চিকিৎসার উদ্দেশ্যে আলমডাঙ্গার জনতার ওস্তাদ টিলু আবার পাড়ি দিলেন চেন্নাই
ভোরের প্রথম আলোয় আলমডাঙ্গার হাফিজমোড়, হাজির চাতালমোড় ও এ-টিম মাঠের আশপাশের রাস্তাঘাট সবত্র নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। রাজনীতির হ্যামিলিয়নের বাঁশিওয়ালা, আলমডাঙ্গার হৃদয়ের মানুষ শহিদুল কাউনাইন টিলু উস্তাদ গতকাল ২০ অক্টোবর সকালে চিকিৎসার জন্য ভারতে রওনা হলেন।
যে মানুষটির ফেরাকে কেন্দ্র করে একদিন আলমডাঙ্গা রেলস্টেশন রথের মেলায় পরিণত হয়েছিল, আজ তাঁর সাময়িক বিদায়ে জনপদ যেন আবারও স্তব্ধ হয়ে পড়ল।
বাড়ির উঠান, চত্বর, সংলগ্ন রাস্তাঘাট প্রতিটি কোণে নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী, প্রতিবেশী, ছাত্র-যুবক৷ নেতাকর্মী সবাই ছুটে এসেছেন প্রিয় নেতার মুখখানি দেখার জন্য।
কারো চোখে জল, কেউ শুধু চুপচাপ তাকিয়ে আছে যেন সময় থমকে গেছে, যেন হৃদয়গুলো একসাথে কেঁপে উঠেছে। দীর্ঘ এক মাসের চিকিৎসা সফর।
গাড়ির দরজায় হাত নেড়ে উস্তাদ সবাইকে বিদায় জানালেন। মানুষদের কণ্ঠে উচ্চারিত হলো
“টিলু ভাই, তাড়াতাড়ি ফিরে আসেন!আপনি আমাদের ওস্তাদ! জনতার নেতা!
যাত্রাকালে তিনি সবাইকে উদ্দেশ করে বলেন,“তোমাদের দোয়া নিয়েই যাচ্ছি। আল্লাহ ভরসা সুস্থ হয়ে আবার ফিরব তোমাদের মাঝে। তোমারাই আমার বড় স্বজন, আত্মার আত্মীয়। তোমাদের ভালোবাসা আমার শক্তি। আমার জন্য দু'আ করবে।
গাড়ি ধীরে ধীরে এগোতে থাকল। প্রতিটি মোড়, প্রতিটি রাস্তায় পিছু পিছু বয়ে গেল দোয়া, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার ঢেউ।
শহরের হাজি মোড়, তহবাজারের চায়ের দোকান, কর্মক্লান্ত ব্যসায়ী, প্রতিটি মানুষ যেন জানতে চাচ্ছে ওস্তাদ কোথায়? যেখানে নেই সেখানে তাঁর অনুপস্থিতিতেও ভালোবাসা আরও দৃঢ় হয়ে উঠেছে।
ওস্তাদের যাত্রাকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতা, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, কৃষকদল, সাধারণ মানুষ। যাত্রা মুহূর্ত যেন হৃদয়গ্রাহী কবিতার মতো উস্তাদের মানবিকতা, সরলতা ও সাহস ফুটে উঠছে। উস্তাদ যিনি সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, রাজনীতির আলোয় নিজেকে কখনো প্রদর্শন করেননি, আজও তাঁর সাময়িক প্রস্থান জনপদের হৃদয়ে এক নতুন অনুরণন সৃষ্টি করল।
“মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক, আমি তোমাদেরই লোক।”
অনুপস্থিতিতেও তিনি জীবন্তÍ ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও প্রেরণার চিহ্ন যেন। এই সাময়িক প্রস্থান জনপদের হৃদয়ে আশা, শ্রদ্ধা ও আনুগত্যের ঢেউ আরও শক্ত করে। পথের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা যুবদল নেতা মাগরিবুর রহমান বলছেন“ওস্তাদ শুধু নেতা নয়, তিনি এক প্রজন্মের প্রেরণা। এই সাময়িক বিদায় প্রমাণ করল, ক্ষমতার চেয়ে মানুষের ভালোবাসাই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় ভরসা।
“শেখ সাইফুল ইসলাম (সাবেক সাধারণ সম্পাদক) : “টিলু ভাই শুধু নেতা নন, তিনি আমাদের প্রেরণার উৎস। তার সুস্থতা ও নিরাপদ ফেরার জন্য আমরা সবাই দোয়া করছি। আলমডাঙ্গার জনতা তাঁর অপেক্ষায় আছে, আর আমরা নিশ্চিত, দ্রুত সুস্থ হয়ে তিনি আবার ফিরে আসবেন। তার অনুপস্থিতিও আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ রাখছে।”
২) আসিরুল ইসলাম সেলিম (সাবেক সাধারণ সম্পাদক) : “টিলু উস্তাদ জনতার নেতা, যিনি সবসময় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আজ চিকিৎসার জন্য তার সাময়িক প্রস্থান আমাদের জন্য এক পরীক্ষার মুহূর্ত। আমরা তার সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছি এবং জানি, ভালোবাসা ও দোয়া তাকে দ্রুত ফিরিয়ে আনবে জনতার মাঝে।”
উস্তাদের এই সাময়িক প্রস্থান আবারও আলমডাঙ্গার হৃদয়ে লিখে গেল এক অনবদ্য অধ্যায়Í ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, মানবিকতা ও রাজনৈতিক বিশ্বাসের অমোচনীয় স্মারক। এই সাময়িক প্রস্থান শুধুই চিকিৎসার জন্য। কিন্তু আলমডাঙ্গার মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা তা আরও দীর্ঘ ও শক্তিশালী করে তুলল।
টিলু উস্তাদ যা করেছেন, তার প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও মানবিকতার প্রতি আনুগত্যÍ এই সব মিলিয়ে আজ জনপদে রচিত হলো এক অনন্য অধ্যায়।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
আলমডাঙ্গায় চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট রাসেলের পক্ষে নির্বাচনী মিছিল
৯ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় আমদানি নির্ভরতা কমাতে তেলজাতীয় ফসল আবাদ বাড়ানোর তাগিদ
২০ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় গাঁজা ও ট্যাপেন্টাডলসহ গ্রেফতার ২: ১জন পলাতক
১ দিন আগে