চুয়াডাঙ্গা–আলমডাঙ্গায় বিএনপিতে নবজাগরণ: শামসুজ্জামান দুদুর গণসংযোগে জনতার ঢল
চুয়াডাঙ্গা–আলমডাঙ্গার বিএনপির রাজনীতিতে যেন বহুদিনের অচলায়তন ভাঙল আজ শনিবার বিকেলে।
কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসভাপতি শামসুজ্জামান দুদু যখন আলমডাঙ্গার পথে পথে লিফলেট বিলি করলেন,
তখন পুরো শহরে যেন এক অন্যরকম সাড়া পড়ল। মানুষের চোখে দেখা গেল উচ্ছ্বাস, মুখে ফিরল হারানো শ্লোগান, আর সংগঠনে জেগে উঠল নবজাগরণের সুর। চুয়াডাঙ্গা ও আলমডাঙ্গা এলাকায় দলীয় নেতৃত্বে অনৈক্য, চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগে বিএনপি জনগণবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। অন্যদিকে, প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত মাঠপর্যায়ের গণসংযোগে ক্রমেই প্রভাব বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ পায়। এই প্রেক্ষাপটে শামসুজ্জামান দুদুর মাঠে নামা যেন এক নিস্তরঙ্গ হ্রদের বুকে ঢেউ তোলার মতো ঘটনা।

শনিবারের গণসংযোগকে ঘিরে এলাকায় তৈরি হয় ব্যাপক চাঞ্চল্য। আলমডাঙ্গা শহরের বিভিন্ন মহল্লায় ও মোড়ে মোড়ে মানুষের ভিড় জমে যায়। কয়েক হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ দুদুর সঙ্গে যোগ দেন। উত্তাল জনতাকে পাশে নিয়েই তিনি লিফলেট বিলি করেন, মানুষের হাতে তুলে দেন দলের বার্তা, আর বলেন— “রাজনীতি মানে মানুষের পাশে থাকা; জনগণই বিএনপির প্রাণ।” দুদুর সফরে যেন দলের ভেতর জমে থাকা অচলাবস্থা মুহুর্তে গলে যেতে শুরু করেছে। এক কর্মীর ভাষায়, “দুদু ভাই আসার পর মনে হচ্ছে বিএনপি আবার বেঁচে উঠছে।”
<> দুদু-টিলু যুগলবন্দীর নতুন রসায়ন: শামসুজ্জামান দুদু শুধু কেন্দ্রীয় নেতা নন— তিনি এমন এক মুখ, যাকে মানুষ ‘ভদ্র রাজনীতির প্রতীক’ বলে চেনেন। তার সঙ্গে আলমডাঙ্গার রাজনীতির অভিজ্ঞ ও জনপ্রিয় নেতা শহিদুল কাওনাইন টিলু-র ঐক্য তৈরি করেছে এক নতুন রাজনীতি-রসায়ন। টিলুর জনসম্পৃক্ততা ও কর্মীবান্ধব মনোভাব এলাকায় তাকে এনে দিয়েছে অগাধ জনপ্রিয়তা। তিনি স্থানীয় রাজনীতির বরপুত্র, সার্বজনীন উস্তাদ। স্থানীয় রাজনীতিতে হ্যামিলিয়নের বাঁশিওয়ালা। দুদু ও টিলুর এই যুগলবন্দী যেন একটি দীর্ঘসময়ের নিঃশ্বাসবদ্ধ রাজনীতিতে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে। শনিবারের গণসংযোগে দুজনকে পাশাপাশি গণসংযোগ নতুন উচ্ছ্বাসের জন্ম দেয়। মানুষ ভিড় জমায় শুধু কথা শোনার জন্য নয়, দেখতে— বিএনপি আবার ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে কিনা। আর তারা দেখেছে— দলটি সত্যিই জেগে উঠছে।
দুদুর সফরে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ সাইফুল ইসলাম ও আসিরুল ইসলাম সেলিম। দুজনই দলের কর্মীবান্ধব ও দলের নীরব শ্রমিক, দুর্দিনের পরীক্ষিত কান্ডারী। যাদের উপস্থিতি স্থানীয় নেতাকর্মীদের মনোবল আরও বাড়িয়ে দেয়। এ যেনআশার নতুন মানচিত্র। চুয়াডাঙ্গা–আলমডাঙ্গার মানুষ এ জনসংযোগ দেখে নতুন করে ভাবছে বিএনপিকে নিয়ে। দুদুর ক্লিন ইমেজ, পরিমিত ভাষা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা তাদের মনে জাগিয়েছে এক অদ্ভুত আস্থা।
গণসংযোগকালে দুদু বিএনপির রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফার প্রচার ও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের ধানের শিষের পক্ষে সমর্থন চান। তিনি বিএনপির রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা সম্বলিত লিফলেটও বিতরণ করেন।
স্থানীয়দের অনেককে মন্তব্য করতে শোনা গেছে, “দুদু ভাই আসলে মানুষ বিশ্বাস পায়; এই আসন থেকে তিনিই হবেন আমাদের মন্ত্রী।”স্থানীয় রাজনৈতিক সচেতন মহলের অনেকে বলছেন, দুদুর মাঠে নামা শুধু দলের পুনরুজ্জীবন নয়, এটি এক প্রকার মানসিক মুক্তি—যেখানে নেতিবাচক রাজনীতি ধুয়ে যাচ্ছে আশার বৃষ্টিতে।
