ঢাকায় বিমান দুর্ঘটনায় আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রেসক্লাবে শোকের সংবেদনশীল প্রতিধ্বনি
ঢাকায় আকাশ থেকে আগুন নেমে এসেছিল হঠাৎ। একটি প্রশিক্ষণ বিমান ছিটকে পড়ে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রাঙ্গণে। চোখের সামনে মুহূর্তেই আগুন গ্রাস করে কোমলমতি শিশুদের, যারা হয়তো জীবনের প্রথম স্বপ্ন আঁকছিল সেই সকালটিতে। এ অপ্রত্যাশিত ট্র্যাজেডিতে পুড়ে মারা যায় একাধিক শিশু শিক্ষার্থী। আহত হয় আরও অনেক।
এই বিভীষিকাময় ঘটনার রেশ পৌঁছেছে দেশের প্রতিটি জনপদে। আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রেসক্লাবেও নেমে আসে এক গভীর শোকের স্তব্ধতা।
গতকাল বৃহস্পতিবার বাদ আসর আয়োজিত এক শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে নিহত শিশুদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাব সভাপতি নাহিদ হাসান। তার কণ্ঠে ছিল অসহায়তা আর গভীর বেদনার ভার।
"এই শিশুরা কোনো যুদ্ধ করছিল না, কোনো ঝুঁকিপূর্ণ মিশনে ছিল না। তারা ছিল আমাদের ভবিষ্যতের মুখ। তাদের এমন করুণ মৃত্যু আমাদের বিবেককে নাড়া দেয়।”
সিনিয়র সাংবাদিক রহমান মুকুল বলেন, “যারা পাখির মতো স্কুলে উড়তে গিয়েছিল, তারা আর ফিরে আসবে না। কিন্তু তাদের স্মৃতি যেন আমাদের শিক্ষা দেয়, যেন রাষ্ট্র তাদের মৃত্যুকে কেবল সংবাদ নয়, এক দায়বদ্ধতা হিসেবে নেয়।”
বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা ওমর ফারুক। তিনি কোরআন তেলাওয়াত শেষে কান্নাভেজা কণ্ঠে বলেন “আল্লাহ যেন এ নিষ্পাপ শিশুদের জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন এবং তাদের পরিবারের অন্তরজ্বালায় প্রশান্তির বর্ষণ করেন।”
প্রেসসক্লাবের সহসভাপতি সাংবাদিক সোহেল হুদা বলেন: “এটি কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়, এটি রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনার করুণ চিত্র। শিশুদের মৃত্যু আমরা সবাই দায়ী, যদি আমরা শুধুই সংবাদ করে থেমে যাই।”
শোকসভায় উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সভাপতি নাহিদ হাসান, সম্পাদক নাজমুল হক শাওন, সহসভাপতি সোহেল হুদা, ডাক্তার লিয়াকত আলী, অ্যাড একরামুল হক, ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাংগঠনিক সম্পাদক সঞ্জু আহমেদ, দপ্তর সম্পাদক শরিফুল ইসলাম রোকন, যুগ্ম সম্পাদক অনিক সাইফুল, সোহেল তানজিম হিরো, ধর্মীয় সম্পাদক এখলাস উদ্দীন, সাংবাদিক আল আমিন পরশ, রাশেদুজ্জামান রাজিব, ডাক্তার আব্দুল্লাহ আল মামুন, শাহরিয়ার শরিফ, মুক্তার আলী, শেখ মহিদুল ইসলাম, সেলিম রেজাসহ প্রেসক্লাবের অন্যান্য সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক ও মানবিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
এই নীরব আয়োজন যেন আজ প্রমাণ করে দিল
আকাশে যদি আগুন নামে, তাহলে মাটিতেও মানুষ কাঁদে।
আলমডাঙ্গা আজ ঢাকার পাশে, শিশুদের পাশে, শোকাহত হৃদয়ের পাশে।