আলমডাঙ্গায় ক্লিনিকে অপারেশনের পর নববধূর মৃত্যু, স্বামী অপহরণ মামলায় গ্রেফতার
আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে অপারেশনের পর এক নববধূর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার রাতে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান।
মারা যাওয়া নববধূ নাদিয়া (১৭) নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়া এলাকার সামসুদ্দিনের মেয়ে। দেড় মাস আগে মোবাইল ফোনে পরিচয়ের সূত্র ধরে আলমডাঙ্গার মাজু গ্রামের লাল্টুর ছেলে শিহাব (২২)-এর সঙ্গে বিয়ে করেন তিনি। শিহাব পেশায় টাইলস শ্রমিক।
পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে নাদিয়ার পেটে তীব্র ব্যথা অনুভুত হয়। এরপরই তাকে আলমডাঙ্গার নূর মোহাম্মদ ক্লিনিকে নেওয়া হয়। পরীক্ষায় অ্যাপেন্ডিকসাইড শনাক্ত করা হয়। রাত ৮ টার দিকে নাদিয়াকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। অপারেশন করে ডাক্তার চলে যান। এরপর ক্লিনিকে নাদিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে দ্রুত কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর নাদিয়ার মৃত্যু হয়।
ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ জানান, অপারেশনের সময় রোগী আকস্মিকভাবে স্ট্রোক করেন। তাকে দ্রুত কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হলে সেখানে মারা যান।
ঘটনার পর নিহতের পরিবার ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলেছে।
শিহাবের পিতা লাল্টু রহমান জানান, অপারেশন করে ডাক্তার চলে যাওয়ার পর রোগী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তারপর তড়িঘড়ি করে কুষ্টিয়ায় রেফার করে ক্লিনিক মালিক। তিনি দাবি তুলে বলেন, ভুল চিকিৎসায় নাদিয়া মারা গেছেন।
এদিকে, প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে বিয়ে করায় নাদিয়ার বাবা সামসুদ্দিন কিছুদিন আগে ঢাকার দারুস সালাম থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে শিহাবের বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা করেছিলেন। মেয়ের মৃত্যুর পর ওই মামলায় শনিবার দুপুরে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ শিহাবকে গ্রেপ্তার করে।
আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান পিপিএম বলেন, “ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণে মরদেহ ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি অপহরণ মামলাতেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।