চৈত্রের দাবদাহ শেষে যেমন আষাঢ়ের বৃষ্টিতে মাঠে গজায় নতুন সবুজ,তেমনি দুদুর সংস্পর্শে বিএনপিও যেন খুঁজে পেয়েছে নতুন প্রাণ। তার প্রমাণ মেলে এ গণসংযোগে। নেতাকর্মীরা জানান, "দুদু ভাই এলেই দল জাগে, দল জাগলেই মানুষ ফেরে স্বগৃহে।” এ গণসংযোগ প্রমাণ করেছে যে, রাজনীতি কেবল ক্ষমতার খেলা নয়—এটি মানুষের মনে আশার প্রদীপ জ্বালানোর শিল্প। যেখানে নেতা মানে দখল নয়, জুলুম নয়, দান; প্রভাব নয়, প্রেরণা। চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গার মানুষ সেই প্রেরণাটিই খুঁজে পেয়েছে যেন শামসুজ্জামান দুদুর মাঝে।
অন্যান্যের মধ্যে গণসংযোগকালে উপস্থিত ছিলেন - গণসংযোগকালে আরও উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ওয়াহেদুজ্জামান বুলা, আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শহিদুল কাউনাইন টিলু, চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি শহিদুল ইসলাম রতন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ সাইফুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাবেক চেয়ারম্যান আসিরুল ইসলাম সেলিম, কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সাবেক সাবেক সদস্য আবু জাফর, , জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শামীম রেজা ডালিম, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মইনুল হোসেন, বিএনপি নেতা রবিউল মল্লিক, আক্তারুজ্জামান আক্তার, ওয়াজিউর রহমান মানিক, জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আশরাফ বিশ্বাস মিল্টু, সহ-সভাপতি আরিফুজ্জামান পিন্টু, সহ-সভাপতি মাগরিবুর রহমান, সহ-সাধারণ সম্পাদক পিনু মুন্সী, উপজেলা কৃষকদলের সাবেক সভাপতি বোরহান উদ্দিন, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আনিসুর রহমান, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল করিম, সাবেক কাউন্সিলর নাসির উদ্দিন, সাবেক যুবদল নেতা ফারুক মল্লিক, সদর উপজেলা যুবদলের আহবায়ক এম.এইচ মোস্তফা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মকলেচুজ্জামান মকলেচ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক এম.এ তালহা, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুনজুরুল জাহিদ, সহ-সাংঠনিক সম্পাদক তৌফাকুর রিংকু, প্রকাশনা সম্পাদক জুয়েল রানা, বিজ্ঞান ও তথ্য বিষয়ক সম্পাদক ওয়াহেদ আলামিন, সহ-কোষাধ্যক্ষ সাকিল আহমেদ শুভ, বন ও পরিবেশক বিষয়ক সম্পাদক আবু নোমান পাপন, সহ-দপ্তর সম্পাদক সোহেল রান, পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, শ্রুম বিষয়ক সম্পাদক ওয়াসিম আহমেদ, চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি শেখ শাহাবাজ সুজন, সহ-সভাপতি সোহেল, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আবাবিল হোসেন সাদ্দাম ও আশরাফুল আলম দোদুল, সাংগঠনিক সম্পাদক আহসান হাবীব মামুন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিন, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক হিরক আহমেদ, সদর ছাত্রদলের আহবায়ক আনিসুর রহমান আনিস, যুগ্ম আহবায়ক আল বেলাল, সদর থানা ছাত্রদল সদস্য খালেকুর রজামান বাঁধন ও রিমন আহামেদ, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ ছাত্রদল আহবায়ক ফয়সাল ইকবাল, যুগ্ম আহবায়ক রুবেল, ছাত্রদল নেতা শাহিন, শ্রমিকদল নেতা জয়নাল, সদর উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি আনিচ, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক টোটন খান, জাতীয়তাবাদী গণতন্ত্র পরিষদের সভাপতি রানা হামিদ, সিনিয়র সভাপতি আরিফুল ইসলাম রনি, সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন, হিন্দু বৌদ্ধ কল্যাণ ফ্রন্টের আহবায়ক অপূর্ব সাহা, যুবদল নেতা সুজন মন্ডল, যুবদল নেতা ফজলুর রহমান, রাজু আহমেদ, সোহানুর রহমান সোহান, বশির আহমেদ শিবলুসহ উপজেলা, পৌর, ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, কৃষকদলসহ অঙ্গসংগঠনের হাজারও নেতাকর্মি।