লগইন করুন
সোশ্যাল মিডিয়া

© 2026 Samprotikee
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

চুয়াডাঙ্গাবাসীর যুগান্তরের লালিত স্বপ্ন "চুয়াডাঙ্গা ইউনিভার্সিটি অব এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি"  ( প্রস্তাবিত) বাস্তব হতে চলেছে
বড় করে দেখুন
সহ-বার্তা সম্পাদক আপডেট: ২২ জানুয়ারী, ২০২৬ | ০২:৫৫ দুপুর ৮১ বার পঠিত
ফন্ট সাইজ:

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় চুয়াডাঙ্গাবাসীর যুগান্তরের লালিত স্বপ্ন "চুয়াডাঙ্গা ইউনিভার্সিটি অব এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি"  ( প্রস্তাবিত) বাস্তব হতে চলেছে

চুয়াডাঙ্গা—এই নামটা শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে এক দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ ফসলিল আবাহন। ধানক্ষেত, পাটক্ষেত, আখক্ষেত, ভুট্টার সারি, সবজির বাগান, মিষ্টি আমের গাছ, মাছের জলাশয়, আর কৃষকের দিনভর অক্লান্ত পরিশ্রম—এ যেন এই জেলার প্রাণ। কিন্তু এই মাটির মানুষ জানে, শুধু পরিশ্রমই যথেষ্ট নয়। আধুনিক জ্ঞান ও প্রযুক্তি ছাড়া কৃষির ফল ঠিকমতো ঘরে আসে না। সেই বাস্তবতার মাঝে জাগছে এক নতুন আশা—চুয়াডাঙ্গা ইউনিভার্সিটি অব এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (প্রস্তাবিত)।


এ নামটা এখন আলমডাঙ্গাসহ চুয়াডাঙ্গা জেলার মানুষের মুখে যেন নতুন দিনের গান। এটা কোনো কল্পনা নয়—এটা স্বপ্নের বাস্তব রূপায়ন। কারণ এখানে কৃষি শুধু জীবিকা নয়, এটা মানুষের অহংকার। তাই এই জেলার কৃষক, শিক্ষার্থী-জনতা, সমাজকর্মী ও রাজনৈতিক নেতাদের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন কৃষির একটা বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ের। অবশেষে সেই অধরা স্বপ্ন সত্যি হতে চলেছে। 


 কেন CUAT এত জরুরি? চুয়াডাঙ্গা কৃষিপ্রধান জেলা। ধান, পাট, ভুট্টা, সবজি, ফল-মূল, মাছচাষ—এগুলো এখানকার মানুষের জীবিকা। কিন্তু উচ্চশিক্ষার সুযোগ ছিল বহু দূরে। দূরের শহরে যেতে হয়, টাকা-পয়সা লাগে, অনেকেই বাধ্য হয় পড়াশোনা থামাতে। তাই চুয়াডাঙ্গা ইউনিভার্সিটি অব এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (প্রস্তাবিত) প্রতিষ্ঠিত হলে এই বাধা অনেক কমবে। শিক্ষার্থীরা শুধু বই পড়বে না—তারা মাঠে যাবে, কৃষকের সঙ্গে কথা বলবে, বাস্তব সমস্যার সমাধান করবে। এখানে কৃষি ও প্রযুক্তি বিষয়ে গবেষণা হবে, নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন হবে, আর কৃষকরা সেই প্রযুক্তি শিখবে। এভাবে কৃষির উৎপাদন বাড়বে, আর মানুষের জীবন মান উন্নত হবে।


স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া কত দূর? বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রক্রিয়া এখন লিয়াজোঁ কমিটির মাধ্যমে এগোচ্ছে। কমিটি সরকারি দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রস্তাবনা সাজাচ্ছে। সরকারি অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানের বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তাই এই ধাপটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লিয়াজো কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আলমডাঙ্গার সন্তান ও সিটি ইউনিভার্সিটির এগ্রিকালচারাল ফ্যাকাল্টির ডিন প্রফেসর ড. খন্দকার শরিফুল ইসলাম। আর অন্যতম সদস্য হিসেবে আছেন আলমডাঙ্গার অকৃত্রিম দরদী সন্তান যুগ্ন সচিব আমিনুর রহমান।


 “সাউথওয়েস্ট” থেকে “চুয়াডাঙ্গা কৃষি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়”:-

বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণের ক্ষেত্রে প্রথমে ১৯৭১ সালের দক্ষিণ-পশ্চিম রণাঙ্গনের ভাবনা থেকে বৃহত্তর কুষ্টিয়া অর্থাৎ কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা জেলাকে সম্মিলিতভাবে বিবেচনায় নিয়ে নামকরণ করা হয় “সাউথওয়েস্ট এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটি”। কিন্তু পরবর্তীতে নামকরণের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়। নতুন নাম করা হয় “চুয়াডাঙ্গা কৃষি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়”।


এই নাম পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে লিয়াজো কমিটির সদস্য সচিব ফারুক মাহমুদ এক ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেছেন—১১ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অতিরিক্ত সচিবের সাথে সাক্ষাৎ ও দরখাস্ত হস্তান্তরের সময় তাঁরা বিশেষভাবে পরামর্শ দেন নামটি বদলানোর জন্য। “সাউথওয়েস্ট” নামটি শুনতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো, তাই নামের শুরুতেই “চুয়াডাঙ্গা” যুক্ত করাটাই সঙ্গত। এজন্য লিয়াজো কমিটি ও উপদেষ্টাগণ ২০ জানুয়ারি অনলাইনে মিটিং করে নতুন নাম চূড়ান্ত করেন।


বাংলায় নামের শিরোনাম—“চুয়াডাঙ্গা কৃষি ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়”। ইংরেজিতে “চুয়াডাঙ্গা ইউনিভার্সিটি অব এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি” (CUAT)।


ভূমি নির্বাচন ও সম্ভাব্য স্থান: যুগ্ন সচিব আমিনুর রহমান জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ভূমি এলাকা পরিদর্শন করবেন লিয়াজো কমিটি ও উপদেষ্টাগণ, সঙ্গে থাকবে স্থানীয় প্রশাসন।


রেলপথকে প্রাধান্য দিয়ে আলমডাঙ্গা স্টেশনের নিকটবর্তী বন্ডবিল, এরশাদপুর-ডামোশ মাঠ, মুন্সিগঞ্জ, মোমিনপুরকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে দত্তনগরকেও বিকল্প স্থান হিসেবে বিবেচনায় রাখা হয়েছে।


বৃহত্তর কুষ্টিয়া অফিসার্স কল্যাণ সমিতি এবং মেহেরপুর সমিতির সাথে আন্তঃযোগাযোগের ভিত্তিতে চুয়াডাঙ্গা জেলা সমিতির নেতৃত্বে এই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য সরকারের সাথে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও কর্মতৎপরতা চলছে। সম্প্রতি, চুয়াডাঙ্গা জেলা সমিতির ৭ জন বাংলাদেশ সচিবালয়ে গিয়েছিলেন। শিক্ষা সচিব রেহানা পারভিনের সাথে আলোচনা হয়, এবং অতিরিক্ত সচিব ড. মো. সুরাতুজ্জামানও উপস্থিত ছিলেন।


সে সময় চুয়াডাঙ্গার সমৃদ্ধ কৃষি নিয়ে কথা বলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর্জা শাহরিয়ার মাহমুদ লন্টু। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পাট, সবজি, আখ পরিবহনের জন্য বৃটিশ আমলেই চুয়াডাঙ্গায় রেললাইন স্থাপন করা হয়। অথচ আজ এই অঞ্চল উন্নয়ন বঞ্চিত এক রিক্ত জনপদ। চুয়াডাঙ্গার ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল, পান, ভুট্টা, আখ, পাট, মাছ, গবাদি পশু—সবই দেশের অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রাখছে। এমনকি চুয়াডাঙ্গাকে অস্থায়ী রাজধানী ঘোষণা করে তার স্বীকৃতি না পাওয়ার বঞ্চনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।


 আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজের শিক্ষক তাপস রশিদ বলেন,

“চুয়াডাঙ্গায় বিশ্ববিদ্যালয় মানে শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়—এটা জেলার আত্মবিশ্বাস। আমরা অনেক বছর ধরেই চাইছি শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই উচ্চশিক্ষা পাবে। CUAT হলে শিক্ষার মানও বাড়বে, এবং নতুন চাকরির সুযোগও তৈরি হবে। আমাদের তরুণরা নিজ এলাকায় ফিরে আসবে, এবং গ্রামের উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে।”


 চুয়াডাঙ্গার কৃষক কলিম উদ্দীন বলেন, “আমার ছেলে পড়াশোনা করছে, কিন্তু দূরের শহরে পাঠানো সম্ভব হবে না। যদি এখানে ভালোভাবে পড়তে পারে, তাহলে নিজ বাড়িতে থেকেই CUAT-তে পড়তে পারবে। আমরা জমিতে কাজ করি, কিন্তু আধুনিক পদ্ধতি জানি না। এখানে কৃষি গবেষণা হলে নতুন প্রযুক্তি শিখতে পারব, ফসলের উৎপাদন বাড়াতে পারব—এটা আমাদের জীবনের উন্নতি।”

 

