আগামীর নির্বাচন সঠিক সময় না হলে দেশের ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে যাবে - শামসুজ্জামান দুদু
রহমান মুকুল / শরিফুল ইসলাম রোকন: লাগাতার ভারি বর্ষণ। আকাশ যেন নিরবচ্ছিন্ন জলধারায় ভিজিয়ে দিচ্ছিল গ্রাম ও শহর। কিন্তু তবুও মোমিনপুর, আলমডাঙ্গার খাসকররা ও জামজামির মাঠে ভিজে ভিজে দাঁড়িয়ে ছিল শত শত নেতাকর্মী। উদ্দেশ্য একটাই—প্রিয় নেতা, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান জাতীয় নেতা শামসুজ্জামান দুদুকে এক ঝলক দেখা, তাঁর পাশে দাঁড়ানো, তাঁর কণ্ঠ থেকে দিকনির্দেশনা শোনা।
প্রচন্ড বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে কর্মীরা দূরদূরান্ত থেকে ছুটে এসেছিলেন। কারও কাঁধে ছাতা, কারও হাতে প্লাস্টিকের কভার; কিন্তু বেশিরভাগই ভিজে ভিজেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। কাঁদামাটি মাড়িয়ে, ভিজে কাপড়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষা—তবুও তাদের মুখে ছিল উচ্ছ্বাসের আলো। এ দৃশ্য গতকাল ১৬ সেপ্টেম্বরের। দুপুর পর প্রথমে মোমিনপুর ও পরে আলমডাঙ্গার খাসকররা ও জামজামি বাজারের।
মোমিনপুর: প্রথমে মোমিনপুরে মতবিনিময় করেন।
শামসুজ্জামান দুদুর মোমিনপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত পথসভাগুলোতে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো ছিল। বৃষ্টির কারণে প্রোগ্রাম কিছুটা বিঘ্নিত হলেও জনতার উদ্দীপনা ছিল অতুলনীয়।
মোমিনপুরে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, "আগামী নির্বাচনে সঠিক সময়ে হতে হবে। সঠিক সময়ে না হলে দেশের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে।"
তিনি আরও বলেন, "আওয়ামী লীগ গত ১৬ বছর ধরে বিএনপি ও দলের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছে এবং এখনো নানাভাবে ষড়যন্ত্র করছে। দেশি-বিদেশি এসব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।"
দুদু আরও বলেন, "আগামী নির্বাচনে কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের দল বিএনপিকে জয়ী করতে হবে। ধানের শীষকে বিজয়ী করতে হবে, তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী বানাতে হবে—এর কোনো বিকল্প নেই।"
ভাষণের পর উপস্থিত নেতাকর্মীরা উল্লাসে ফেটে পড়েন। তারা শ্লোগানে শ্লোগানে মোমিনপুর ইউনিয়নকে বিএনপির দুর্গে পরিণত করার অঙ্গীকার করেন।
এরপর খাসকররা ও জামজামিতে যান তিনি।
শামসুজ্জামান দুদু বৃষ্টিবিঘ্নিত দিনে সব বাধা উপেক্ষা করে খাসকররা পোঁছান। সেখানে জনতার ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। উপস্থিত নেতাকর্মীরা ভিজে ভিজে দাঁড়িয়ে দুদুর বক্তব্য শোনেন, উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন। শেষে যায় জামজামিতে।
দুদু খাসকররা ও জামজামিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, "আপনাদের ভালোবাসাই আমাদের শক্তি। আমরা একসাথে থাকলে কোনো দুর্যোগই আমাদের থামাতে পারবে না। দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষা করতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।"
এ সময় প্রত্যেক নেতাকর্মীর বাক্যে ছিল সংকল্প, দৃষ্টিতে ছিল দৃঢ়তা। বৃষ্টি যেন তাদের উদ্দীপনাকে প্রশান্তি না, বরং আরও তেজে উজ্জীবিত করেছে। হাততালি, স্লোগান আর আনন্দে পুরো মাঠ যেন এক হয়ে উঠে।
নেতাকর্মীদের অনুভূতি ছিল দৃশ্যমান।
স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ সহযোগী সংগঠনের নেতারা জানান, দুদুর সফর তাঁদের সংগঠনকে নতুন শক্তি দিয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও যে বিপুল সমাগম ঘটেছে, সেটিই প্রমাণ করে জনগণ আজও তাঁর নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রাখে।
দিনশেষে, ভিজে ভিজে হলেও সভা ও গণসংযোগ সফলভাবে সম্পন্ন হয়। নেতাকর্মীরা বলেন, "আজকের দিনটা আমাদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বৃষ্টিতে কষ্ট হলেও আমরা আনন্দে ভরে গেছি।"
আলমডাঙ্গার এই সফর শেষ পর্যন্ত শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিই নয়, বরং নেতার সঙ্গে কর্মীদের অটুট ভালোবাসা, আত্মত্যাগ ও গণতন্ত্রের প্রতি অদম্য ভক্তির এক অনন্য প্রতিচ্ছবি হয়ে রইলো।