আলমডাঙ্গা শহরে চলছে ধারাবাহিক অভিযান।। দীর্ঘ ঘুম ভেঙে শহরে ফিরল শৃঙ্খলার হাওয়া
দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা বিরাজ করছিল আলমডাঙ্গা পৌরসভার কর্মকাণ্ডের। ফুটপাতজুড়ে দখলদারির থাবা, অবৈধ ভবন নির্মাণ আর নাগরিক ভোগান্তি যেন হয়ে উঠেছিল শহরের নিত্যদিনের দৃশ্য। কিন্তু হঠাৎ করেই সেই দৃশ্যপটে এসেছে বদলের ঝলক—যেন দীর্ঘ ঘুম ভেঙে নতুন ভোরে জেগে উঠেছে পৌরপ্রশাসন।
আজ মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) যথারীতি কালিদাসপুর ও আনন্দধাম ব্রিজ এলাকায় দেখা গেল ভিন্ন এক দৃশ্য। পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মেহেদী ইসলাম নিজে দাঁড়িয়ে আছেন অভিযানের নেতৃত্বে। মুহূর্তেই ছুটোছুটি শুরু হলো ভ্রাম্যমাণ দোকানদারদের মধ্যে। কেউ তড়িঘড়ি করে মাল সরালেন, কারও মালামাল জব্দ হলো প্রশাসনের হাতে। তবু কেবল কঠোরতা নয়—ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের প্রতি মানবিক আচরণও দেখালেন তিনি। ব্যবসার বিকল্প জায়গা দেখিয়ে দিলেন, যেন শহরের শৃঙ্খলার সাথে বাঁচে মানুষের জীবিকা।
এর আগে কয়েকদিন ধরেই শহরের প্রাণকেন্দ্র হাইরোডে মাইকিং চলছিল নিয়মিত—“ফুটপাত দখলমুক্ত করুন।” কিন্তু মাইকিং প্রচারণা আমলে নেয়নি দখলদার ব্যবসায়ীরা। এমতাবস্থায় শুরু হয়েছে একের পর এক অভিযান। পথচারীরা ফিরে পাচ্ছেন হাঁটার রাস্তা, শহরের শরীর থেকে ধীরে ধীরে ঝরছে অব্যবস্থাপনার ধুলোবালি। একই সাথে পৌর আইন ও বিল্ডিং কোড ভেঙে নির্মাণ করা ভবনের বিরুদ্ধেও শুরু হয়েছে কঠোর ব্যবস্থা।
এই দৃশ্য শহরবাসীর কাছে নতুন। তাদের কণ্ঠে স্বস্তি।
পৌর প্রশাসক শেখ মেহেদী ইসলামও জানিয়ে দিলেন তাঁর অবস্থান— “এ অভিযান কোনো প্রদর্শন নয়। শহরকে সুন্দর, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও বাসযোগ্য রাখতে এটি চলবে নিয়মিত। প্রভাব বা ক্ষমতা নয়, কেবল আইনই এখানে কার্যকর হবে।”
স্থবিরতার আবরণ ভেদ করে আলমডাঙ্গা পৌরপ্রশাসনের নতুন এই জাগরণ এখন আলোচনার কেন্দ্রে। নাগরিকরা মনে করছেন—এটি হয়তো নতুন ভোরের সূচনা। প্রশ্ন শুধু একটাই—এই জাগরণ কি তবে চলমান থাকবে, নাকি আবার ফিরে আসবে পুরনো অচলাবস্থা?
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
আলমডাঙ্গায় চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট রাসেলের পক্ষে নির্বাচনী মিছিল
১০ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় আমদানি নির্ভরতা কমাতে তেলজাতীয় ফসল আবাদ বাড়ানোর তাগিদ
২২ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় গাঁজা ও ট্যাপেন্টাডলসহ গ্রেফতার ২: ১জন পলাতক
১ দিন আগে