চুয়াডাঙ্গা কৃষি ব্যাংকের এজিএম শামীম উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলের আঞ্চলিক প্রধান (এজিএম) মোঃ শামীম উদ্দিনের বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানি, কমিশন বাণিজ্যসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক রাজশাহী অফিসের নির্বাহী পরিচালকের বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন আলমডাঙ্গা শাখার একাধিক গ্রাহক ও হাটবোয়ালিয়া বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী।
অভিযোগকারীরা জানান, আলমডাঙ্গা শাখায় ব্যবস্থাপক থাকাকালে (২০১৬-২০২০) শামীম উদ্দিন ঋণ বিতরণে কমিশন দাবি করতেন এবং একপ্রকার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে শাখায় প্রভাব বিস্তার করেন। এই সিন্ডিকেটে তার সহযোগী ছিলেন হাটবোয়ালিয়ার আলোচিত ব্যক্তি রকি বিশ্বাস, যিনি ঋণ খেলাপি, জুয়াচোর ও প্রতারক হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, রকি বিশ্বাস হিন্দু সম্প্রদায়ের হওয়ায় ভারতের নাগরিকত্বও গ্রহণ করেছেন।
হাটবোয়ালিয়ার ব্যবসায়ী রমজান আলী বলেন, “শামীম উদ্দিন রকির মাধ্যমে শাখা নিয়ন্ত্রণ করতেন। রকি ছাড়া ব্যাংকের কোনো কাজে যাওয়া যেত না। ঋণ নিতে হলে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দিতে হতো।”
এ বিষয়ে অভিযোগকারী আরেক গ্রাহক সাইফুল হুদা বলেন, “শামীম-রকি চক্র মিলে আলমডাঙ্গা শাখায় দুর্বৃত্তায়নের রাজত্ব কায়েম করেছিল। শামিম-রকি চক্রকে তাদের চাহিদা অনুযায়ী পার্সেন্টেজ না দিলে ঋণ মিলতো না। আমি নিজেও এর ভুক্তভোগী। একজন সরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা রকির মত অশিক্ষিত নিম্নশ্রেণির দালালের হাতের ক্রীড়ানক হতে পারে, শামিমকে না দেখলে জানতেই পারতাম না।”
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে এজিএম মোঃ শামীম উদ্দিন বলেন, “অভিযোগ ভিত্তিহীন। রকির সাথে কার কী লেনদেন হয়েছে, আমি জানি না। কেউ আমাকে জানিয়ে অভিযোগ করেনি।”
তিনি আরও বলেন, “রকি আওয়ামী লীগের লোক। এখন হয়তো বিএনপির কেউ তার কাছ থেকে কিছু চেয়ে না পেয়ে এই অভিযোগ করছে।”
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আমি তো ২০২০ সালেই আলমডাঙ্গা ছেড়েছি, এখন এত বছর পর হঠাৎ করে এসব অভিযোগ কেন?”
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট দপ্তর তদন্ত শুরু করবে কি না, তা এখনও জানা যায়নি।