সেনা হেফাজতে মৃত বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান ডাবলু
চুয়াডাঙ্গায় সেনা হেফাজতে বিএনপি নেতার মৃত্যুর অভিযোগ, সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলুকে সেনা হেফাজতে থাকাবস্থায় মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে তাঁকে আটকের পর এই ঘটনা ঘটে। এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন।
স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে শামসুজ্জামান ডাবলুকে আটক করে সেনাবাহিনী। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আটকের পরপরই তাঁর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় এবং সেই নির্যাতনের একপর্যায়ে তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়েন। পরে তাঁকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
অভিযান চলাকালীন ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা এক সেনাসদস্য গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, আটকের সময় শামসুজ্জামানের কাছ থেকে একটি অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এই বক্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বা দাপ্তরিক বিবৃতি (Official Statement) পাওয়া যায়নি।
এদিকে শামসুজ্জামানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে জীবননগর উপজেলা বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের কয়েকশ নেতাকর্মী রাজপথে নেমে আসেন। তাঁরা চুয়াডাঙ্গা-জীবননগর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ডাবলুকে আটক ও নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়েছে। তাঁরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে ছুটে যান চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবু। তিনি উত্তেজিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানান। পরে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রবেশ করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. শরিফুজ্জামান শরিফসহ দলটির শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। নেতারা বলছেন, বিনা বিচারে বা হেফাজতে এভাবে মৃত্যুর ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিষয়টি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় লড়াই করার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সেনাবাহিনী ও পুলিশের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং অভিযোগের বিষয়ে সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তার বক্তব্য মেলেনি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও আনুষ্ঠানিক তদন্তের পর বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
আলমডাঙ্গায় চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট রাসেলের পক্ষে নির্বাচনী মিছিল
৫ ঘন্টা আগে
কুষ্টিয়ায় বিএনপির প্রার্থীর শোভাযাত্রা পণ্ড, আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ
৭ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় আমদানি নির্ভরতা কমাতে তেলজাতীয় ফসল আবাদ বাড়ানোর তাগিদ
১৬ ঘন্টা আগে