বৈদেশিক কর্মসংস্থান আইনে আলমডাঙ্গার তিনজনসহ চারজনের জেল জরিমানা
বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন- ২০১৩ এর মামলায় চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার তিনজনসহ চারজনকে দুই বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই মামলায় দুই আসামিকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। ২০ আগস্ট বুধবার চুয়াডাঙ্গার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শিমুল কুমার বিশ্বাস এ রায় ঘোষনা করেন।
কারাদন্ড প্রাপ্তরা হলেন আলমডাঙ্গার খেজুরতলা গ্রামের হাসানুর আলমের ছেলে পোল্যান্ড প্রবাসী রয়েল রানা (পলাতক), তার পিতা হাসানুর আলম, শ্বশুর বেলগাছী গ্রামের মৃত হাতিম মালিথার ছেলে জান্টু মালিথা এবং মুন্সিগঞ্জ জেলার আশুলিয়ার চর পশ্চিমকান্দি গ্রামের ওলী উল্লার ছেলে শওকত আলী বিপ্লব (পলাতক)।
এ মামলার অন্য দুই আসামি রয়েল রানার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন ও মা মমতাজ খাতুনকে আদালত অব্যাহতি প্রদান করেছে।
মামলার অভিযোগে জানা যায়, আলমডাঙ্গার খেজুরতলা গ্রামের মৃত ইউনুস আলীর ছেলে স্বপন আলীকে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে পোল্যান্ডে পাঠানোর কথা বলে বিপুল অঙ্কের টাকা গ্রহণ করে রয়েল রানা। শুধু স্বপন আলী নয়, ওই গ্রামের আরও ১০-১১ জন যুবকের কাছ থেকেও অর্থ নেয়া হয় রয়েল রানা। পরবর্তীতে কাউকেই বিদেশে পাঠানো না হওয়ায় তারা প্রতারিত হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন।
এ ঘটনায় স্বপনের পিতা ইউনুস আলী বাদী হয়ে ২০২২ সালে রয়েল রানা, তার পিতা-মাতা, স্ত্রী, শ্বশুর এবং সহযোগী শওকত আলী বিপ্লবসহ ছয়জনকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন। মামলাটি বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন-২০১৩ এর ৩১(ক), ৩১(খ), ৩১(গ), ৩১(ঘ), ৩২, ৩৩, ৩৪, ৩৫ ও ৩৬ ধারায় রুজু করা হয়।
দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে বুধবার চুয়াডাঙ্গার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শিমুল কুমার বিশ্বাস চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দোষী সাব্যস্ত করে রায় ঘোষণা করেন। এ সময় আদালতে উপস্থিত থাকা দুই আসামি হাসানুর আলম ও জান্টু মালিথাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। একইসঙ্গে রয়েল রানার স্ত্রী ও মাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন।