ্গায় আমদানি নির্ভরতা কমাতে তেলজাতীয় ফসল আবাদ বাড়ানোর তাগিদ
ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা কমাতে তেলজাতীয় ফসলের আবাদ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার। তিনি বলেন, তেলবীজ চাষে কৃষক যেমন লাভবান হবেন, তেমনি দেশের অর্থনীতির ওপরও চাপ কমবে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত প্রদর্শনী উপলক্ষে গতকাল (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে আলমডাঙ্গা উপজেলার নতিডাঙ্গা মাঠ এলাকায় মাঠ দিবস ও কারিগরি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
শীতের বিকেলে দিগন্তজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সরষে ক্ষেতের হলুদ আভায় মুখর হয়ে ওঠে নতিডাঙ্গা মাঠ। গ্রামের প্রকৃতির বুকেই আয়োজন করা হয় মাঠ দিবসের অনুষ্ঠান। কৃষকদের চোখে-মুখে ছিল আগ্রহ আর আশার ঝিলিক।
অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আলমডাঙ্গা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ছে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে আমদানিনির্ভর সয়াবিন তেলের দাম বাড়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার সহজ উপায় হলো দেশীয়ভাবে তেলজাতীয় ফসল উৎপাদন বাড়ানো।
তিনি আরও বলেন, আমরা প্রতিদিন যে তেল ব্যবহার করি, তার গুণগত মান নিয়েও আমাদের সচেতন হতে হবে। অতিরিক্ত পরিশোধিত সয়াবিন তেল দীর্ঘদিন ব্যবহারে হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে। অন্যদিকে সরিষার তেল প্রাকৃতিক ও পুষ্টিগুণে ভরপুর, যা শরীরের জন্য তুলনামূলকভাবে উপকারী।
কৃষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন,
“সরিষা চাষ করলে নিজের পরিবারের তেলের চাহিদা যেমন মেটানো যাবে, তেমনি বাজারে ভালো দামে বিক্রি করেও লাভবান হওয়া সম্ভব। সরকার কৃষকের পাশে আছে। উন্নত জাতের বীজ, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তার মাধ্যমে সরিষা উৎপাদন বাড়াতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে।”
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা উদয় রহমানের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বীজ প্রত্যয়ন অফিসার কৃষিবিদ নুরুল ইসলাম।
তিনি বলেন,দেশে ভোজ্যতেলের চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। দেশে উৎপাদিত তেলের মধ্যে সরিষা শীর্ষে রয়েছে। বোরো ও আমন চাষের মাঝের সময়ে অনেক জমি পতিত থাকে। এসব জমি কাজে লাগিয়ে তেলবীজ উৎপাদন বাড়াতে সরকার রোডম্যাপ বাস্তবায়ন করছে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন তেলজাতীয় ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের অফিসার হাসান আলী।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আলমডাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন পলাশ। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন,
“ভোজ্যতেল আমদানিতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়, যা দেশের রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। কৃষকদের সচেতন করতে পারলে দেশীয় জাতের সরষা ব্যবহার করেই তেলের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।
তিনি আরও বলেন,
“স্বল্প জীবনকাল সম্পন্ন বারি-১৪ ও বিনা সরিষা-১১ হেক্টরপ্রতি ২ টনের বেশি ফলন দেয়। সরিষা কাটার পর একই জমিতে বোরো ধান চাষ করা যায়। এতে দুই ফসলি জমিতে বছরে তিনটি ফসল উৎপাদন সম্ভব হয়।
তিনি জানান,চলতি মৌসুমে আলমডাঙ্গায় সরষা আবাদে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ৪০৫ হেক্টর। কৃষকদের আগ্রহে সেই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে অর্জিত হয়েছে ২ হাজার ৫৪৩ হেক্টর জমি।
মাঠ দিবস ও আলোচনা সভায় স্থানীয় প্রায় ৭০ জন কৃষক-কৃষাণী, গণমাধ্যমকর্মী এবং কৃষি অফিসের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
সরষের হলুদ মাঠের মাঝে আয়োজিত এই মাঠ দিবস কৃষকদের মধ্যে তেলজাতীয় ফসল চাষে নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
আলমডাঙ্গায় চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট রাসেলের পক্ষে নির্বাচনী মিছিল
১ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় গাঁজা ও ট্যাপেন্টাডলসহ গ্রেফতার ২: ১জন পলাতক
১ দিন আগে
আলমডাঙ্গায় গাঁজা ও ট্যাপেন্টাডলসহ গ্রেফতার ২: ১জন পলাতক
১ দিন আগে