আলমডাঙ্গার কেশবপুরে খালের দখল নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আহত ৮ জন
আলমডাঙ্গা উপজেলার কেশবপুর গ্রামে খাল দখলকে কেন্দ্র করে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দু’পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী এই সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আহতদের উদ্ধার করে আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
স্থানীয়সূত্রে জানা যায়, কেশবপুর গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত একটি পরিত্যক্ত খাল ও বিলের দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের বিরোধ চলে আসছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মুনসুর আলী চেঙ্গিস প্রায় তিন বছর আগে ওই বিলটি ১০ বছরের জন্য লিজ নিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন বলে তার পক্ষের দাবি। অভিযোগ রয়েছে, জমির মালিকদের পূর্ণ পাওনা না দিয়েই ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় জোরপূর্বক কাগজে সই করিয়ে বিল দখল করে রাখা হয়।
গত বছরের আগস্টে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বিএনপি-সমর্থিত এক পক্ষ বিলটির মালিকানা দাবি করে এবং মুনসুর আলীর লিজ চুক্তি অগ্রাহ্য করার ঘোষণা দেয়। এর পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা চলছিল। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হলেও সমাধান হয়নি।
কয়েক মাস আগে একবার সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও মঙ্গলবার রাতে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ বাঁধে। অভিযোগ উঠেছে, ওই রাতে মুনসুর আলী চেঙ্গিস ও তাঁর সহযোগীরা আব্দুস সালাম গ্রুপের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায়। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষে আহত হয়েছেন— মজিবুল ইসলাম, কুরবান আলী, শাহাবুল, ইয়ামিন আলী ও আশরাফুল ইসলাম। অপরপক্ষের আহতরা হলেন সানিম, জুবায়ের, মিরাজুলসহ আরও কয়েকজন।
এ বিষয়ে আব্দুস সালাম অভিযোগ করে বলেন, “কৃষকলীগ নেতা মুনসুর আলী, চেঙ্গিস ও তাঁর লোকজন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে জোরপূর্বক খালটি দখল করে অবৈধভাবে মাছ চাষ করে আসছে। আমাদের জমির খাজনাও দেয় না, উল্টো আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।”
অপরপক্ষে, মঞ্জিল দাবি করেন, "লিজ নিয়েই তারা মাছ চাষ করে আসছেন। জোর করে নয়। কিন্তু পটপরিবর্তনের পর এখন প্রতিপক্ষরা লিজ নেওয়া খাল বিল দখল করে নিতে চাচ্ছে।"
সংঘর্ষের পর থেকে পুরো কেশবপুর গ্রামে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়রা জানান, “আগেও মাছের বিষ দেওয়া বা জমি নষ্ট করার মতো ছোটখাটো ঘটনা ঘটেছিল, কিন্তু এবার তা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে।”
প্রতিপক্ষের আঘাতে সালাম পক্ষের মজিবুল ও কোরবান আলীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদেরকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
লোভ, জেদ আর অহংকারের আগুনে পুড়ছে একই গ্রামের দুই পক্ষের অর্ধ শতাধিক পরিবার। পরস্পরের প্রতি ঘৃণা আর প্রতিশোধের এই দহন কেশবপুরের শান্ত পরিবেশকে আজ অশান্ত করে তুলেছে।
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুদুর রহমান পিপিএম বলেন, “সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে অবস্থা শান্ত রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?
সম্পর্কিত সংবাদ
আলমডাঙ্গায় চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট রাসেলের পক্ষে নির্বাচনী মিছিল
৯ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় আমদানি নির্ভরতা কমাতে তেলজাতীয় ফসল আবাদ বাড়ানোর তাগিদ
২০ ঘন্টা আগে
আলমডাঙ্গায় গাঁজা ও ট্যাপেন্টাডলসহ গ্রেফতার ২: ১জন পলাতক
১ দিন আগে