যুগ্ম সচিব আবু হেনা মো. মোস্তবা কামালের নিরলস প্রয়াসে পৌরসভায় ১৫৮ কোটি টাকা বরাদ্দ
এক সময় যেখানে পা ফেললেই কাঁদা—সেখানে এখন কংক্রিট ছোঁয়ার স্বপ্ন।
যেখানে প্রতিটি বৃষ্টির ফোঁটা মানেই দুর্ভোগ—সেখানে এবার ফুটবে আরামের আলো।
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা পৌর শহরের কলেজ রোডসহ এমনই দুঃখগাঁথা রাস্তাঘাট ও জলাবদ্ধতার করুণ গল্প বদলে দিতে যাচ্ছে নতুন এক উন্নয়ন অধ্যায়।
এই দুরহ কাজটি সম্ভাবনারক্তিম করেছেন বেজার মহাপরিচালক বাংলাদেশ সরকারের যুগ্ন সচিব আবু হেনা মোস্তবা কামাল। তিনি আলমডাঙ্গার সন্তান।
দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় নিমজ্জিত পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ ‘কলেজ রোড’সহ নয়টি প্রধান সড়ক ও ড্রেনের উন্নয়নে চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়েছে প্রায় ১৫৮ কোটি টাকার প্রকল্প।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB) ও AFD-এর অর্থায়নে এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তির (LGED) তত্ত্বাবধানে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। গত ৪ আগস্ট প্রকল্পটির অনুমোদন দিয়েছেন এলজিইডির প্রকল্প পরিচালক আব্দুল বারেক।
এ উন্নয়নের পেছনে আছেন এক দূরদর্শী প্রশাসক—যুগ্ম সচিব ও বেজার মহাপরিচালক মো. আবু হেনা মোস্তবা কামাল।
তিনি শুধু একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নন, তিনি আলমডাঙ্গার সন্তান। যাঁর পৈতৃক ভিটে ‘কলেজ রোড’-এর ধারে, সেই রাস্তায় হাঁটতে গিয়ে যাঁর হৃদয়ে জমেছিল অভিমান আর দায়বদ্ধতার ভার।
তিনি বলেন—
“দুই ঈদে বাড়ি গিয়েছিলাম। ইউএনও সাহেবকে বলেছিলাম, ডিসি সাহেবকেও মেসেজ দিয়েছি। আত্মীয়দের সামনে খুব ছোট হয়ে যেতে হয়। নিয়মিত এলজিইডিতে যোগাযোগ রেখে কাজগুলি করিয়েছি। এখন অন্তত বলতে পারবো—আলমডাঙ্গার সড়ক নিয়ে কিছু করেছি।”
>< কী কী উন্নয়ন হবে?
গোবিন্দপুর, আনন্দবাজার, হরিতলা, বন্ডবিল, চাতালমোড়সহ মোট ৯টি রাস্তায় উন্নয়ন কাজ। আরসিসি ড্রেন, প্রটেকশন ওয়াল, সড়ক প্রশস্তকরণ ও বিদ্যুৎ বাতি স্থাপন।
মোট ব্যয় হবে ১৫৮ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে শুধু ইট-পাথর নয়, দীর্ঘদিন দুর্ভোগে থাকা আলমডাঙ্গা পৌরবাসীর স্বপ্ন ও সম্মান ফিরবে।
বিশেষ করে ‘কলেজ রোড’-র মতো বছরজুড়ে পানিতে থইথই করা রাস্তাগুলোর দুর্দশা মোচন হবে—যা এতদিন ছিল আলমডাঙ্গাবাসীর নিত্যযন্ত্রণা।
এক সময় এই রাস্তায় মেয়রও ঘুরে যেতেন বিকল্প পথে। এটা যেমন লজ্জার, তেমনি প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পরও কিছুই পরিবর্তন না হওয়া আরেক দুর্ভাগ্যের।
কিন্তু যুগ্ম সচিব আবু হেনা মোস্তবা কামালের নিজের শেকড়ের প্রতি দায়বদ্ধতাই যেন খুলে দিল সম্ভাবনার দরজা।
পৌর প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা ইউএনও শেখ মেহেদী ইসলাম বলেন, “আমরা দ্রুত টেন্ডার আহ্বান করে কাজ শুরু করবো। এটা আমাদের অগ্রাধিকার।”
কৃতজ্ঞতা ও প্রত্যাশা:
পৌরপ্রশাসন ও সাধারণ জনগণ সবাই কৃতজ্ঞ আবু হেনা মোস্তবা কামালের প্রতি।
তাঁর আন্তরিকতা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও দূরদর্শিতাই আজ এই প্রকল্পের নেপথ্য নায়ক।
আলমডাঙ্গা আজও কাদায়, কিন্তু এই কাদা এবার স্বপ্নের গন্ধে ভিজে যাচ্ছে।
আশা করা যায়— পৌরপ্রশাসন আতি দ্রুত স্বপ্নের এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
আলমডাঙ্গায় চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট রাসেলের পক্ষে নির্বাচনী মিছিল
১২ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় আমদানি নির্ভরতা কমাতে তেলজাতীয় ফসল আবাদ বাড়ানোর তাগিদ
২৩ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় গাঁজা ও ট্যাপেন্টাডলসহ গ্রেফতার ২: ১জন পলাতক
১ দিন আগে