জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মরণে আলমডাঙ্গায় মিলনমেলা: সাহস ও স্মৃতির সন্ধ্যায় উন্মোচিত হলো প্রত্যয়ের নতুন দিগন্ত
সময় চলে যায়, কিন্তু কিছু দিন ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে থাকে। ৩৬ জুলাই ছিল তেমনই এক দিন, যেদিন রাজপথে ছুটে এসেছিল সাহস, স্লোগানে কেঁপেছিল নির্যাতনের দেয়াল, এবং জন্ম নিয়েছিল একটি গণজাগরণের আলোকবর্তিকা। সেই ঐতিহাসিক ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’-এর প্রথম বর্ষপূর্তিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আলমডাঙ্গায় অনুষ্ঠিত হলো “জুলাই স্মৃতিচারণ ও মিলনমেলা”।
আয়োজনটির স্থান ছিল আলমডাঙ্গা শহরের হাইরোড়ে অবস্থিত জেস টাওয়ার কমিউনিটি সেন্টার।
বাদ মাগরিব অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে অংশ নিয়েছেন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, সাংবাদিক, পেশাজীবী ও সময়ের সাহসী তরুণেরা।

আয়োজনের মূল বার্তা ছিল -- “প্রতিকূলতার মুখে দাঁড়িয়ে যারা গণতন্ত্রের পক্ষে গর্জে উঠেছিল, তারা হারায় না—তারা ইতিহাসকে ধারণ করে নতুন প্রজন্মের হাত ধরে এগিয়ে চলে।”
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, আমার বাংলাদেশ পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তর) আব্দুল্লাহ আল-মামুন রানা বলেন,
“জুলাই গণঅভ্যুত্থান কেবল একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়, এটি ছিল মানুষের মৌলিক অধিকার পুনরুদ্ধারের এক স্বতঃস্ফূর্ত বিদ্রোহ। যারা তখন রক্ত-ঘাম আর চোখের জল নিয়ে রাজপথে দাঁড়িয়েছিলেন, তাদের প্রত্যয়ই আজ আমাদের অনুপ্রেরণা। এই স্মরণ শুধু অতীত দেখার আয়োজন নয়—এটি ভবিষ্যৎ নির্মাণের শপথ।”
অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক, এবি পার্টির স্থানীয় প্রতিনিধি মুসাব ইবনে শাফায়েত বলেন,
“গণতন্ত্র চর্চার পরিবেশ ও ভাষা রুদ্ধ করে রাখার অপচেষ্টা যতই চলুক, ইতিহাস থেমে থাকে না। এই মিলনমেলা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মানুষের অধিকার ও স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন অব্যাহত থাকতেই হবে।”
আলোচনায় বক্তারা বলেন, জুলাই আন্দোলনের শিক্ষা হলো—দমন নয়, প্রতিবাদই এগিয়ে দেয় সমাজকে। তারা এ-ও বলেন যে, নতুন প্রজন্মকে এই ইতিহাস জানাতে না পারলে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব সংকটে পড়বে।
আমার বাংলাদেশ পার্টি(এবি পার্টি)র মুসাব ইবনে শাফায়েতের সভাপতিত্বে
অন্যান্যের মধ্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন - বিশেষ অতিথি হিসেবে সাবেক সংসদ সদস্য মকবুল হোসেন, আলমডাঙ্গা নাগরিক উন্নয়ন কমিটির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, সাংবাদিক রহমান মুকুল, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি জহুরুল ইসলাম, প্রভাষক আমিরুল ইসলাম জয়, বণিক সমিতির সাধারন সম্পাদক খন্দকার আব্দুল্লাহ আল মামুন, এরশাদপুর একাডেমির প্রধান শিক্ষক ফজলুল হক শামীম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাজী গোলাম রহমান সিঞ্জুল, নারী উদ্যোক্তা কামনা,
বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষ কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা রাকিব মাহমুদের উপস্থাপনায় আরও বক্তব্য রাখেন - ওয়ারিয়াস অফ জুলাইর আহবায়ক মাহফুজ হোসেন, সেক্রেটারি সলেমিন হোসেন, জুলাই আন্দোলনের আহত আব্দুল রাজ্জাক, এবিপার্টির সাদি মাহমুদ, সাম্য, আরাফাত, আতিকুজ্জামান মেরাজ, পার্থিব হাসান, সাব্বির রহমান প্রমুখ।
উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, শিক্ষক এবং একঝাঁক উদ্যমী তরুণ।
অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল বক্তৃতা, স্মৃতিচারণ, অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি ও মতবিনিময়।
অনেকেই স্মরণ করেন, সেই দিন কিভাবে নির্ভীক তরুণেরা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে রাজপথে নেমেছিলেন; কীভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন পরিবর্তনের দাবিতে।
অনুষ্ঠানটি শুধু একটি স্মরণানুষ্ঠান নয়, বরং তা হয়ে উঠেছিল এক ধরনের আত্মপাঠের সন্ধ্যা—যেখানে অতীত এবং বর্তমান মুখোমুখি হয়ে নতুন পথের সন্ধান করেছিল।
এই আয়োজন শুধু এবি পার্টির রাজনৈতিক অনুষ্ঠান নয়, বরং তা গণতান্ত্রিক চেতনা, সাহস ও ঐতিহাসিক দায়িত্ববোধের প্রকাশ ছিল।