বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম এবং পাকিস্তান ক্রিকেট টিম
টি-টয়েন্টি বিশ্বকাপ কথা রাখল না বড়ভাই | বিশ্বকাপ বয়কট করছে না পাকিস্তান
নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতে ম্যাচ খেলতে বিসিবির অসম্মতি এবং আইসিসির অনড় অবস্থানের জেরে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেও ভিন্ন পথে হাঁটল পাকিস্তান। বিসিবির সমর্থনে টুর্নামেন্ট বর্জনের প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েও শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। আজ রোববার লাহোরে এক সংবাদ সম্মেলনে এই শক্তিশালী স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়।
পিসিবির এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট যে, বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে বিশ্বকাপ বয়কট করার যে গুঞ্জন উঠেছিল, তার কোনো বাস্তবায়ন ঘটাচ্ছে না পিসিবি। বরং সালমান আলী আঘাকে অধিনায়ক এবং বাবর আজম ও শাহীন শাহ আফ্রিদির মতো তারকাদের নিয়ে শক্তিশালী দল গড়ে তারা শিরোপা লড়াইয়ে নামছে।
এর আগে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি বলেছিলেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় করা হচ্ছে। তারা যদি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায়, তবে পাকিস্তানও তাদের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবে।” কিন্তু আজকের স্কোয়াড ঘোষণার পর বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পাকিস্তানের সেই অবস্থান ছিল মূলত বাংলাদেশের প্রতি মৌখিক সমর্থন দেওয়া এবং ভারতের বিপক্ষে একটি মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করার কৌশল। শেষ পর্যন্ত নিজেদের অংশগ্রহণের প্রশ্নে পাকিস্তান একচুলও ছাড় দেয়নি।
পিসিবি সূত্রে জানানো হয়েছে, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে পাকিস্তান তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে। গ্রুপ ‘এ’-তে তাদের অন্যতম প্রতিপক্ষ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত। রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে পাকিস্তান তাদের গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচই খেলবে শ্রীলঙ্কায়, যা আগে থেকেই আইসিসির সঙ্গে তাদের সমঝোতা ছিল।
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ যখন নিরাপত্তা ও নীতিগত প্রশ্নে বিশ্বকাপ বিসর্জন দিল, তখন পাকিস্তান সেই সুযোগটি ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ ও আইসিসি র্যাঙ্কিং ধরে রাখতেই মাঠে নামছে। পাকিস্তানের এই ‘ডিগবাজি’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশের সমর্থকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।