 বিশ্ববিদ্যালয় হলে চুয়াডাঙ্গা বদলে যাবে। একটা বিশ্ববিদ্যালয় মানে শুধু ছাত্র-ছাত্রী নয়, সঙ্গে আসে অর্থনীতি, কাজ, ব্যবসা। শিক্ষার্থীরা শহরে আসবে, হোস্টেল, দোকান, পরিবহন—সব কিছু গড়ে উঠবে। এটা এলাকার মানুষের জীবনে নতুন রঙ যোগ করবে। 


 উপমহাদেশের প্রথম রেললাইনের গৌরব, দ্বিতীয়তলা স্টেশনের ঐতিহ্য তার মর্যাদা ফিরে পাবে। কুমারীর ভেটেরিনারি ইনস্টিটিউটের মর্যাদা ফিরে পুণরুদ্ধারও সহজ হবে। ব্লাক বেঙ্গল গোট নিয়ে রিচার্চ হবে, দত্তনগর ফার্ম প্রাণ ফিরে পাবে।


এছাড়া, এখান থেকে অনেক শিক্ষার্থী দূরের বড় শহরে চলে যায়। CUAT থাকলে তারা এখানেই পড়বে, এখানেই থাকবে, এখান থেকেই দেশের উন্নয়নে কাজ করবে।


 CUAT নামটা এখন চুয়াডাঙ্গার মানুষের মুখে মুখে ঘুরছে—যেন এটা একটা আশা, একটা স্বপ্ন, একটা নতুন দিনের প্রতিশ্রুতি। এই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হলে চুয়াডাঙ্গা শুধু কৃষির জেলা নয়, শিক্ষার জেলা হিসেবেও পরিচিত হবে। আর সেই দিন খুব কাছেই—যখন ধানক্ষেতের পাশে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান হবে, যেখানে শিক্ষা ও কৃষি একসাথে হাসবে, একসাথে বাঁচবে। 

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?

মন্তব্য ()

মন্তব্য করতে লগইন করুন

লগইন করুন

সর্বশেষ সংবাদ

আলমডাঙ্গায় চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট  রাসেলের পক্ষে নির্বাচনী মিছিল

জাতীয় নির্বাচন | আলমডাঙ্গায় চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট রাসেলের পক্ষে নির্বাচনী মিছিল

৫ ঘন্টা আগে
কুষ্টিয়ায় বিএনপির প্রার্থীর শোভাযাত্রা পণ্ড, আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ

জাতীয় নির্বাচন | কুষ্টিয়ায় বিএনপির প্রার্থীর শোভাযাত্রা পণ্ড, আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ

৭ ঘন্টা আগে
চুয়াডাঙ্গায় অবৈধ সার ও শিশুখাদ্য বিক্রি, ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

চুয়াডাঙ্গায় অবৈধ সার ও শিশুখাদ্য বিক্রি, ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

৭ ঘন্টা আগে
ভোটারদের টাকা দেওয়ার সময় জনতার তোপের মুখে জামায়াত নেতা

জাতীয় নির্বাচন | ভোটারদের টাকা দেওয়ার সময় জনতার তোপের মুখে জামায়াত নেতা

৭ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় আমদানি নির্ভরতা কমাতে তেলজাতীয় ফসল আবাদ বাড়ানোর তাগিদ

কৃ‌ষি | আলমডাঙ্গায় আমদানি নির্ভরতা কমাতে তেলজাতীয় ফসল আবাদ বাড়ানোর তাগিদ

১৬ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় গাঁজা ও ট্যাপেন্টাডলসহ গ্রেফতার ২: ১জন পলাতক

আলমডাঙ্গায় গাঁজা ও ট্যাপেন্টাডলসহ গ্রেফতার ২: ১জন পলাতক

১ দিন আগে
আলমডাঙ্গায় গাঁজা ও ট্যাপেন্টাডলসহ গ্রেফতার ২: ১জন পলাতক

আলমডাঙ্গায় গাঁজা ও ট্যাপেন্টাডলসহ গ্রেফতার ২: ১জন পলাতক

১ দিন আগে
দুই সন্তানসহ ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে মায়ের আত্মহত্যা

দুই সন্তানসহ ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে মায়ের আত্মহত্যা

১ দিন আগে
মাথা গরমের কিছু নেই, রাজনীতি হলো নীতির খেলা : চুয়াডাঙ্গায় নির্বাচনী জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান

জাতীয় নির্বাচন | মাথা গরমের কিছু নেই, রাজনীতি হলো নীতির খেলা : চুয়াডাঙ্গায় নির্বাচনী জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান

২ দিন আগে
আলমডাঙ্গায় অবৈধভাবে ইটভাটা পরিচালনার দায়ে দুটি ইটভাটায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

মোবাইল কোর্ট | আলমডাঙ্গায় অবৈধভাবে ইটভাটা পরিচালনার দায়ে দুটি ইটভাটায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

২ দিন আগে

নোটিফিকেশন চালু করুন

সর্বশেষ এবং গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলো সবার আগে পেতে নোটিফিকেশন চালু করে রাখুন।